kalerkantho

বুধবার । ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩ জুন ২০২০। ১০ শাওয়াল ১৪৪১

কারখানা বন্ধের বিবৃতির বিভ্রান্তিতে মালিক-শ্রমিক

এম সায়েম টিপু    

২৯ মার্চ, ২০২০ ১১:২৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কারখানা বন্ধের বিবৃতির বিভ্রান্তিতে মালিক-শ্রমিক

তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ করা নিয়ে মালিক-শ্রমিক উভয়ে বিবৃতির বিভ্রান্তিতে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। তাঁরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় কারখানা বন্ধের কোনো নির্দেশনা নেই। তবে করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি ও পরবর্তী সময়ে ভয়াবহতার আশঙ্কা বিবেচনায় নিয়ে পোশাক খাতের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ, বিকেএমই এবং কলকারখানা প্রতিষ্ঠান ও পরিদর্শন অধিদপ্তরের বিভিন্ন সময় দেওয়া কারখানা বন্ধ রাখার নির্দেশনায় তাঁদের বিভ্রান্তিতে পড়তে হয়েছে।

উদ্যোক্তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পর বিজিএমইএ কারখানা বন্ধের অনুরোধ করে। একই দিন বিকেএমইএ সরকারি সিদ্ধান্ত অনুসারে কারখানা ৪ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধের নির্দেশনা দেয়। পরের দিন আবার কলকারখানা প্রতিষ্ঠান ও পরিদর্শন অধিদপ্তর প্রয়োজনে কারখানা খোলা রাখার নির্দেশনা দেয়। এর ফলে কারখানার মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, গতকাল শনিবার পর্যন্ত প্রায় ৮০ শতাংশ পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। বড় বড় কারখানাগুলো চললেও এগুলোও আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে বন্ধ হয়ে যাবে। শিল্প পুলিশের তথ্যানুসারে, গতকাল পর্যন্ত সাত হাজার ৬০৫টি কারখানার মধ্যে পাঁচ হাজার ৮৮৭টি  কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।

জানতে চাইলে শিল্পাঞ্চল পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক আব্দুস সালাম কালের কণ্ঠকে বলেন, কলকারখানা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুসারে বেশির ভাগ কারখানা বন্ধ থাকলেও বড় কারখানাগুলো এখনো চলছে। যেসব কারখানায় কাজ নেই এমন কারখানাগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও কারখানা অধিদপ্তরের বিভিন্ন সময় বন্ধের নির্দেশনায় কারখানা বন্ধ করা নিয়ে কোনো কোনো এলাকায় শ্রমিক ও মালিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে তিনি জানান।

শ্রমিক নেতা সিরাজুল হক রনি কালের কণ্ঠকে বলেন, গত বুধবার জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ভাষণের পরদিন বিজিএমইএ তার সদস্য কারখানা বন্ধ করার অনুরোধ জানায়। এ প্রেক্ষাপটে গতকাল পর্যন্ত প্রায় ৮০ শতাংশ কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে। তবে এই সময় শ্রমিকদের মার্চ মাসের মজুরি অগ্রিম পরিশোধ করার কথা থাকলেও বেশির ভাগ কারখানাই তা করেনি। খোলা কারখানার শ্রমিকরা শনিবার অন্য কারখানার মতো বন্ধের দাবি জানায়। ফলে রাজধানীর মোহাম্মদপুর, মিরপুর, গাজীপুর ও আশুলিয়ার কয়েকটি কারখানায় শ্রমিকরা অসন্তোষ জানালে পরে কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়। কলকারখানা প্রতিষ্ঠান ও পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক শিবনাথ রায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গতকাল শনিবার সরকারি বন্ধ থাকায় কী পরিমাণ কারখানা বন্ধ হয়েছে তার কোনো হালনাগাদ তথ্য আমাদের কাছে নেই। তবে আজ রবিবার জানা যাবে বন্ধ এবং খোলা থাকা কারখানার সঠিক পরিসংখ্যান।’ তাদের নোটিশের কথা জানিয়ে তিনি আরো বলেন, গত শুক্রবার কারখানা বন্ধের যে নির্দেশনা দেওয়া হয়, তাতে কোনো মালিক বাধ্যতামূলক কারখানা খোলা রাখবেন এমনটা বলা হয়নি। তবে জরুরি প্রয়োজনে করোনাভাইরাসের জন্য সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) তৈরি করছে যেসব কারখানা তারা খোলা রাখতে পারবে।

নিট পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিকেএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম কালের কণ্ঠকে বলেন, সরকার কারখানা বন্ধ করতে না বললেও অবস্থার ভয়াবহতা বিবেচনায় নিয়ে কারখানা বন্ধের অনুরোধে মালিক ও শ্রমিকরা বিভ্রান্তিতে পড়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের অনেক কারখানার ৬০-৭০ শতাংশ কার্যাদেশ ক্রেতা বাতিল করলেও যেসব কাজ আছে সেগুলো চালিয়ে নেওয়ার উদ্যোক্তাদের একটা ইচ্ছা ছিল। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নোটিশে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এই মুহূর্তে প্রায় ৬০-৭০ শতাংশ কারখানা বন্ধ করা হয়েছে।

বিজিএমইএ পরিচালক রেজওয়ান সেলিম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কলকারখানা প্রতিষ্ঠান ও পরিদর্শন অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুসারে আমরা বেশ কিছু কারখানা চালু রাখার চেষ্টা করলেও শ্রমিকদের দাবিতে গতকাল সকাল ১১টায় প্রায় সব কারখানা বন্ধ করতে হয়েছে। আমাদের কিছু কারখানায় পিপিই কাজ চলছে। এসব কারখানা চলছে।’  কারখান বন্ধ করা হলেও বেশির ভাগ কারখানা মার্চের বেতন পরিশোধ করেনি বলে তিনি জানান। সাধারণ ছুটির পর কারখানা খোলা হলে শ্রম আইন অনুসারে আগামী ৫ থেকে ৭ এপ্রিলের মধ্যে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করা হবে বলে তিনি জানান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা