kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ চৈত্র ১৪২৬। ৩১ মার্চ ২০২০। ৫ শাবান ১৪৪১

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন

করোনামুক্ত থাকতে মেনে চলুন ডব্লিউএইচও'র ১০ পরামর্শ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৭ মার্চ, ২০২০ ০৯:০৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনামুক্ত থাকতে মেনে চলুন ডব্লিউএইচও'র ১০ পরামর্শ

বিশ্বজুড়ে মহামারি রূপ ধারণ করা করোনাভাইরাস নিয়ে জনমনে আতঙ্ক যত বাড়ছে, সেই সাথে ছড়িয়ে পড়েছে পরিত্রাণের নানা ফর্মুলা। ফেসবুকের মত সামাজিক গণমাধ্যমে চোখ রাখলেই প্রতিদিন এমন হাজারো পরামর্শ-তত্ত্ব চোখে পড়বে যেগুলোর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এমন কিছু ভ্রান্ত ধারণা সম্পর্কে মানুষকে সাবধান করেছে। যেমন-

গরম আবহাওয়াতেও ছড়াতে পারে কোভিড-১৯
অনেক সংক্রামক রোগ-বিশেষ করে ফ্লু, এটা শীতের মাসগুলোতেই বেশি হয়। ডিসেম্বরে প্রথম যখন চীনে করোনাভাইরাস ছড়ায় তখন দেশটিতে বেশ ঠাণ্ডা ছিল। পরবর্তীতে যেসব দেশে এই ভাইরাস ধ্বংসযজ্ঞ শুরু করে, সেগুলোর অনেকগুলোই শীতপ্রধান দেশ। ফলে একটি সাধারণ ধারণা তৈরি হয়েছে যে গরম পড়লেই এই ভাইরাস মরে যাবে। কিছু কিছু গবেষণাতেও দেখা গেছে, গরম আবহাওয়াতে নতুন এই করোনাভাইরাসের স্থায়িত্ব অপেক্ষাকৃত কম।

তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলছে, যেহেতু ভাইরাসটি নতুন সুতরাং নিশ্চিতভাবে বলা এখনও সম্ভব নয় যে গরম বা স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় এই ভাইরাস বাঁচে না। বরং এখন পর্যন্ত যেসব প্রমাণ বিজ্ঞানীদের হাতে রয়েছে, তাতে যে কোনো জায়গায়, যে কোনো আবহাওয়াতেই কোভিড-১৯ ভাইরাস বিস্তারের ক্ষমতা রাখে।

সুতরাং ডব্লিইএইচও বলছে, গরম পড়লেও আপনার উচিৎ হবে সর্বোচ্চ সাবধানতা অবলম্বন করা। মানুষের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন, বারবার হাত ধুতে হবে, এবং চোখ, মুখ বা কান স্পর্শ করবেন না।

বরফে ঢাকা পড়ে যাবে ভাইরাস
শীতপ্রধান দেশের মানুষ মনে করছেন, ভারী বরফ পড়লে হয়তো করোনাভাইরাস টিকবে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে এটা ভুল। তারা বলছে, বাইরের তাপমাত্রা যত বেশিই থাকুক না কেন আপনার শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৩৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৩৭ডিগ্রি সেলসিয়াস। সুতরাং বিভ্রান্তিতে না ভুগে সাবধানতা অবলম্বন করুন।

গরম পানিতে গোসল করোনা থেকে বাঁচার উপায়
শুধু গরম পানিতে গোসল করলেই কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ ঠেকানো সম্ভব নয় বলছে ডব্লিইএইচও। বরং বেশি গরম পানিতে গোসল করলে হিতের বিপরীত হতে পারে। গরম পানিতে গোসল নয়, সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে আপনি ভাইরাস ঠেকাতে পারেন।

রসুন খেলে সংক্রমণের ঝুঁকি কমবে
সামাজিক গণমাধ্যমগুলোতে এই ভাইরাস ঠেকাতে রসুন খাওয়ার বহু পরামর্শ চোখে পড়েছে। কিন্তু ডব্লিউএইচও বলছে, এই ধারণা ঠিক নয়। রসুন স্বাস্থ্যকর একটি খাবার যার ভেতর জীবাণুনাশক কিছু উপাদান হয়তো রয়েছে। কিন্তু নতুন এই করোনাভাইরাস ঠেকাতে রসুন কাজ করবে-এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ আদৌ নেই।

করোনাভাইরাস শুধু বয়স্কদেরই হামলা করে
এমন ধারণা ভুল। ডব্লিউএইচও বলছে, যেকোনো বয়সের লোকই নতুন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে। এটা ঠিক যে বেশি বয়স্ক লোক এবং যারা জমা, হৃদরোগ বা ডায়াবেটিসের মত রোগে ভুগছেন, তাদের ওপর এই ভাইরাসের প্রতিক্রিয়া বেশি হবে কিন্তু অল্পবয়সীরাও এই ভাইরাসে সমানভাবে আক্রান্ত হতে পারেন।

মশার কামড়ে কি করোনাভাইরাস ছড়াতে পারে?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, এখন পর্যন্ত এমন কোনো প্রমাণ বিজ্ঞানীদের হাতে নেই যে মশার কামড়ের মাধ্যমে করোনাভাইরাস একজনের দেহ থেকে অন্যের দেহে যেতে পারে। নতুন এই করোনাভাইরাস শ্বাসযন্ত্রকে আক্রমণ করে এবং আক্রান্ত মানুষের হাঁচি-কাশি, থুতুর মাধ্যমেই তা অন্যের শরীরে ঢোকে। সুতরাং কারো ভেতর এসব উপসর্গ দেখলে দূরে থাকুন।

শরীরে অ্যালকোহল বা ক্লোরিন ছিটিয়ে কি করোনা থেকে বাঁচা যাবে?
ডব্লিউএইচও'র কথায় শরীরে যদি একবার এ ভাইরাস ঢুকে যায় তাহলে শরীরে অ্যালকোহল বা ক্লোরিন ছিটিয়ে কোনো লাভ নেই। বরং তাতে চোখ বা মুখের ক্ষতি হতে পারে।

নিউমোনিয়ার টিকা কি কোভিড-১৯ ঠেকাবে?
এখন যে যে ধরনের নিউমোনিয়ার টিকা বাজারে রয়েছে, সেগুলো নতুন এই করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করে না। করোনাভাইরাসের জন্য সম্পূর্ণ নতুন টিকা তৈরির কাজ চলছে।

লবণ-পানি দিয়ে নাক ধুলে কাজ হবে
সামাজিক গণমাধ্যম এমন পরামর্শ দেখা যায়। ডব্লিউএইচও বলছে, লবণ মিশ্রিত পানি দিয়ে নিয়মিত নাক ধুয়ে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচা যায়- এমন কোনো প্রমাণ এখনো নেই।

আ্যন্টিবায়েটিক দিয়ে করোনাভাইরাস ঠেকানো বা চিকিৎসা করা যাবে?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, অ্যান্টিবায়োটিক কোনো ভাইরাসের ক্ষেত্রেই কাজ করে না। করোনাভাইরাস একটি ভাইরাস এবং এটা ঠেকাতে বা এর চিকিৎসায় কোনোভাবেই অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার ঠিক নয়।

তবে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হওয়ার সাথে সাথে যদি আপনি কোনো ব্যাকটেরিয়াতেও আক্রান্ত হন, তাহলে আপনাকে হয়তো অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হতে পারে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা