kalerkantho

বুধবার । ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩ জুন ২০২০। ১০ শাওয়াল ১৪৪১

কালের কণ্ঠে প্রতিবেতন প্রকাশের পর

বরগুনার এসপিকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চিঠি

থানা হেফাজতে শানু হাওলাদারের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তের অগ্রগতি জানতে চায় কমিশন

এম বদি-উজ-জামান   

৩ এপ্রিল, ২০২০ ২১:৪১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বরগুনার এসপিকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চিঠি

বরগুনার আমতলী থানায় পুলিশি হেফাজতে শানু হাওলাদারের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেনের কাছে তদন্তের অগ্রগতি জানতে চেয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। আগামী ৬ মের মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি জানাতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে আজ শুক্রবার বরগুনার এসপিকে চিঠি দিয়েছে কমিশন। শানুর মৃত্যুর ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসানের ই-মেইলে পাঠানো অভিযোগ মামলা হিসেবে গ্রহণ করায় এসপির প্রশংসা করা হয়েছে কমিশনের চিঠিতে। 

কমিশনের পরিচালক (প্রশাসন) কাজী আরফান আশিকের স্বাক্ষরে পাঠানো চিঠিতে শানু হাওলাদারের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় মামলার বিষয়ে নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে বলা হয়েছে, ‘ঘটনার সাথে সাথে পুলিশ সুপার বরগুনা কর্তৃক গৃহীত ব্যবস্থা ও অনলাইনে মামলা রুজু করার প্রশংসনীয় নজিরকে কমিশন সাধুবাদ জানায়। অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনার নির্দেশনা প্রতিপালনে বাংলাদেশ পুলিশ পেশাদারিত্বের পরিচয় দেবে বলে কমিশন প্রত্যাশা করে।’

এ বিষয়ে বরগুনার এসপি মারুফ হোসেন গতকাল রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, এখন পর্যন্ত কমিশনের কোনো চিঠি পাইনি। তবে কমিশন থেকে আমাকে ফোন করা হয়েছিল। শানু হাওলাদারের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে করা মামলার তদন্তের অগ্রগতি জানতে চাওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তদন্তের অগ্রগতি জানানো হবে।

‘বরগুনার আমতলী থানা হেফাজতে মৃত্যু : খোঁজ নিচ্ছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন’ শিরোনামে কালের কণ্ঠ পত্রিকার অনলাইনে বৃহস্পতিবার প্রতিবেদন প্রকাশের পরই জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বরগুনার এসপিকে চিঠি দিল। শানুর মৃত্যুর বিষয়ে বৃহস্পতিবার জাতীয় কমিশনের চেয়ারম্যান নাছিমা বেগম কালের কণ্ঠকে বলেছিলেন, করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে অফিস বন্ধ হয়ে গেছে। এরইমধ্যে আমতলীর ঘটনা ঘটেছে। যে কারণে কমিশনের নজরে আসেনি। এখন শুনলাম। আমরা বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নিব। তিনি বলেন, অতীতে যা কিছুই হয়ে থাকুক না কেন, বতর্মান কমিশন কোনো মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা এড়িয়ে যাবে না। এরপর কমিশন এই চিঠি দিয়েছে।

গত ২৬ মার্চ বরগুনার আমতলী থানা হেফাজতে হত্যা মামলার সন্দেহভাজন আসামি শানু হাওলাদারের রহস্যজনক মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বলছে, শানু হাওলাদার আত্মহত্যা করেছে। আর শানুর পরিবারের দাবি, পুলিশ নির্যাতনের পর হত্যা করে লাশ ঝুঁলিয়ে আত্মহত্যার কথা বলছে। এ ঘটনায় কোনো মামলা না হওয়ায় গত ৩০ মার্চ ই-মেইলের মাধ্যমে বরগুনার এসপির কাছে অভিযোগ দাখিল করেন অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান। নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন-২০১৩ এর ৬-৭ ধারা অনুযায়ী এ অভিযোগ দাখিল করা হয়। এই অভিযোগ পাবার পর বরগুনার এসপি মারুফ হোসেনের নির্দেশে আমতলী থানা মামলা গ্রহণ করে। আমতলী থানার প্রত্যাহার হওয়া ওসি মো. আবুল বাশারসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে এই মামলা হয়েছে।

শানু হাওলাদারের মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) তোফায়েল আহম্মেদকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। শানুর মৃত্যুর ঘটনায় এরইমধ্যে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল বাশারকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একইসঙ্গে একই থানার পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) মনোরঞ্জন মিস্ত্রি ও সহকারী উপপরিদর্শক আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

২৬ মার্চ বরগুনার আমতলী থানা থেকে শানু হাওলাদারের (৫৫) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়না তদন্ত শেষে ২৬ মার্চ রাত ১১টার দিকে শানু হাওলাদারের মরদেহ তার গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা