kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

কাঞ্চন ও মর্জিনাদের হাতে পৌঁছে যাচ্ছে ত্রাণ সামগ্রী

মোশতাক আহমদ   

৩১ মার্চ, ২০২০ ১৫:৪৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কাঞ্চন ও মর্জিনাদের হাতে পৌঁছে যাচ্ছে ত্রাণ সামগ্রী

কাঞ্চন হাওলাদার স্ত্রী চার সন্তান নিয়ে বাস করেন, রাজধানীর রুপ নগর বস্তির উত্তর পাড়ায়। বস্তির শেষ মাথায় হওয়ায় তার কাছে কেউ ত্রাণ নিয়ে যাচ্ছিল না। কখনো রিকশা কখনো বা ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। রাজধানীজুড়ে অবরুদ্ধ অবস্থার কারনে এখন আর কোনো কাজই করতে পারছেন না এই দিনমজুর। আগে দিন এনে দিন খেতেন। এখন সেই অবস্থাও নেই। আরো আছেন খিলগাওয়ে বিভিন্ন বাসায় কাজ করা বুয়া মর্জিনা আক্তার এখন আর ঘর থেকে বেরোতে পারছেন না। সরকারি ভাবেই নিষেধ করা আছে বাসায় থাকতে। আবার বাড়ি ওয়ালারা কাজের বুয়াদের নিষেধ করেছেন এই সময়ে দুরে থাকতে। তাই তাদেরও পেট চলছে না। 

তাহলে কি কাঞ্চন আর মর্জিনাদের পরিবারে ছোট ছোট সন্তানদের পেটে ভাত জুটবে না? কিন্তু না রাজধানীর এই হতদরিদ্রদের কথাও ভুলেননি জাতির জনকের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার নির্দেশেই এখন সেই দিনমজুর কাঞ্চন ও মর্জিনাদের খুঁজে খুঁজে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন ঢাকার জেলা প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তারা। 

আজ সোমবার সকালে সেই কাঞ্চন বেপারীকে খুঁজে বের করে তার হাতে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছেন ঢাকা জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। 

ঢাকা জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ঢাকার মিরপুররূপনগরবস্তিতে ২০০ পরিবার, মোহাম্মদপুর বাগবাড়ি বস্তিতে ৪০০ পরিবার এবং সবুজবাগ, কদমতলা, রাজারবাগে ৩০০ পরিবারেরমধ্যে প্রত্যেক পরিবারকে ১০ কেজিচাল, ২ কেজিডাল ও ৫ কেজি করে আল বিতরণ করা হয়েছে।  

জানতে চাইলে ঢাকার জেলা প্রশাসক আবু সালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় গত ২৬ তারিখ থেকে ঢাকা  জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে ঘুরে ঘুরে রিকশাওয়ালা, দিনমজুর, রাজমিস্ত্রী, প্রতিবন্ধীসহ প্রায় ৫০০ কর্মহীন ব্যক্তিদের মাঝে ১০ কেজি করে চাল, ২ কেজিডাল ও ৫ কেজি করে আল একটি বস্তায় করে বিতরণ করেন। মিরপুর, ফার্মগেট, কাওরানবাজার, এলিফ্যান্টরোড, নিউমার্কেট, হাতিরঝিল, ডেমরা, সদরঘাটসহ বিভিন্ন পয়েন্টে এ ত্রাণ বিতরন করা হয়। জেলা প্রশাসক জানান, এ কার্যক্রম চলমান থাকবে। 

এছাড়া ঢাকা জেলা প্রশাসক অফিসের কন্ট্রোলরুমে স্থাপিত টেলিফোনে (০১৯৮৭৮৫২০০৮, ০২৪৭১১০৮৯১) বিভিন্ন পেশার মানুষ ত্রাণের জন্য আবেদন করলে আশুলিয়া, পীরবাগ, যাত্রাবাড়ী, শহীদনগর এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দেয়া হয়। এ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

এছাড়া সদরঘাটে কর্মহীন খেয়া নৌকার মাঝিদের মধ্যে ১০০ জনকে ১০ কেজি করে চাউল, দুই কেজি করে ডাল ও পাচঁ কেজি করে আলু প্যাকেটে ভরে বিতরণ করা হয়েছে। 

সূত্র জানায়, ঢাকা মহানগরীতে অনেক মানুষ সীমীত আয়ের রেজগার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাদের এই দুঃসময়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রণালয়কে উপযুক্ত পরিমানে চাউল ও নগদ টাকা বরাদ্দ দেওয়ার নির্দেশ দিন। সেই নিদেৃশ মেনে ত্রাণ মন্ত্রণালয় গত ২৪ মার্চ ২৮ মাচ্য ও সর্বশেষ ৩০ মার্চ প্রায় ৬০০ টন চাল ও নগদ এক কোটির মত টাকা বরাদ্দ দেয়। আর এসব বরাদ্দ ঢাকা মহানগরীর হতদরিদ্রদের মাঝে হাতে হাতে পৌঁছে দেওয়ার কাজটি করছে ঢাকার জেলা প্রশাসন। তবে এই কাজে স্ব স্ব এলাকার জনপ্রতিনিধিদের সহায়তা করার আহবান জানানো হয়েছে। যাতে প্রকৃত হতদরিদ্ররাই প্রধানমন্ত্রীর এই ত্রাণ সামগ্রী পেতে পারেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা