kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৪ জুন ২০২০। ১১ শাওয়াল ১৪৪১

৩৫ টাকা কেজিতেও পেঁয়াজের ক্রেতা মিলছে না

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

২৮ মার্চ, ২০২০ ১৮:৩৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



৩৫ টাকা কেজিতেও পেঁয়াজের ক্রেতা মিলছে না

ছবি : কালের কণ্ঠ

খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে এখন কেজি প্রতি পেঁয়াজ ৩৫ টাকা দর দিয়েও ক্রেতা খুঁজে পাচ্ছেন না আড়তদাররা। অথচ এক সপ্তাহ আগেও এই পেঁয়াজের দর ছিল কেজি ৬৫ টাকা। আর এই পেঁয়াজ নিয়ে ছিল কাড়াকাড়ি। এখন তার সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে দেওয়া সাধারণ ছুটিতে পেঁয়াজ নিয়ে হাহাকার শুরু হবে; আর নিজেরা ইচ্ছে মতো দামে বিক্রি করবেন এই আশায় বিপুল পেঁয়াজ আমদানি করে আড়ত ভরিয়ে ফেলেছেন একদল ব্যবসায়ী। কিন্তু হাহাকার তো দূরে থাকা সেই পেঁয়াজ বিক্রির জন্য এখন ক্রেতা খুঁজে না পেয়ে মাথায় হাত দিয়ে বসে আছেন খাতুনগঞ্জের সেই ব্যবসায়ীরা।

বিষয়টি অস্বীকার করে খাতুনগঞ্জ কাঁচাপণ্য আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অসৎ উদ্দেশ্যে বা সংকট তৈরি করতে ব্যবসায়ীরা এই কাজটি করেনি। মূলত ভারতে লকডাউনের সময় আমদানি বন্ধ হয়ে যাবে মাথায় রেখেই বাড়তি আমদানি করেছেন। সেই আমদানির সাথে মায়ানমারের পেঁয়াজও যোগ হয়েছে। ফলে বাজারে প্রত্যেকের আড়তেই বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ রয়েছে।’

তিনি বলেন, এখন আমরা যদি দোকান বন্ধ রাখি তাহলে কেউ কেউ হয়তো সংকট দেখিয়ে দাম বাড়িয়ে দেবে; এজন্য অনেক মালিক এক দুই ঘণ্টা আবার অনেক মালিক কর্মচারী দিয়ে দোকান চালু রেখেছেন। বিক্রি সচল রেখেছেন কিন্তু ক্রেতা একেবারে নেই।

দেশের সবচে বড় পাইকারি আড়ত খাতুনগঞ্জের বেশিরভাগ আড়ত এখন বন্ধ আছে। তবে কাঁচাপণ্য বিশেষ করে আদা, রসুন ও পেঁয়াজের আড়তগুলো খোলা আছে। এ ছাড়া মুদি পণ্যের কিছু আড়ত সচল আছে। খোলা থাকা ৫০টি আদা-রসুন ও পেঁয়াজের আড়তে কর্মচারীরা অলস দিন পার করছেন। 

পটিয়া বাণিজ্যালয়ের কর্মচারী আব্বাস উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, সারাদিনে এক রিক্সায় তিন বস্তা পেঁয়াজ বিক্রি করেছি। খুচরা দোকানে ক্রেতা নেই বলে আড়তে বেচা নেই। এই অবস্থা চলতে থাকলে পেঁয়াজ পঁচে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

খাতুনগঞ্জের পাইকারি আড়তে সবচে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে ভারতের নাসিক জাতের ভালো মানের পেঁয়াজ কেজি ৩৫ টাকায়। আর ভারতীয় অন্য জাতের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজি ৩০ থেকে ৩২ টাকায়। এ ছাড়া মায়ানমারের পেঁযাজ বিক্রি হচ্ছে কেজি ৩০ টাকায়, চীনের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৬ থেকে ২৮ টাকায়। 

দাম এত কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে আড়ৎদার আবসার উদ্দিন বলছেন, এক সপ্তাহ আগে ক্রেতারা এতবেশি আদা, রসুন ও পেঁয়াজ কিনেছেন মনে হচ্ছে দেশে যুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে! একজনের দরকার তিন কেজি আর তিনি কিনেছেন আট কেজি। এভাবে একসাথে এত বেশি কিনে নেওয়ায় তখন দাম বেড়ে গিয়েছিল। ক্রেতাদের কেনা সেই পেঁয়াজ শেষ হতে আরো একমাস লাগবে। ফলে ক্রেতা না কিনলে খুচরা দোকানিরা বিক্রি করবে কাকে?

তিনি মনে করেন, খুচরা দোকানিদের কাছে থাকা পেঁয়াজ বিক্রি করতে আরো সময় লাগবে। ফলে আড়তদারদের বসে থাকা ছাড়া কোনো উপায় নেই। এখন বাংলাদেশে সাধারণ ছুটি সামনে বাড়ানোর ওপর নির্ভর করছে পেঁয়াজসহ কাঁচাপণ্যের বাজার কেমন হবে। 

এদিকে নগরজুড়ে মুদির দোকান খোলা থাকলেও গলির ভিতর দোকান ছাড়া বাকি দোকানে ক্রেতা নেই খুব একটা। কাজীর দেউড়ী কাঁচা বাজারের আল মদিনা স্টোরের মালিক নাসির উদ্দিন বলছেন, ভোক্তারা রমজানের বাজার এক সপ্তাহ আগেই করে ফেলেছেন। এখন ছোট-খাট কয়েকজন মুদি পণ্য কিনছেন। আজকে খাতুনগঞ্জ থেকে আমি ৪২ টাকা কেজিতে নাসিক জাতের সবচে ভালো পেঁয়াজ কিনে এনেছি; বিক্রি করবো ৪৫ টাকা দরে। কিন্তু ক্রেতা তো নেই। ক্রেতা আছে কেবল মাস্ক ও স্যানিটাইজারের।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা