kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৪ জুন ২০২০। ১১ শাওয়াল ১৪৪১

মুফতি মিজানুর রহমান

জামাত ও জুমায় সর্বোচ্চ সতর্কতা গ্রহণ করব

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩ এপ্রিল, ২০২০ ১০:২১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জামাত ও জুমায় সর্বোচ্চ সতর্কতা গ্রহণ করব

বিশ্ব আজ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। আমাদের দেশও বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। সরকার ও জনগণ চরম উদ্বিগ্ন। এ সংকটময় মুহূর্তে আমাদের তাওবা, ইস্তেগফার ও আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনার পাশাপাশি সর্বোচ্চ সতর্কতা গ্রহণ করতে হবে। একটি হাদিসে আছে ইসলামে কোনো কুলক্ষণ ও সংক্রমণ নেই, অন্য হাদিসে আছে ‘তোমরা কুষ্ঠ রোগী থেকে দূরে থাকো, যেভাবে তুমি বাঘ থেকে দূরে থাক।’ (বুখারি : ৫৭১৭)। রাসুলুল্লাহ (সা.) আরো বলেছেন, ‘কেউ যেন রোগাক্রান্ত উট সুস্থ উটের সঙ্গে না রাখে।’ (বুখারি : ৫৭৭১)। প্রথম হাদিস ও পরের দুটি হাদিসের মধ্যে বাহ্যিকভাবে বিরোধ মনে হলেও বাস্তবে বিরোধ নেই। বিশিষ্ট মুহাদ্দিস ও হাদিস বিশারদ ইমাম নববী (রহ.) বলেন, এখানে মূলত প্রথম হাদিসটিতে মানুষের বিশ্বাসকে ঠিক করা হয়েছে, অর্থাৎ আল্লাহর হুকুম ছাড়া রোগ নিজে নিজে সংক্রমিত হতে পারে না। পরবর্তী হাদিসগুলোতে মানুষকে এ ধরনের অবস্থায় দূরে থাকার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রথম হাদিসের সম্পর্ক হলো বিশ্বাসের সঙ্গে আর পরের হাদিসগুলোর সম্পর্ক হলো আমলের সঙ্গে। তাই এ সংকটময় কালে আমরা জামাত ও জুমায় উপস্থিতির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা গ্রহণ করব। এ ক্ষেত্রে ইসলামিক ফাউন্ডেশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে। নিম্নোক্ত ব্যক্তিদের মসজিদে না আসার জন্য বলা হয়েছে, যাঁরা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত; যাঁদের সর্দি, জ্বর, কাশি, গলা ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট আছে; যাঁরা আক্রান্ত দেশ ও অঞ্চল থেকে এসেছেন; যাঁরা ওইরূপ মানুষের সংস্পর্শে গিয়েছেন; যাঁরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত; বয়োবৃদ্ধ, দুর্বল, নারী ও শিশু; যাঁরা অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ও যাঁরা মসজিদে গিয়ে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা করেন।

যাঁরা জুমা ও জামাতে যাবেন তাঁরা সবাই সব ধরনের সুরক্ষাব্যবস্থা অবলম্বন করবেন। অজু করে নিজ নিজ ঘরে সুন্নাত ও নফল আদায় করবেন। শুধু জামাতের সময় মসজিদে যাবেন এবং ফরজ নামাজ শেষে দ্রুত ঘরে চলে আসবেন। সাবান দিয়ে বারবার হাত ধোয়া, মাস্ক পরা, জীবাণুনাশক দিয়ে মসজিদ ও ঘরের মেঝে পরিষ্কার রাখাসহ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সব নির্দেশনা মেনে চলবেন। হঠাৎ হাঁচি-কাশি এসে গেলে টিস্যু বা বাহু দিয়ে মুখ ঢেকে রাখবেন। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে কাতারবন্দি হবেন।

এ হচ্ছে সতর্কতা ও সাবধানতার বিষয়। সর্বোপরি মুসলিম হিসেবে আমরা বিশ্বাস করি, এ সংকটময় মুহূর্তে পূর্ণরূপে মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে আত্মসমর্পণ করতে হবে।

লেখক : সিনিয়র পেশ ইমাম, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা