kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২ জুন ২০২০। ৯ শাওয়াল ১৪৪১

সরেজমিন

করোনা রোধে জনশূন্য সড়কে সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা

অহেতুক ঘোরাঘুরি, প্রতিরোধ করছে পুলিশ

রেজোয়ান বিশ্বাস   

২৮ মার্চ, ২০২০ ০১:১১ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



করোনা রোধে জনশূন্য সড়কে সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা

কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে যত দূর চোখ যায় প্রায় ফাঁকা জনশূন্য সড়ক। মাঝে মধ্যে একটি মোটরসাইকেল, রিকশা আর সিএনজিচালিত অটোরিকশা এছাড়া সড়কে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু মানুষ চলাফেরা করছে। সড়ক লাগোয়া সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। দুপুরে অনেকে মসজিদে গেলেও জুমার নামাজ আদায় শেষেই ঘরে ফেরেন তারা। তবে গলির রাস্তার আশপাশে কিছু দোকান, কাঁচা বাজারসহ ওষুধের দোকান খোলা থাকতে দেখা গেছে সরেজমিনে।

সরকারি বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠান বন্ধের দ্বিতীয় দিনে গতকাল শুক্রবার দুপুর থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত রাজধানীর রমনা, তেজগাঁও, বাড্ডা, গুলশান, বনানীসহ আরো কয়েকটি এলাকা ঘুরে এই চিত্র চোখে পড়ে। 

তবে এই পরিস্থিতিতে অপরাধ বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে মহানগরবাসী। বিশেষ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো রয়েছে চুরির আতঙ্কে। এ অবস্থায় অহেতুক ঘোরাঘুরি প্রতিরোধ করছে পুলিশ। তবে এই পরিস্থিতি সামাল দিতে আবাসিক এলাকায় কর্মরত নিরাপত্তাকর্মী ও নৈশপ্রহরীদের সঙ্গে নিয়ে দায়িত্ব পালন করছে পুলিশ। সব এলাকায় সার্বক্ষণিক টহলে রয়েছে তারা। এর মধ্যে কোনো অপরাধ সংগঠিত হলেই তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা হবে। 

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে ঘোষিত সরকারি ছুটির মধ্যে চুরি ডাকাতি ছিনতাই ঠেকাতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। গতকাল শুক্রবার সকালে ধানমণ্ডিতে নিজ বাসভবনের সামনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। 

তবে করোনাভাইরাস বিস্তার রোধে রাজধানীতে বেশিরভাগ মানুষ সচেতন হলেও কিছু মানুষ এখনো কোনো নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে রাস্তায় অহেতুক ঘোরাঘুরি করছেন। প্রয়োজন ছাড়া অহেতুক রাস্তায় ঘোরাঘুরি করা লোকজনকে দেখলেই ঘরে ফেরাতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। রাজধানীর প্রতিটি মোড়ে, গলি ও সড়কে টহল দিচ্ছে তারা। অযথা ঘোরাফেরা করতে বের হওয়া কিছু লোকজনকে লাঠিপেটা করতেও দ্বিধা করছেন না পুলিশ। এমনকি কান ধরে ওঠবসও করানো হচ্ছে। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, টহল গাড়ির পাশাপাশি হেঁটেও দায়িত্ব পালন করছে পুলিশ। গণপরিবহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকায় কোথাও বাস চলাচল করতে দেখা যায়নি। রাস্তায় কাউকে পেলেই কেন বের হয়েছেন তা জানতে চাইছেন পুলিশ। গতকাল বিকালে হাতিরঝিলে ফুটপাত ধরে এক সঙ্গে চার কিশোর হেঁটে যাচ্ছিল। এ সময় মোটরসাইকেলে টহলে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাদেরকে থামিয়ে অহেতুক রাস্তায় ঘোরাঘুরি করতে নিষেধ করে বাসায় ফিরতে বললে তারা দ্রুত বাসায় ফিরে যায়। আর যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে কেউ কিছু সময়ের জন্য সড়কে থাকলে তাদেরকে কাজ শেষ করে বাসায় ফিরতে বলছে পুলিশ। 

জানতে চাইলে সড়কে টহলে থাকা তেজগাঁও শিল্লাঞ্চল থানার এসআই এসআই মো. মুস্তাফিজ বলেন, জরুরী প্রয়োজন ছাড়া যারাই রাস্তায় অহেতুক ঘোরাঘুরি করছে তাদেরকে বাসায় যেতে বলা হচ্ছে। যদিও কাঁচাবাজার, মুদি দোকান, ওষুধের দোকান ছাড়া বাকি সবকিছু বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। তবে খাবার হোটেলের ক্ষেত্রে এ নির্দেশনা কিছুটা শিথিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা। এ বিষয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খাবার হোটেল খোলা রাখা যাবে। তবে ভেতরে খাবার পরিবেশন করা যাবে না। ক্রেতারা কেবল পার্সেল নিতে পারবেন।

এদিকে রাজধানীতে জীবাণুনাশক ছিটানো অব্যাহত রেখেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ও করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে প্রতিদিন ডিএমপির ৮টি ওয়াটার ক্যাননের মাধ্যমে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত জীবাণুনাশক ঔষধ ছিটাচ্ছে।

অযথা বাইরে আসা জনসাধারণকে ঘরে ফিরে গতকাল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়েছে। সচেতনতা বাড়ানোর জন্য ‘রোবাস্ট পেট্রোল’ দিয়ে তেজগাঁও বিভাগের পুলিশ, র‌্যাব-২ ও আর্মড ফোর্সের সদস্যরা প্রায় ৪০টি গাড়ি নিয়ে এই সমন্বিত টহল দিয়েছে। গতকাল বিকাল ৪টার দিকে ডিএমপির তেজগাঁও উপ-কমিশনারের কার্যালয় থেকে যাত্রা শুরু করেন তারা।

শ্যামলী, আদাবর, শেখেরটেক, মোহাম্মদপুর, আসাদগেট, মানিক মিয়া এভিনিউ, জাহাঙ্গীর গেট, মহাখালী, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, হাতিরঝিল, রামপুরা, মগবাজার, ফার্মগেট, পান্থপথ, গ্রীন রোড হয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় পেট্রোল শেষ হয়।

সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বলেন, করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে সবাইকে সচেতন করছে পুলিশ। কেউ যেন রাষ্ট্রীয় নির্দেশনা না মেনে প্রয়োজন ছাড়া সড়কে না থাকেন সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে। এছাড়া এই পরিস্থিতিতে অপরাধিরা যেন তত্পর হতে না পারে সেদিকে কঠোর নজরদারি রয়েছে পুলিশের।

ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদার কালের কণ্ঠকে বলেন, কোনো কারণ ছাড়াই এখনো অনেক মানুষ বাইরে ঘোরাঘুরি করছে। মাইকিং করে মানুষকে ঘরে ফেরার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। 

র‌্যাব-২-এর কোম্পানির কমান্ডার মুহম্মদ মহিউদ্দিন ফারুকী বলেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি কেউ যাতে অযথা ঘোরাফেরার মাধ্যমে আইন ভঙ্গ না করে সেজন্য আমরা সতর্ক করে দিয়েছি।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ সবার ঘরে অবস্থান নিশ্চিত করতে গত বৃহস্পতিবার থেকে আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ ও ১০ দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা