kalerkantho

বুধবার । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৭  মে ২০২০। ৩ শাওয়াল ১৪৪১

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত জবি শিক্ষার্থী, জানেনা স্থানীয় প্রশাসন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

৮ এপ্রিল, ২০২০ ১৯:২৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনাভাইরাসে আক্রান্ত জবি শিক্ষার্থী, জানেনা স্থানীয় প্রশাসন

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী এখন সুস্থের পথে ও তার শরীরে মৃদু সংক্রমণ হয়েছে বলে জানিয়েছেন রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)।

আক্রান্ত সেই শিক্ষার্থীও আগের থেকে সুস্থ বোধ করছেন বলে জানিয়েছেন। ওই শিক্ষার্থীর শরীরে করোনার সংক্রমণ খুব বেশি না হওয়ায় তাকে আইসোলেশনে নেয়া হয়নি। তবে শনাক্ত হওয়ার পরও আইইডিসিআর-এ ফোন দিয়ে কম সাড়া পাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এদিকে করোনা আক্রান্ত হওয়ার পরও তার বাসা ও এলাকা এখনো লকডাউন করা হয়নি। জানেন না স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।

ওই শিক্ষার্থী জানান, কিছুদিন আগে জ্বর, হাঁচি-কাশি ও শ্বাসকষ্টে খুব সংকটপূর্ণ অবস্থার মধ্যে ছিলেন। গত দুইদিন তিনি আগের থেকে ভালো আছেন এবং সুস্থ অনুভব করছেন।  যেকারণে তাকে বুধবার আইসোলেশনে নেয়ার কথা থাকলেও, তাকে নেয়া হয়নি। আইইডিসিআর থেকে জানানো হয়েছে, অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে আইসোলেশনে নেয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, আমার বিষয়টা জানাজানি হওয়ার পর থেকেই সবাই খোঁজ খবর নিচ্ছে। আমিও মানসিকভাবে শক্ত থাকার চেষ্টা করছি। এই মুহুর্তে মানসিকভাবে শক্ত থাকার বিকল্প নেই। তিনি এখন পরিবারের সাথে উত্তরার বাসায় অবস্থান করছেন। আলাদা একটি রুমে অবস্থান করছেন। পরিবারের সংস্পর্শে আসছেন না। তার পরিবারকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

তার শরীরে ভাইরাস কিভাবে সংক্রমিত হতে পারে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি ক্যাম্পাস বন্ধ দেয়ার পরপর আর বাসা থেকেই বের হইনি। এর মধ্যে দুইদিন টিউশনির জন্য পাবলিক বাসে উঠেছিলাম। আশঙ্কা করছি, সেখান থেকেই হয়েছে।

তবে তিনি অভিযোগ করে বলেন, করোনা পজিটিভ হওয়ার পরও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন তার সাথে যোগাযোগ করেনি। তিনি যে ভবনে অবস্থান করছেন, সেখানেও লকডাউন দেয়া হয়নি। এলাকায়ও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

দক্ষিণখান থানা এসি ফয়সাল জানান, তার এলাকায় যে করোনা আক্রান্ত রোগী আছে উনি সেই ব্যাপারে আবগত নন। আইইডিসিআর থেকেও তাকে জানানো হয়নি। জানলে তিনি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতেন।

সার্বিক বিষয়ে আইইডিসিআর কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত ডাক্তার তাসলিমা ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তার শরিরে মৃদু লক্ষণ রয়েছে। যার কারনে তাকে এখন আইসোলেশনে নিয়ে আসা হয়নি। পরিবার থেকে জানানো হয়েছে যে, বাসায় হোম আইসোলেটেড ব্যবস্থা আছে। তাই আমরা পরামর্শ দিয়েছি হোম আইসোলেশনে থাকার জন্য। তার পুরো পরিবার কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে আগামী দুই সপ্তাহ। এর মধ্যে অবস্থার অবনতি হলে আমরা প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে নিয়ে আসবো।

আইইডিসিআর থেকে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে কেনো জানানো হয়নি এবং বাসা ও এলাকা কেন লকডাউন করা হয়নি? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা আমার দেখার বিষয় না। আমাদের ডিজি আছেন, উনি সেটা দেখবেন। আমাকে শুধু তার ল্যাব রিপোর্ট দেয়া হয়েছে, আমি সেটা অনুযায়ী কাজ করছি। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা