kalerkantho

বুধবার । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৭  মে ২০২০। ৩ শাওয়াল ১৪৪১

কুকুর-বিড়ালের জন্য খাবার নিয়ে রূপনগরের রাস্তায় এক দম্পতি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ এপ্রিল, ২০২০ ২২:০৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কুকুর-বিড়ালের জন্য খাবার নিয়ে রূপনগরের রাস্তায় এক দম্পতি

নীল রংয়ের প্লাস্টিকের বালতি হাতে রাস্তায় ঘুরছেন ছিফছিফে গড়নের তেইশ/ছব্বিশ বছরের এক নারীসহ তিন ব্যক্তি। রাস্তার পাশে বিড়াল বা কুকুর দেখলেই তাদের সামনে খবরের কাগজ বিছিয়ে তার ওপর ভাত, মুরগীর মাংস ও ডিম মেশানো রান্না করা খাবার দিচ্ছেন। রাজধানীর রূপনগর আবাসিক এলাকার বিভিন্ন রাস্তায় ঘুরে ঘুরে এভাবেই বালতি থেকে বিড়াল, কুকুরকে খাবার দিচ্ছিলেন তারা। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেল, এই বিড়াল, কুকুরকে যারা খাবার দিচ্ছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন এক দম্পতি। আর এই দম্পত্তিকে সাহায্য করছেন তাদেরই পরিচিত এক যুবক। তাহিয়া রেজা প্রাপ্তী নামের ওই নারী তার স্বামী আশরাফুল ইসলাম রাজিব ও তাদের সহযোগীকে নিয়ে গত তিনদিন ধরে রুপনগরের বিভিন্ন রাস্তায় বিড়াল, কুকুরকে খাবার দিয়ে আসছেন। বাসা থেকে রান্না করে প্রতিদিন তিনবেলা খাবার দিচ্ছেন তারা। প্রথম দিন ১২টি প্রাণীকে খাবার দিয়েছেন তারা। পরদিন ২১টি, আর আজ বুধবার ৪০টি বিড়াল ও কুকুরকে খাবার দিয়েছেন তারা।

বরিশালের মেয়ে তাহিয়া রেজা প্রাপ্তী সম্প্রতি কম্পিউটার সায়েন্স বিষয়ে পড়াশুনা শেষ করেছেন। দুই বছর আগে ঝিনাইদহের আশরাফুল ইসলাম রাজিবের সঙ্গে বিয়ে হয়। এরপর থেকেই থাকেন রুপনগর আবাসিক এলাকার ১৯ নম্বর সড়কের একটি বাসায়। 

তাহিয়া রেজা প্রাপ্তী কালের কণ্ঠকে বলেন, পড়াশুনা শেষ করলাম। বাসায় বসে আছি। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে বাসায় থাকতে বাধ্য হচ্ছি। তিনি বলেন, আমরা দেখছি, দরিদ্র বা অসহায় মানুষদের সরকারসহ বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তি খাদ্যসহ সবধরণের সহযোগিতা দিচ্ছে। কিন্তু আবাসিক এলাকার রাস্তায় থাকা বিড়াল, কুকুরগুলো খাদ্য পাচ্ছে না। তারা খুব কষ্টে আছে। কেউ তাদের জন্য এগিয়ে আসছে না। এইসব পশুদের কষ্ট দেখেই আমার স্বামীর সঙ্গে কথা বলি। আমার কথা শুনে সে আমাকে উৎসাহ দেয়। এরপর আমাদের জমানো টাকা থেকে এসব রাস্তার পশুদের জন্য খাবার দেবার সিদ্ধান্ত নিই। যে চিন্তা সেই থেকে কাজ শুরু।

তিনি বলেন, সাধারণত প্রধান সড়কগুলোতে ময়লার ভাগাড় (ডাস্টবিন) থেকে ময়লা, পচা খাবার খায় বিড়াল, কুকুর। কিন্তু আবাসিক এলাকার মধ্যে ময়লার ভাগাড় নেই। এসব স্থানে থাকা পশুর খাবারের অভাবে কষ্ট পাচ্ছে। তাই এসব পশুদের খাবার দিচ্ছি আমরা।

আশরাফুল ইসলাম রাজিব জানান, আমি ছোটখাটো একটা ব্যবসা করি। করোনাভাইরাসের কারণে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। বাসায় থাকতে হচ্ছে। তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে আমার স্ত্রী প্রাপ্তী আমাকে রাস্তার বিড়াল, কুকুরদের খাবার দেবার প্রস্তাব দেয়। আমি তাকে সম্মতি দিলে সে কাজ শুরু করে দেয়। এখন তারসঙ্গে রাস্তায় রাস্তায় বিড়াল, কুকুরকে খাবার দিচ্ছি। বেশ আনন্দ পাচ্ছি এবস নিরীহ প্রাণীদের খাবার দিয়ে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা