kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

ঢাকার রাস্তায় ভিড় বাড়ছে, সচেতনতা সৃষ্টিতে প্রচারণা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩১ মার্চ, ২০২০ ১৮:৪০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঢাকার রাস্তায় ভিড় বাড়ছে, সচেতনতা সৃষ্টিতে প্রচারণা

করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় জনগণকে ঘরে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হলেও অনেকেই তা মানছেন না। যে কারণে এক সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর বিভিন্ন রাস্তায় মানুষ ও যানবাহনের ভিড় বেড়েছে। এই অবস্থায় ভিড় কমাতে ও করোনার বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সেনা বাহিনীসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের হ্যাণ্ড মাইক নিয়ে প্রচারণা চালাতে দেখা গেছে। 

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে গত ৬ দিনের তুলনায় বেশি যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। রিকশা ও প্রাইভেট কারের সংখ্যা ছিলো অনেক বেশি। চলাচাল করছে ট্যাক্সি, ইজিবাইক, পিকআপ, ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহন। বাস চলাচল বন্ধ থাকায় ওই সকল যানবাহনে যাত্রী চলাচল ছিলো চোখে পড়ার মতো। মোড়ে মোড়ে ছিলো রিকশার অবস্থান। 

এই সময়ে রাইডশেয়ারিং বন্ধ থাকলেও অনেকেই মোটরসাইকেল নিয়ে বেরিয়েছেন ভাড়া মারতে। রাস্তার পাশদিয়ে মানুষের উদ্দেশ্যহীন হাঁটা-হাটিও ছিলো বেশি। আর কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর অলিতে-গলিতে অনেক দোকান পাট খুলতে শুরু করেছে। বিশেষ করে কিছু কিছু চায়ের দোকানও খোলা দেখা গেছে। 

মঙ্গলবার বিকেলে গাবতলী-সদরঘাট রুটের বসিলা চার রাস্তার মোড়ে রিক্সা, ট্যাক্সি ও ইজিবাইকে ভিড় লেগে যায়। আশপাশে লোকজনের জমায়েত ছিলো চোখে পড়ার মতো। আর লোক সমাগম বেড়ে যাওয়ায় সেখানে বেশকিছু দোকান-পাট খোলা দেখা যায়। আশপাশের গাড়ি মেরামতকারী কিছু ওয়ার্কশপও খুলেছে। সেখান থেকে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের দিকে যেতে কয়েকটি চায়ের দোকানও খোলা দেখা গেছে। অনেকেই ওই সকল দোকানে চা-বিড়ি পান করে অলস সময় কাটাচ্ছেন।

মঙ্গলবার দুপুরে বসিলা ব্রিজের আগে টিসিবি’র পণ্য বিক্রয়কারী ট্রাকের পিছনে বেশ ভীড় দেখা যায়। ন্যায্যমূল্যে নিত্যপণ্য কেনার জন্য মানুষ ভিড় করেও তাদের অধিকাংশই করোনা সতর্কতা অবলম্বন করেননি। মাস্ক না পরেই বেরিয়েছেন। পণ্য কেনা নিয়ে ঠেলাঠেলিও করছেন।

বসিলা ব্রিজ পার হয়ে কেরাণীগঞ্জের আটিবাজারেরও মানুষ ও যানবাহনের ভিড় দেখা যায়। অবশ্য বেলা একটার দিকে ওই বাজারে সেনা বাহিনীর দুইটি গাড়ীসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর টহল চোখে পড়ে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ওই টহল গাড়ীগুলো থেকে হ্যাণ্ড মাইকে মানুষকে প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না আসার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। গাড়ি থেকে অনেককে ঘরে ফেরার অনুরোধ করতে দেখা গেছে।

অন্যান্য দিনের তুলনায় মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড, টাউন হল ও ফার্মগেট এলাকায় যানবাহনের চাপছিলো বেশি। কারওয়ান বাজার এলাকায় জনসমাগম বেশি দেখা গেছে। ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের সংখ্যাই ছিলো বেশি। অনেকটা স্বাভাবিক সময়ের মতো কাঁচাবাজারের দোকান বসেছে। মানুষও কেনাকাটা করছে হরদম। শাকসবজির দামও তুলনামূলক কম। করোনার কারণে যে শারীরিক দূরত্ব থাকা প্রয়োজন, তা নেই। 

মোহাম্মদপুরের কাদেরাবাদ হাউজিং, সাদেক খান রোড়, রায়ের বাজার এলাকায় ভ্যানের ওপর সবজি-তরকারি, ফলমূল ও অন্যান্য পণ্য বিক্রিও বেড়েছে। গলিতে গলিতে তাদের ভ্যান নিয়ে ঘুরতে দেখা গেছে। করোনা সতর্কতা না মেনে দোকানের সামনে অনেককে অবস্থান করতে দেখা গেছে। স্থানীয় এক লণ্ড্রি দোকানদার বলেন, ঘরে থেকে আর ভালো লাগে না, তাই সময় কাটানোর জন্য দোকানটা খুলে বসলাম। আর ঘরে খাবার নেই তাই বিড়ি-সিগারেটের দোকান খুলে বসেছেন বলে জানালেন রায়ের বাজারের সোহাগ মিয়া।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা