kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

ব্যাংকের তারল্য ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখতে উদ্যোগ

রেপো ও কলমানি মার্কেটের কার্যক্রম চালু থাকবে সীমিত পরিসরে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩১ মার্চ, ২০২০ ১৮:১৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রেপো ও কলমানি মার্কেটের কার্যক্রম চালু থাকবে সীমিত পরিসরে

করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সীমিত পরিসরে ব্যাংকিং লেনদেন চালু রয়েছে। এ সময়ে বিশেষ জরুরি লেনদেনে ব্যাংকগুলোকে তারল্য সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে। এ বিবেচনায় সাধারণ ছুটির মধ্যে সীমিত আকারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পুনক্রয় চুক্তি ব্যবস্থা (রেপো) এবং আন্তব্যাংক কলমানি মার্কেটের কার্যক্রম চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

আজ মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেট ম্যানেজম্যান্ট বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করা হয়েছে। 

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে যে সুদে স্বল্প সময়ের জন্য টাকা ধার নেয় তাকে রেপো বলে। রেপো রেট কমলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর খরচ কমে। আর রেপো রেট বেশি হলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর খরচও বাড়ে। গত ২৩ মার্চ রেপো রেট ২৫ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ করা হয়েছে; যা ২৪ মার্চ থেকে কার্যকর হয়েছে।

অন্যদিকে, নগদ টাকার সংকট হলে এক ব্যাংক অন্য ব্যাংক থেকে সাময়িকভাবে টাকা ধার নেয়। এক রাতের (ওভার নাইট) জন্য এ ধার দেওয়া হয়। ধার দেওয়া-নেওয়ার এই কার্যক্রমকে আন্তঃব্যাংক কলমানি মার্কেট বলা হয়। বর্তমানে কলমানি মার্কেটের সর্বোচ্চ সুদহার সাড়ে ৫ শতাংশ। 

গত ২৯ মার্চ পেমেন্ট সিস্টেম বিভাগ থেকে সার্কুলারে বলা হয়, জরুরি আন্তব্যাংক লেনদেনের সুবিধার্থে ৩০ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির দিনগুলোতে সীমিত সময়ের জন্য ব্যাচ চালু থাকবে। এটা উল্লেখ করে মঙ্গলবার সার্কুলারে বলা হয়, আন্তব্যাংক লেনদেনের ফলে সম্ভাব্য তারল্য ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার জন্য সীমিত আকারে পুনক্রয় চুক্তি ব্যবস্থা (রেপো) এবং আন্তব্যাংক কলমানি মার্কেট চালু রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রেক্ষিতে আগ্রহী ব্যাংকগুলো প্রয়োজনীয় ফর্ম পূরণ করে দুপুর সাড়ে ১২টার মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিসের সিকিউরিটিজ শাখায় রেপোর দরপত্র দাখিল করবে।

অন্যদিকে, আন্তব্যাংক কলমানি মার্কেটে অংশগ্রহণকারি ব্যাংকগুলো তাদের লেনদেনের বিবরণী ঐদিন দুপুর সাড়ে ১২টার মধ্যে যথানিয়মে ডেট ম্যানেজম্যান্ট বিভাগে প্রেরণ করবে। এ নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে এব পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবত্ থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, সাধারণ ছুটির মধ্যে ২৯ মার্চ পর্যন্ত চেক ক্লিয়ারিংয়ের কাজে নিয়োজিত বাংলাদেশ অটোমেটেড ক্লিয়ারিং হাউজের (ব্যাচ) কার্যক্রম বন্ধ ছিল। ফলে তখন চেক ক্লিয়ারিংয়ের প্রয়োজন হয়নি। অর্থাৎ এক ব্যাংক আরেক ব্যাংকের কাছে যায়নি। নিজের টাকা দিয়েই চলেছে। কিন্তু ৩০ মার্চ থেকে ব্যাচের কার্যক্রম চালু করার কারণে আন্তব্যাংক লেনদেন হচ্ছে। ফলে এ সময়ে ব্যাংকগুলোর ধার করার প্রয়োজন হতে পারে। এ বিবেচনায় রেপো ও আন্তব্যাংক কলমানি মার্কেটের কার্যক্রম সীমিত পরিসরে চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো ব্যাংকের টাকার প্রয়োজন বাংলাদেশ ব্যাংক বা অন্য ব্যাংক থেকে অর্থ ধার নিতে পারে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা