kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য রেশনিং চালুর দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ এপ্রিল, ২০২০ ১৭:২৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য রেশনিং চালুর দাবি

করোনাভাইরাসের কারণে সংকটকালীন এই মুহুর্তে সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম বাজেট বরাদ্দ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছে খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ। খাদ্য অধিকার বাংলাদেশের চেয়ারম্যান কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ এবং সাধারণ সম্পাদক মহসিন অলী স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়,‌‌‌ এই প্রেক্ষাপটে দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাসকারী জনগণ, দিনমজুর এবং অপ্রতিষ্ঠানিক কাজে নিয়োজিত জনসাধারণের মৌলিক চাহিলা পূরণে বিদ্যমান সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতা বৃদ্ধি এবং শিল্প ও সেবা খাত, খুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাত, রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলসহ উৎপাদন
খাতে স্বল্প সুদে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে ৭২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার প্রণোদনা যা ঘোষণার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ। এ ঘোষণারর পর মাঠ পর্যায়ে খাদ্য সহয়তা প্রদান ও দশ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি হহ্ছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় সকল ক্ষেত্রে এর পরিমাণ খুবই কম। উপজেলা পর্যায়ে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেই। অপরদিকে দেশব্যাপী স্বাভাবিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবসাও ভেঙে পড়েছে। ফলে সাধারণ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সকল শ্রেণির মানুষ। এই প্রেক্ষিতে সবচেয়ে নাজুক অবস্থানে রয়েছে বয়স্ক মানুষ, নারী ও শিশুরা।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বিভিন্ন সেক্টরের জন্য প্রণোদনা হিসেবে নির্ধারিত বাজেট বরাদ্দ হলেও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় 'সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের' বাজেট এখানে বরাদ্দ করা হয়নি এবং খাদ্যের মূল যোগানদার কৃষক ও কৃষিখাতের জন্য প্রণোদনার কোনো ঘোষণা এখনো আসেনি। সরকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২১.৮% অর্থাৎ ৩ কোট ৮ লক্ষ মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে বসবাস করে, যারা মূলত দিন আনা দিন খাওয়া মানুষ, দেশ করোনার প্রকোপ বৃদ্ধিতে এসব মানুষের জীবন জীবিকা এখন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন।

এ সময় খাদ্য অধিকার বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পাঁচটি দাবি জানানো হয়। এগুলো হলো; দেশের দুস্থ, অতি দরিদ্র থেকে দরিদ্র, শহরের বস্তিবাসী এবং কর্ম ও উপার্জনবীন ৮০ লক্ষ পরিবারের জন্য আগামী জুলাই ২০২০ পর্যন্ত খাদ্য সামগ্রীর যোগান নিশ্চিত করা, অবিলম্বে সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের বাজেট বরাদ্দ করা এবং দশ টাকায় চাল বিক্রিসহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত সকল কার্যক্রমের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা, রাজধানীর পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে করোনা পরীক্ষা ও চিকিৎসা এবং সর্বস্তরে সাধারণ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা, দেশের প্রান্তিক ও অতিদরিদ্র জনগাষ্ঠীর ৪০ লক্ষ পরিবারের খাদ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করার জন্য দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে রেশনিং ব্যবস্থা চালুর জন্য এখনি প্রয়োজনীয় পরিকল্পণা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা, আসন্ন বোরো ধান সংগ্রহ এবং খাদ্যসহ কৃষির সকল ক্ষেত্রে উৎপাদন ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার জন্য অবিলম্বে কৃষি খাতে প্রণোদনার ঘোষণা দেওয়া এবং খাদ্য, চিকিৎসা, প্রণোদনাসহ সকল সরকারি এবং বেসরকারি সহায়তার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। বিবৃতিতে সবার সচেতনতা বৃদ্ধি এবং যার যা সামর্থ অনুযায়ী দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানানো হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা