kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৯  মে ২০২০। ৫ শাওয়াল ১৪৪১

থানা হেফাজতে মৃত্যু, খোঁজ নিচ্ছে মানবাধিকার কমিশন

এম বদি-উজ-জামান, নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ এপ্রিল, ২০২০ ২১:১৯ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



থানা হেফাজতে মৃত্যু, খোঁজ নিচ্ছে মানবাধিকার কমিশন

বরগুনার আমতলী থানায় পুলিশী হেফাজতে শানু হাওলাদারের কিভাবে মৃত্যু হলো সেবিষয়ে খোঁজ নিচ্ছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। বিষয়টি কমিশনের চেয়ারম্যান নাছিমা বেগমের নজরে আসার পরই তিনি আজ বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে খোঁজ নিতে শুরু করেছেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া কুড়িগ্রামে সাংবাদিককে মধ্যরাতে ধরে নিয়ে নির্যাতনের ঘটনায় কুডিগ্রামের সাবেক জেলা প্রশাসকসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রীপরিষদ সচিবকে চিঠি দিয়েছে কমিশন। একইসঙ্গে এ বিষয়ে সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে কমিশন। 

এদিকে আমতলী থানায় পুলিশী হেফাজতে শানু হাওলাদারের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় এরইমধ্যে আমতলী থানার প্রত্যাহার হওয়া ওসি মো. আবুল বাশারসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসানের অভিযোগ মামলা হিসেবে গ্রহণ করেছে আমতলী থানা। বরগুনার এসপি মারুফ হোসেনের নির্দেশে আমতলী থানা মামলা নেয়। নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন-২০১৩ এর ১৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী এ মামলা হয়েছে। মামলা নম্বর ২, তারিখ পহেলা এপ্রিল, ২০২০। এই প্রথম ফৌজদারি কোনো অভিযোগ ই-মেইলে পাঠানোর পর তা মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হলো। এরমাধ্যমে বাংলাদেশে নজির স্থাপন করলেন বরগুনার এসপি।

এবিষয়ে কমিশন চেয়ারম্যান নাছিমা বেগম কালের কণ্ঠকে বলেন, কোনো মানবাধিকার লংঘনের ঘটনায় কমিশন নিশ্চুপ বসে থাকতে পারে না। তিনি বলেন, আপনারা হয়তো লক্ষ্য করেছেন, কুড়িগ্রামে মধ্যরাতে সাংবাদিককে ধরে নিয়ে নির্যাতনের ঘটনায় আমরা তথা কমিশন ওই ডিসির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি। তিনি বলেন, শুধুই একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কমিশন এ পদক্ষেপ নেয়নি, আমরা মনে করি ওই ডিসির বিরুদ্ধে যদি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হয় তবে প্রশাসনের আর কেউ এ রকম বেআইনি কাজ করতে সাহস পাবে না। তিনি বরগুনার ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে অফিস বন্ধ হয়ে গেছে। এরইমধ্যে আমতলীর ঘটনা ঘটেছে। যে কারণে কমিশনের নজরে আসেনি। এখন শুনলাম। আমরা বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নিবো। তিনি বলেন, অতীতে যা কিছুই হয়ে থাকুক না কেন, বতর্মান কমিশন কোনো মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা এড়িয়ে যাবে না।
   
থানা হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় মামলা নেওয়ার বিষয়ে অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, এসপির কাছে ই-মেইলে পাঠানো আমার অভিযোগকে মামলা হিসেবে গ্রহণ করেছে থানা। এ বিষয়ে পহেলা এপ্রিল রাতে এসপির ই-মেইল থেকে আমাকে একটি ই-মেইল পাঠানো হয়েছে। সেখানে মামলা নেওয়ার বিষয়টি আমাকে জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য সরকার যে কাজ করছে তারই প্রতিফলন ঘটলো ই-মেইলে পাঠানো অভিযোগকে মামলা হিসেবে গ্রহণের মধ্য দিয়ে। 

থানা হেফাজতে মৃত্যু:
গত ২৬ মার্চ বরগুনার আমতলী থানা হেফাজতে হত্যা মামলার সন্দেহভাজন আসামি শানু হাওলাদারের রহস্যজনক মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বলছে, শানু হাওলাদার আত্মহত্যা করেছে। আর শানুর পরিবারের দাবি, পুলিশ নির্যাতনের পর হত্যা করে লাশ ঝুঁলিয়ে আত্মহত্যার কথা বলছে। এ ঘটনায় কোনো মামলা না হওয়ায় গত ৩০ মার্চ ই-মেইলের মাধ্যমে বরগুনার এসপির কাছে অভিযোগ দাখিল করেন অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান। নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু(নিবারণ) আইন-২০১৩ এর ৬-৭ ধারা অনুযায়ী এ অভিযোগ দাখিল করা হয়।    
শানু হাওলাদারের মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) তোফায়েল আহম্মেদকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। শানুর মৃত্যুর ঘটনায় এরইমধ্যে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল বাশারকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একইসঙ্গে একই থানার পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) মনোরঞ্জন মিস্ত্রি ও সহকারী উপপরিদর্শক আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। 
২৬ মার্চ বরগুনার আমতলী থানা থেকে শানু হাওলাদারের (৫৫) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়না তদন্ত শেষে ২৬ মার্চ রাত ১১টার দিকে শানু হাওলাদারের মরদেহ তার গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। 

কুড়িগ্রামে সাংবাদিক নির্যাতন:
বাংলা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম রিগ্যানের বাড়িতে গত ১৩ মার্চ  মধ্যরাতে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমান আদালত। এরপর 'আধা বোতল মদ ও দেড়শ গ্রাম গাঁজা' রাখার অভিযোগে রিগ্যানকে ভ্রাম্যমাণ আদালত একবছর কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ১৫ দিনের কারাদন্ড দেয়। এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা হয়। এ অবস্থায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সুজাউদ্দৌলা ১৪ মার্চ সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগ্যানকে জামিন দেন। এরপরই রিগ্যান জামিনে মুক্তি পান। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় এক রিট আবেদনে হাইকোর্ট রিগ্যানের বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম ৬ মাসের জন্য স্থগিত করেছেন। কুড়িগ্রামের সাবেক জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন, আরডিসি মো. নাজিম উদ্দিন, সহকারি কমিশনার রিন্টু বিকাশ চাকমা ও এসএম রাহাতুল ইসলামসহ ৩৫/৪০ জন সরকারি কর্মচারির বিরুদ্ধে রিগ্যানের করা অভিযোগ মামলা হিসেবে গ্রহণ করতে নির্দেশ দেন। এই নির্দেশে থানা মামলা নিয়েছে। এর আগেই ওই চার কর্মকর্তাকে কুড়িগ্রাম থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাদের বেতন-ভাতাও বন্দ করে দিয়েছে সরকার। এ ছাড়াও বিভাগীয় মামলা হয়েছে। বিভাগীয় তদন্ত চলছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা