kalerkantho

সোমবার । ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ১  জুন ২০২০। ৮ শাওয়াল ১৪৪১

১৫ কোটি টাকার পিপিই দিচ্ছে বেক্সিমকো ফার্মা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৮ মার্চ, ২০২০ ১৯:৫৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



১৫ কোটি টাকার পিপিই দিচ্ছে বেক্সিমকো ফার্মা

বিশ্বব্যাপী কভিড-১৯ মহামারির দরুণ ব্যাপক প্রাণহানি ঘটছে ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর অত্যধিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশে যে সকল স্বাস্থ্যসেবা কর্মী সরাসরি কভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের সেবায় নিয়োজিত আছেন, তাদের সুরক্ষায় পিপিই (পারসোনাল প্রোটেকটিভ ইকুইপমেন্ট), ওষুধ ও টেস্ট কিট সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্পোরেট খাতের অন্যতম প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো গ্রুপ।

বেক্সিমকো গ্রুপের ফার্মাসিউটিক্যাল বিভাগ বেক্সিমকো ফার্মা ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীদের মধ্যে এসব উপকরণ বিতরণ করা শুরু করেছে। এই উদ্যোগে সহায়তা দিতে বেক্সিমকো গ্রুপ ১৫ কোটি টাকা বা ১.৮ মিলিয়ন মার্কিন ইউএস ডলার প্রদান করেছে। 

বেক্সিমকো ফার্মার ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হাসান আজ শনিবার একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র ও কভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের চিকিত্সায় সরকার নির্ধারিত হাসপাতালগুলোর প্রতিনিধিদের কাছে প্রথম ধাপের উপকরণ হস্তান্তর করেন।

বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক মিয়া সেপ্পো, আইসিডিডিআরবি’র সংক্রমণশীল রোগ বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরিচালক অধ্যাপক অ্যালেন রস, বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রতিনিধি ডা. বর্দন জং রানা, সিডিসি’র কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. মাইকেল ফ্রিডম্যান, আইইডিসিআর-এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদা সাব্রিনা ফ্লোরা ও বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবির এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

বেক্সিমকো গ্রুপের চেয়ারম্যান এ এস এফ রহমান বলেন, ‘যেকোনো ধরণের জাতীয় দুর্যোগে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে বেক্সিমকো গ্রুপ সবসময়ই বদ্ধপরিকর। কভিড-১৯ রোগের বিস্তারের সাথে সাথে যখন বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশই আক্রান্ত হচ্ছে, তখন এই মহামারির প্রভাব মোকাবিলায় আমরাও এক নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের মুখে।’

তিনি আরো বলেন, পারসোনাল প্রোটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট প্রাপ্তি নিশ্চিত করা এই মুহূর্তে একটি অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। আর বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের এই প্রয়োজনের সময় সাড়া দিতে পেরে আমরা গর্বিত। দায়িত্বশীল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমরা এই সাংঘাতিক সংকট মোকাবিলায় সরকারকে আন্তরিকভাবে সহায়তা প্রদান করা অব্যাহত রাখবো।

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, বাংলাদেশের কর্পোরেট খাত তাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা সম্পর্কে ভীষণভাবে সচেতন। এ ধরণের যেকোনো সংকট মোকাবিলায় তারা সবসময়ই জাতীয় উদ্যোগে সামিল হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি বেক্সিমকো গ্রুপের এই উদ্যোগ অন্যান্য ছোটবড় প্রতিষ্ঠানগুলোকেও তাদের সাধ্যমত এই সংকট মোকাবিলায় সরকারের সহায়তায় এগিয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ করবে।’

নাজমুল হাসান বলেন, ডাক্তার, নার্স ও রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এবং হাসপাতালের কর্মকাণ্ড যতদূর সম্ভব স্বাভাবিক রাখতে পিপিই সরবরাহ অব্যাহত রাখবে বেক্সিমকো। এ ছাড়া কভিড-১৯ রোগের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ ও সহায়তা কর্মসূচিতে বেক্সিমকো ফার্মা সম্পৃক্ত থেকেছে।

জানা যায়, বিদেশ থেকে আমদানিকৃত খুবই উচ্চমানের ‘টিওয়াইভিইকে প্রোটেকটিভ কাভারঅল’, মুখ বন্ধনী, গ্লাভস, প্রোটেকটিভ গগলসসহ এই পিপিই দুই ধাপে বিতরণ করবে বেক্সিমকো ফার্মা। প্রথম দফায় দুই পরীক্ষা কেন্দ্র অর্থাৎ আইইডিসিআর ও আইসিডিডিআরবি এবং কভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের চিকিত্সায় সরকার নির্ধারিত হাসপাতাল অর্থাৎ কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, কমলাপুর বাংলাদেশ রেলওয়ে হাসপাতাল, নয়াবাজার মহানগর জেনারেল হাসপাতাল, মিরপুর বিএভিএস মেটারনিটি হাসপাতাল, কামরাঙ্গিচর ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল, আমিনবাজার ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল, জিঞ্জিরা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল ও সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল, ঢাকায় এসব পিপিই সরবরাহ করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে সারা দেশজুড়ে ১৫০ টিরও বেশি শীর্ষস্থানীয় হাসপাতালে এই পিপিই সরবরাহ করবে বেক্সিমকো ফার্মা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা