kalerkantho

শনিবার । ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩০  মে ২০২০। ৬ শাওয়াল ১৪৪১

করোনাভাইরাসের কারণে আদালত বন্ধ

আইনের বই পড়ে সময় কাটছে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবীদের

এম বদি-উজ-জামান   

৩১ মার্চ, ২০২০ ২১:০১ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



আইনের বই পড়ে সময় কাটছে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবীদের

চার সিনিয়র আইনজীবী : (বাঁ থেকে) অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, সমিতির বর্তমান সভাপতি অ্যাডভোকেট এ এম আমিন উদ্দিন ও দুদকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান।

বিশ্ব জুড়ে করোনাভাইরাসের পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে ব্যাপক সতর্কতামূলক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এখন সাধারণ ছুটি চলছে। এর প্রভাব বিচারালয়েও পড়েছে। সুপ্রিম কোর্টসহ সারা দেশের আদালতগুলোতে সাধারণ ছুটি চলছে। ফলে বিচার কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এতে জুনিয়র আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের সাময়িক অসুবিধা হলেও দেশের সিনিয়র আইনজীবীরা এই ছুটিকে উপভোগ করছেন। তারা নিজেদের আরো ভালোভাবে প্রস্তুত করতে পুরো ছুটিকে কাজে লাগাছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সারা দেশে ৫০ হাজারের বেশি আইনজীবী রয়েছেন। এরমধ্যে সুপ্রিম কোর্টে নিয়মিত আইন পেশায় আছেন ৫ হাজারেরও বেশি আইনজীবী। যদিও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সদস্য সংখ্যা ৯ হাজারের বেশি। তবে এরমধ্যে কেউ কেউ দেশের বিভিন্ন আদালতে (জেলা আদালত) আইন পেশায় নিয়োজিত। আর যারা সুপ্রিম কোর্টে নিয়মিত তাদের মধ্যে যারা সিনিয়র তাদের সময় কাটছে আইনের বই, দেশ-বিদেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলায় দেওয়া রায় পড়ে। সিনিয়র আইনজীবীদের দিনের অর্থেকেরও বেশি সময় পার করছেন এভাবে। এ ছাড়া টিভিতে খবর দেখা, সংবাদপত্রে খবর পড়ার পাশাপাশি পরিবারকে সময় দিচ্ছেন তারা।

নিজেকে ভালোভাবে প্রস্তুত করার সময় পেয়েছি : অ্যাটর্নি জেনারেল

দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টে রাষ্ট্র তথা সরকারপক্ষের সকল মামলা পরিচালনার দায়িত্ব অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের। অ্যাটর্নি জেনারেল, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদে থেকে ২২৫ জন আইন কর্মকর্তা রাষ্ট্রপক্ষের মামলা দেখছেন।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টে ৫ লাখের বেশি মামলা বিচারাধীন। এরমধ্যে রাষ্ট্রের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট মামলা দেখার দায়িত্ব তাদের। এরমধ্যে মূল দায়িত্ব রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের ওপর। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এই মামলা নিয়েই তাকে থাকতে হয়। দিনভর এ আদালত, ওই আদালতে দৌড়াদৌড়ি করেই সময় যায়। কিন্তু আদালত বন্ধ থাকায় সেই দৌড়াদৌড়ি নেই। এখন তার হাতে অবসরের অফুরন্ত সময়। কিন্তু ৭১ বছর বয়স্ক দেশের এই সিনিয়র আইনজীবী বসে বসে এই সময় নষ্ট করতে রাজি নন।

এই সিনিয়র আইনজীবী তার অধিকাংশ সময়ই আইনের বই পড়ে, দেশ-বিদেশের বিভিন্ন আদালতের দেওয়া রায় পড়ে সময় পার করছেন। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, কোর্ট খোলা থাকার কারণে তো সেভাবে পড়াশুনা করতে পারি না। একটি মামলা ভালোভাবে পরিচালনা করতে পড়াশুনার বিকল্প নেই। কিন্তু প্রতিদিন শতশত মামলার কারণে তা হয়ে ওঠে না। এই ছুটির কারণে নিজেকে ভালভাবে প্রস্তুত করার সময় পেয়েছি। তাই আইনের বই, বিভিন্ন মামলার রায় পড়ছি।

তিনি বলেন, ব্যস্ত আইনজীবীরা সাধারণত তার পরিবারকে সময় দিতে পারেন না। এই ছুটির কারণে পরিবারকেও সময় দিতে পারছি। এর বাইরে খবর পড়ে ও টিভিতে খবর দেখে সময় পার করছি।  

আইনের বই পড়ি, ছাদ বাগান পরিচর্যা করি : জয়নুল আবেদীন

সুপ্রিম কোর্টের আরেক সিনিয়র আইনজীবী সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন কালের কণ্ঠকে বলেন, বিভিন্ন মামলার কারণে সকাল থেকেই সুপ্রিম কোর্টে ব্যস্ত থাকতে হয়। আদালত শেষ হবার পর সন্ধার পর নিজ চেম্বার। সেখানে অনেক রাত পর্যন্ত থাকা, মামলা প্রস্তুত করে পরদিন আদালতে যাওয়া-এটাই নিয়মিত রুটিন ছিল। তবে করোনাভাইরাসের কারণে দেশের সব আদালত বন্ধ। এরই অংশ হিসেবে সুপ্রিম কোর্টও বন্ধ। আদালত বন্ধ বলেতো আর সব থেমে যাবার কথা নয়।

আইনজীবীদের আইনের বই পড়েই নিজেকে প্রস্তুত করতে হয়। ছুটি হওয়ার কারণে নিজেকে প্রস্তুতের জন্য সময় পেয়েছি। তাই আইনের বই পড়ে সময় কাটছে। এর বাইরে কিছু সময় নিজের ছাদ বাগানও পরিচর্যা করি। আর কিছুসময় ইবাদত-বন্দেগি করে, আইনজীবী, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করে সময় কাটছে।  

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট এএম আমিন উদ্দিন বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে জনসমাগম স্থানে যাওয়া ঠিক না। তাই অধিকাংশ সময়টা কাটছে ঘরের মধ্যে। এই সময়ে আইনের বই পড়ি। আইনজীবীদের প্রধান শক্তি হলো লেখাপড়া করা। এর বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, আদালত খোলা থাকলে সেভাবে পরিবারকে সময় দেওয়া হয় না। এখন অনেক সময় পরিবারকে সময় দিচ্ছি। ফোনে আইনজীবী, আত্মীয়স্বজন, ক্লায়েন্ট-এরসঙ্গে যোগাযোগ করে সময় যাচ্ছে।

সুপ্রিম কোর্টে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান বলেন, প্রতিদিন চেম্বারে যাচ্ছি। দিনভর আইনের বই পড়ি। ভারতে দুর্নীতি মামলায় কি রায় দিচ্ছে তা দেখি। আর আমাদের আদালতে দুদকের যেসব মামলায় হেরে গেছি, সেসব মামলার রায় ও আদেশ দেখছি। কেন হারলাম, তা পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে মামলায় শুনানির জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছি। তিনি বলেন, এর বাইরে টিআইবি গত ২০ বছরে যেসব প্রতিবেদন দিয়েছে, তা পর্যালোচনা করছি। ভবিষ্যতে টিআইবি যত প্রতিবেদন দেবে তার প্রতিক্রিয়া দেওয়ার জন্য নিজেকে তৈরি করছি। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা