kalerkantho

সোমবার । ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ১  জুন ২০২০। ৮ শাওয়াল ১৪৪১

বসুন্ধরা গ্রুপের সহযোগিতা পেল ২০০০ পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৯ মার্চ, ২০২০ ২০:৫৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বসুন্ধরা গ্রুপের সহযোগিতা পেল ২০০০ পরিবার

ছবি :কালের কণ্ঠ

থরে থরে সাজানো হয়েছে ছালার বস্তা। একটি কিংবা দুটি নয়, ২০০০ হাজার বস্তা। প্রতিটি বস্তায় ভরা হয়েছে আলাদা আলাদা প্যাকেট। প্যাকেটগুলোয় আছে ১০ কেজি মিনিকেট চাল, ২ কেজি মসুর ডাল, আধা কেজি আদা, ১ কেজি আলু, ২ কেজি পেঁয়াজ, আধা কেজি রসুন, ১ লিটার সয়াবিন তেল।

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটিতে (আইসিসিবি) আজ রবিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত প্রস্তুত করা হয় প্যাকেটগুলো। তার পর রবিবার বিকাল ও সন্ধ্যায় রাজধানীর বসুন্ধরা, ভাটারা, বেরাইদ, ডুমনি এলাকায় ২০০০ নিম্নবিত্তের পরিবারকে তুলে দেওয়া হয় প্যাকেটগুলো। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত নিম্নবিত্তের ২০০০ পরিবারকে এ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সহযোগিতা দিল দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিবেদিত বাংলাদেশের বৃহত্তম শিল্পপ্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপ। এ সহায়তা কার্যক্রম যতদিন করোনামুক্ত না হবে, ততদিন চলবে। 

পাশাপাশি দেশকে করোনা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে ১০ কোটি টাকা অনুদান দেয় দেশের বৃহত্তম এ শিল্পগোষ্ঠী। এ ছাড়া করোনাভাইরাস নির্মূলে ৫০০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণ করবে বসুন্ধরা। রবিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর হাসপাতাল নির্মাণের প্রস্তাব দেন। এর আগে তিনি প্রধানমন্ত্রীর করোনা মোকাবেলার তহবিলে ১০ কোটি টাকার চেক হস্তান্তর করেন।

রবিবার দুপুরে আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটিতে (আইসিসিবি) গিয়ে দেখা যায়, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর প্যাকেট প্রস্তুত করছেন বসুন্ধরা গ্রুপের কর্মকর্তরা-কর্মচারীরা। এ সময় তা তদারকি করছিলেন বসুন্ধরা গ্রুপের সিনিয়র নির্বাহী পরিচালক ইমরুল হাসান, নির্বাহী পরিচালক মাহবুবুর রহমান তুহিন, নাজমুল আলম ভুঁইয়া ও আইসিসিবির চিফ অপারেটিং অফিসার এম এম জসিম উদ্দিন। 

মাহবুবুর রহমান তুহিন বলেন, ‘বসুন্ধরা গ্রুপের মাননীয় চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের পক্ষ থেকে করোনাভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত নিম্নবিত্তের পরিবারকে সহায়তা সামগ্রী তুলে দেওয়ার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। এ কার্যক্রম চলমান থাকবে। প্রাথমিকভাবে রাজধানীর উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের ১০০০ পরিবার, ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের ৫০০ পরিবার ও ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের ৫০০ পরিবার এ সহায়তা পাচ্ছে। পর্যায়ক্রমে রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য স্থানেও সহযোগিতা করবে বসুন্ধরা গ্রুপ।’

জানা যায়, উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৪৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শরীফুল ইসলাম ভুঁইয়া, ৪২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আইয়ুব আনছার মিন্টু ও ৪০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ঢালী তাঁদের নিজ এলাকার নিম্নবিত্তের মানুষদের তালিকা প্রস্তুত করেন। এ তালিকা অনুসারে গতকাল তুলে দেওয়া হয় সহায়তা সামগ্রী। 

সরেজমিনে দেখা যায়, ট্রাক ভর্তি করে সহায়তা সামগ্রী নিয়ে যাওয়া হয় বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার, ভাটারা, ডুমনি, বেরাইদসহ আশপাশের নানা এলাকায়। তুলে দেওয়া হয় নিম্নবিত্তের পরিবারের হাতে। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরা এ সময় সহায়তা কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন। 

৪৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শরীফুল ইসলাম ভুঁইয়া বলেন, ‘দেশের নানা দুর্যোগে বসুন্ধরা গ্রুপ মানবতার পরিচয় আগেও দিয়েছে অনেকবার। এবারও তা দিল। গরিব ও অসহায় মানুষো দিন আনে দিন খায়। করোনাভাইরাসের জন্য তাদের কাজ একদম কমে গেছে। এ অবস্থায় বসুন্ধরা গ্রুপের সহযোগিতা তাদের উপকৃত করবে।’

নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী সহযোগিতা পেয়ে আপ্লুত ও অভিভূত ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্ধা শামসুল ইসলাম, জরিনা আখতার, মরিয়ম বেগমসহ নিম্নবিত্তের নানা মানুষ। মরিয়ম বেগম বলেন, ‘স্বামী নেই, দুই সন্তান নিয়ে আমি বেরাইদে থাকি। বাসা-বাড়িতে কাজ করি। এখন তা বন্ধ হয়ে আছে। হাতে কোনো টাকা-পয়সা নেই। সহায়তা পেয়ে আত্মায় পানি ফিরে পেলাম।’ 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা