kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

কড়া রোদেও টিসিবির ট্রাকে দীর্ঘ লাইন

* প্রথম দিনই পণ্যে টান *স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না ক্রেতারা

রোকন মাহমুদ   

১ এপ্রিল, ২০২০ ১৭:৫৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কড়া রোদেও টিসিবির ট্রাকে দীর্ঘ লাইন

ছবি : সংগৃহীত

শুরু হয়েছে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) রোজার পণ্য বিক্রি। প্রথম দিনই নিত্যপণ্য কিনতে ট্রাকের সামনে ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে। উর্ধ্বমুখী বাজারের তাপ থেকে গা বাচিয়ে একটু সাশ্রয়ের আশায় চৈত্রের কড়া রোদেও মানুষ দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িছিল তেল, চিনি, ডাল কিনতে। শুধু নিম্ন আয়ের নয় লাইনে ছিল মধ্যবিত্ত মানুষও। তবে অনেক পয়েন্টেই ক্রেতারা চাহিদা অনুসারে পণ্য পাননি বলে অভিযোগ তুলেছেন। যা পরে সরেজমিনেও দেখা দেখাছে।

আজ বুধবার রাজধানীর অনেক পয়েন্টে অনেক ট্রাকের পণ্য শেষ হয়ে গিয়েছিল দুপুরেই। এ ছাড়া অনেক পয়েন্টে দুপুরের পর শেষ হয়ে যায় ডাল কিংবা চিনি। এ ছাড়া ক্রেতাদের স্বাস্থ্যবিধিও মানতে দেখা যায়নি। লাইনে দাঁড়িয়ে ছিল গায়ে গায়ে লাগিয়ে। গুটি কয়েকজনের মুখে মাস্ক থাকলেও কারো হাতেই ছিলনা গ্লাবস। এ ছাড়া জনপ্রতি বরাদ্দের বেশি পণ্য বিক্রির অভিযোগও তুলেছেন অনেক ক্রেতা।

বুধবার টিসিবি রোজা উপলক্ষ্যে পণ্য বিক্রি শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে চিনি, ডাল ও তেল এই তিনটি পণ্য বিক্রি করছে সংস্থাটি। একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ ৪ কেজি চিনি, ২ কেজি ডাল ও ৫ লিটার তেল কিনতে পারবেন। সারা দেশে সাড়ে ৩০০ ট্রাকের মাধ্যমে এসব পণ্য বিক্রি করছে। এর মধ্যে ঢাকায় ৫০টি ট্রাক রয়েছে। এসব পণ্যের মধ্যে ডাল ৫০ টাকা, তেল ৮০ টাকা ও চিনি ৫০ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে।

বাজারে প্রতিলিটার তেল ১০৫ থেকে ১১০ টাকা, চিনি ৬৫ থেকে ৭০ টাকা, ডাল ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। ফলে একটু সাশ্রয়ের আশায় বুধবার সকাল থেকেই পণ্য নিতে ট্রাকের সামনে ক্রেতারা ব্যাপক ভিড় করে। নারী পুরুষ সবধরণের ক্রেতাই ছিল এ সময়। অধিকাংশ ক্রেতাই দুই লিটার তেল ও তিন কেজি চিনি নিচ্ছেন। এ ছাড়া ৫ লিটারের তেলের বোতলও নিতে দেখা গেছে।

তারা বলছেন, বাজারগুলোতে সয়াবিন তেলের দাম দিন দিন বাড়ছেই। এ ছাড়া চিনির দামও অনেক বেশি। এখানে একটু সাশ্রয়ী মূলে পাওয়া যাচ্ছে। তাই কষ্ট করে হলেও লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য কিনছেন। 

দুপুর ২টায় মানিকনগর বিশ্বরোটের কাছে গিয়ে দেখা যায়, ট্রাকের সামনে দীর্ঘ লাইন। বিক্রয়কর্মীর কাছাকাছি জটলা তৈরি হয়েছে। টিসিবির তথ্য অনুসারে এই ট্রাকটি থাকার কথা ছিল ধলপুর কমিউনিটি সেন্টারের সামনে। এখানে চিনি ও তেল বিক্রি করা হচ্ছে। ডালের বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে শেষ হয়ে গেছে বলে বিক্রয় কর্মী জানান। তবে নাম বলতে চাননি তিনি।

তিনি বলেন, সকাল থেকে এক টানা বিক্রি করছি। দুপুরে খাওয়ার সময়ও পাইনি। এ সময় আমেনা খাতুন নামের একজন ক্রেতা বলেন, লাইন ছাড়াও পণ্য নিয়ে যায় অনেকে। তাদের বেশি বেশি করে পণ্য দেওয়ায় শেষ হয়ে গেছে। এখানে লাইনে প্রায় ১০০ জন ক্রেতা দেখা গেল। পাশে কয়েকজন ভিড় করছিল ফেলে দেয়া কার্টন সংগ্রহে।

এখানে খোঁজ নিয়ে ফিরে আসার পথেই যাত্রাবাড়ির দিক থেকে টিসিবির ব্যানার লাগানো একটি খালি ট্রাক আসতে দেখা যায়। বিক্রিয় কর্মী কেউ না থাকায় ড্রাইভারকে পণ্যের বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে শেষ হয়ে গেছে বলে জানান তিনি।

দুপুর তিনটার দিকে উত্তর বাড্ডাতে দিয়ে দেখা যায় এখানে ট্রাকে পণ্য বোঝাই রয়েছে। এ ট্রাকে অবশ্য তিনটি পণ্যই ছিল। এখানেও প্রায় দেড় শ লোকের লাইন। কেউ কিনে নিয়ে চলে যাচ্ছেন আবার কেউ এসে লাইনে যোগ দিচ্ছেন। এখানেও লাইনে গা ঘেষে দাঁড়িয়ে আছেন ক্রেতারা। জানতে চাইলে আলম নামে একজন ক্রেতা বলেন, দূরে দাঁড়ালে মাঝখানে আরেকজন ঢুকে যায়। এ ছাড়া পণ্য মেপে দিতে কিছুটা সময় লাগে, তাই একজায়গায় অনেক্ষণ দাঁড়িয়ে না থেকে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে সবাই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা