kalerkantho

বুধবার । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৭  মে ২০২০। ৩ শাওয়াল ১৪৪১

করোনার প্রভাবে হুমকিতে স্থানীয় বস্ত্রখাত

ছয় মাসের সুদ মওকুফসহ পাঁচ দাবি বিটিএমএর

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ এপ্রিল, ২০২০ ০০:৩৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ছয় মাসের সুদ মওকুফসহ পাঁচ দাবি বিটিএমএর

করোনাভাইরাসে বৈশ্বিক প্রভাবে তৈরি পোশাক খাতের চাহিদা কমে যাওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে এখাতে প্রধান কাঁচামাল বস্ত্র ও সুতার মিলগুলো। কেবল রপ্তানিমুখী পোশাকের কাঁচামাল সরবরাহকারী মিলই নয়, স্থানীয় বস্ত্র ও গার্মেন্টস পণ্যের কাঁচামালের যোগান দেওয়া মিলগুলোও বড় ধরনের আর্থিক সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার এই খাতের বড় সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) এমন আশংকার কথা জানিয়েছেন সংগঠটি। সংগঠনটি পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আসছে বৈশাখী উৎসব কার্যত বন্ধ থাকছে। 

অন্যদিকে করোনাভাইরাসের প্রভাব দীর্ঘদিন থাকলে আগামী ঈদেও চাহিদা কমে যাবে। এর ফলে বড়ো আকারের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে অনেক বস্ত্র শিল্প এবং বন্ধ হয়ে যেতে পারে অনেক কারখানা। আর এ পরিস্থিতিতে শিল্প টিকিয়ে রাখতে সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে এ খাতের শিল্পোদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)।

বিশেষত সুতা কাপড়ের ওপর থেকে ভ্যাট ট্যাক্স প্রত্যাহার করা, বিদ্যমান টার্ম লোনের সুদ ছয় মাসের জন্য মওকুফ করা ও দুই বছরের মধ্যে পরিশোধের সুযোগ দেওয়া, ছয় মাসের জন্য গ্যাস-বিদ্যুৎসহ পরিসেবার বিল বল্ক অ্যাকাউন্টে রেখে পরবর্তী এক বছরের মধ্যে পরিশোধের সুযোগ দেওয়া, এ খাতে ব্যবহার হওয়া সব ধরনের কেমিক্যালের ওপর শুল্ককর প্রত্যাহার করা এবং বন্দরে আটকে থাকা কাঁচামাল ও পণ্যের ওপর কোনো ধরনের বাড়তি চার্জ আরোপ না করার দাবি জানানো হয়।

সূত্র জানিয়েছে, এসব দাবি সম্বলিত একটি চিঠি গতকাল অর্থমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের কাছেও পাঠানো হয়েছে। বিটএমএ জানিয়েছে, কেবল করোনাভাইরাসজনিত সমস্যার কারণে মিলগুলোতে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার সুতা ও কাপড়ের মজুদ পড়ে রয়েছে। বর্তমানে বিটিএমএর সদস্য মিলগুলোর ৪৫০টি স্পিনিং মিলের মধ্যে প্রায় আড়াইশ স্পিনিং মিল দেশে স্থানীয়ভাবে বস্ত্রের যোগান দেয়। পাশাপাশি তাঁত শিল্পের প্রয়োজনীয় সুতা সরবরাহ করছে।

অন্যদিকে ৮৫০টি উইভিং মিলের মধ্যে প্রায় ৫০০ মিল স্থানীয় বাজারের জন্য কাপড় তৈরি করছে। রয়েছে ২০০টির মতো ডাইয়িং ফিনিশিং মিলও। সব মিলিয়ে বিশাল বিনিয়োগের এ শিল্পখাত এখন বলতে গেলে বসে রয়েছে। টেক্সটাইল মিল উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, বৈশাখের উৎসব ও রমজানের ঈদকেন্দ্রিক বজারের জন্যই তারা বেশিরভাগ বস্ত্র সরবরাহ করেন। 

ফলে এ সময়ে টেক্সটাইল মিল অধ্যুষিত এলাকায় একধরণের কর্মচাঞ্চল্য তৈরি হয়। কেবল বৈশাখী উৎসবকেন্দ্রিকই স্থানীয় বস্ত্রখাতের বাজার প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার। অন্যদিকে রমজানের ঈদকেন্দ্রিক এই বাজার অনেক বেশি। বিদ্যমান করোনা পরিস্থিতিতে এ দুটি উৎসবকেন্দ্রিক বাজারের জন্য উৎপাদন ব্যবস্থাই অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

বিটিএমএ সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, করোনাভাইরাসের এ পরিস্থিতিতে ভয়াবহ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছে দেশের টেক্সটাইল মিলগুলো। সরকারের নীতি সহায়তা না পেলে বহু মিল ব্যবসা থেকে হারিয়ে যাবে। বেকার হবে লাখ লাখ শ্রমিক।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা