kalerkantho

শনিবার । ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩০  মে ২০২০। ৬ শাওয়াল ১৪৪১

একমুঠো ত্রাণের জন্য রাস্তার ধারে অপেক্ষা!

রফিকুল ইসলাম   

৩১ মার্চ, ২০২০ ১৮:৫৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



একমুঠো ত্রাণের জন্য রাস্তার ধারে অপেক্ষা!

বেলা ২টা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) সামনে একদল ছিন্নমূল মানুষের ভিড়। পুরুষের সংখ্যা কয়েকজন হলেও নারীর সংখ্যা প্রায় দেড় ডজন। তাদের কারো হাতে একটি করে ছোট ব্যাগ। ভিড়ের মধ্যে কয়েকজন শিশুও চোখে পড়ল। তারা সবাই খাদ্যের জন্য অপেক্ষা করছে। ১৫-২০ মিনিট পর একটি ছোট গাড়িতে আসলো ত্রাণ। প্লাস্টিকের সাদা ব্যাগে চাল, ডাল, তেল ও আলু দিতে এসেছে ছাত্রদলের একদলকর্মী। 

গাড়ি দেখেই দৌঁড়ে আসলো সবাই। টিএসসির প্রবেশপথে লাইন ধরে দাঁড়ালো সবাই। শৃঙ্খলার সঙ্গে প্রত্যেকে একটি করে ব্যাগ নিয়ে চলে গেলো। তাদের একজন রহিমা। তিনি বাসা বাড়িতে করতেন। এখন কোনো কাজ নেই। স্বামীরও কোনো কাজ নেই। ত্রাণের জন্য সকাল থেকে টিএসসিতে অপেক্ষা করছেন। সকালে একজন ব্যক্তি প্যাকেটে খাবার দিয়েছেন। 

বেলা আড়াইটায় ত্রাণ পাওয়ার পর তিনি জানালেন বাসায় গিয়ে রান্নার পর ভাত জুটবে। তিনি বলেন, কাজ না থাকায় এখন বড় সংকটে পড়েছি। কেউ খাবার দিলে খায় নতুবা উপোষ থাকতে হয়। তিনজন মিলে ৬ কেজির বেশি চাল পাওয়া গেছে। ডাল, তেল ও আলুও আছে। কয়েকদিন আনায়াসে চলা যাবে।

টিএসসি থেকে মোটরসাইকেলে রওয়ান দিয়ে কারওয়ান বাজার হয়ে নতুন বাজার পর্যন্ত সড়কে দেখা গেলো ত্রাণের জন্য মানুষের অপেক্ষা। কারওয়ান বাজার টিসিবি ভবনের সামনে দেখা মিললো একদল মানুষ। তারা সবাই খাবারের জন্য প্রহর গুনছে। এফডিসি মোড়েও মিললো একদল ছিন্নমূল মানুষ। 

হাতিরঝিল সড়কে ঢুকতে রাস্তার একপশে মানুষ। হাতিরঝিল কাঁচাবাজারের সামনে রাস্তায় নারী-পুরুষ ও শিশুদের অপেক্ষাও দেখা গেছে। গুলশান লিংক রোড থেকে নতুনবাজারমুখী রাস্তা ও নতুনবাজার থেকে বাড্ডাগামী রাস্তার দুই ধারেই দেখা গেছে ত্রাণের জন্য মানুষের অপেক্ষা। মোড়ে মোড়ে দলবদ্ধ হয়ে বসে ত্রাণের খোঁজ করছেন। চাল বা ডাল নিয়ে যাওয়া কোনো গাড়ি দেখলেও সেটাকে ঘিরে ধরছে।

সুবাস্তু টাওয়ারে উত্তরপার্শ্বে বেলা সাড়ে তিনটায় একদল মানুষ ভিড়। নারী-পুরুষ একসঙ্গে বসে আছেন। পরিচয় দিয়ে জানতে চাইলে ঘিরে ধরে কয়েকজন। তাদের ধারণা খাবার দিতে এসেছি। পরে পরিচয় দিয়ে কথা বললে জানান, তারা খাবারের জন্য অপেক্ষা করছে। তাঁদের একজন প্রতিবন্ধী কামরুল। হুইল চেয়ারে চলাফেরা তার। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ভিক্ষা করে জীবন চলে। এখন সবকিছু বন্ধ। বাসায় খাবার নেই। এখানে অপেক্ষা করছি কেউ কিছু দেয় কিনা। সকালের খাবার খেয়েছি কিন্তু দুপুরের খাবার জোটেনি।’

নতুন বাজার মোড়ে আসতেই দেখা মিললো অর্ধ-শত মানুষের ভিড়। তারাও খাবারের জন্য অপেক্ষা করছেন। কিন্তু কোনো খাবার জোটেনি। তবে ত্রাণ নিয়ে যেন চলছে লুকোচুরি খেলা। তারা জানালেন, সকালে একগাড়ি ত্রাণ নিয়ে এসেছিল। কিন্তু মানুষ বেশি হওয়ায় না দিয়ে চলে গেছে। এখন আবার ত্রাণের জন্য অপেক্ষা করছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা