kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

করোনাভাইরাস : বিপদে কাঁচা পণ্য উৎপাদকরা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৭ মার্চ, ২০২০ ০৯:২১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনাভাইরাস : বিপদে কাঁচা পণ্য উৎপাদকরা

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের কারণে 'লকডাউন' পরিস্থিতিতে বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে পচনশীল খাদ্য পণ্যের উৎপাদক ও ব্যবসায়ীরা। সরকারি নির্দেশনায় পচনশীল খাদ্যপণ্য পরিবহন নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হলেও তাদেরকে পণ্য বাজারজাত করতে পদে পদে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে।

গণপরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জেলা শহর থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা সবজি কেনার জন্য আসতে পারছেন না।

ফরিদপুরের কানাইপুর উপজেলার শোলাকুন্ডু গ্রামের সবজি চাষি কলম চকদার অর্ধেক দামেও তার সবজি বিক্রি করতে পারছেন না। তিনি বলেন,"বাজারে পণ্য দেয়ার পর দেখি লোকজন নাই। দাম একেবারে পড়ে গেছে। ছয়শ টাকার মাল বেচলাম তিনশ টাকায়। গরমকালে সবজি রাখলেও তো পচে যাবে।"

তিনি বলেন, "পাইকাররা জানে যে তারা বিক্রি করতে পারবে না। রাস্তায় গাড়ি নাই আসতেও পারছে না। তো অর্ধেক দামেও কিছু কিনছে না। এমনি এমনি সবজি দিয়ে দিচ্ছি মানুষকে। কি করবো?"

এদিকে দেশের বিভিন্ন স্থানে তরল দুধ উৎপাদকরাও বড় ধরণের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কেননা সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে সব ধরণের রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখতে হবে।

কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন এই রেস্তোরাঁর আওতায় মিষ্টির দোকানগুলো বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। যার একটা বড় প্রভাব পড়েছে তরল দুধের বাজারে।

বাংলাদেশে উৎপাদিত মোট দুধের প্রায় ৮৪% বিভিন্ন মিষ্টি দোকানে ও বাসাবাড়িতে সরবরাহ করা হয়।

এখন এই মিষ্টির দোকানগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২০ থেকে ১৫০ লাখ লিটার দুধ অবিক্রীত থেকে যাচ্ছে, যার বাজার মূল্য প্রায় ৫৭ কোটি টাকা।

এই হিসাব দিয়েছেন বাংলাদেশ ডেইরি ফারমার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি মো. ইমরান হোসেইন। তিনি বলেন, "সরকারি সার্কুলারে বলা হয়েছে যে দুধ বা দুগ্ধ জাতীয় পণ্য যাতায়াতে বা পণ্য বিক্রি করতে কোন অসুবিধা হবে না। কিন্তু সমস্যা হল মিষ্টির দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকরা দুধ বিক্রি করতে পারছেন না। এখন গরু তো প্রতিদিন দুধ দেবে। এটা তো বন্ধ করা যাবে না। প্রতিদিনের দুধ তো প্রতিদিনই বিক্রি করতে হবে। এতো দুধ তো সংরক্ষণের উপায় নেই।"

এ অবস্থায় প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে দুধ ফেলে দিতে হচ্ছে বলে তিনি জানান।

ডিম নিয়ে বিপাকে পড়েছেন খামারিরা। রাস্তায় রাস্তায় বাধার মুখে পড়ার কারণে, তারা ভোক্তার কাছে সময় মতো ডিম সরবরাহ করতে পারছেন না। এতে প্রচুর ডিম নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

এসব পণ্য পরিবহনে যে নিষেধ নেই- মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সেটা মানতে চাইছে না বলে জানান ফরিদপুরের এসোসিয়েশনের সভাপতি এবং খামারি এমএমডি জামান।

তিনি বলেন, "ধরেন আমার ফার্মের ডিমগুলো মাদারীপুরে পাঠাবো। প্রথমত, এই অবস্থায় কেউ যেতে চাবে না। আবার গেলেও মাঠ পর্যায়ের পুলিশ আটকায়। তখন উপরের লেভেল থেকে পারমিশন নিতে নিতে কাঁচা পণ্য পচে যায়।" সূত্র : বিবিসি বাংলা

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা