kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ চৈত্র ১৪২৬। ৩১ মার্চ ২০২০। ৫ শাবান ১৪৪১

করোনার মধ্যে শেওড়াপাড়া জামতলা এলাকায় চরম পানি সঙ্কট

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ মার্চ, ২০২০ ১৭:২৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনার মধ্যে শেওড়াপাড়া জামতলা এলাকায় চরম পানি সঙ্কট

রাজধানীসহ সারাদেশের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ছুটি চলছে। রাস্তায় মানুষ চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। করোনাভাইরাসের প্রদুর্ভাব প্রতিরোধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এমন এক সময়েরাজধানীর পূর্ব শেওড়াপাড়ার জামতলা এলাকায় বাসা-বাড়িতে ওয়াসার পানি সরবরাহ নেই।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, পূর্ব শেওড়াপাড়ার জামতলা এলাকায় মাহফুজ ক্লিনিকের পাশে রয়েছে ওয়াসার পানির পাম্প। ওই পাম্পে পানি নেই। যে কারণে এর আশে-পাশের কয়েকশ বাড়িতে পানি সরবরাহ নেই। অফিস ছুটির মধ্যে বাসাবাড়িতে অবস্থান করছেন মানুষজন। এ সময় পানির প্রয়োজনও বেশি। অথচ পানি নেই। দুর্বিসহ দিন কাটাচ্ছে এলাকার বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত প্রায় একমাস ধরেই ঠিকমত পানি সরবরাহ নেই। গত দশ-বারোদিন ধরে পানির সরবরাহ নেই বললেই চলে। মাঝে মাঝে পাঁচ-দশ মিনিটের জন্য পানি আসে। ওই পানি কোনো কাজেই আসে না। 

স্থানীয়রা বলেন, করোনাভাইরাসের চেয়েও পানির আতঙ্ক তাদের মাঝে এখন বেশি। পানির এই চরম সংকটের মধ্যে বাড়িওয়ালা-ভাড়াটিয়ারা দিশেহারা। আত্মীয়-স্বজনের বাসায় যাওয়ার সুযোগ নেই। আশে-পাশে যে সব বাড়িতে পানি আছে, সেসব জায়গায় প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত থাকার কারণে পানি সংগ্রহ করা যাচ্ছে না।

পূর্ব শেওড়াপাড়ার জামতলা এলাকার ১০৫৪/৪-সি চৌধুরী প্যালেসের বাসিন্দা এবায়েদ চৌধুরী কালের কণ্ঠকে জানান, এলাকার কয়েশ বাড়িতে গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ওয়াসার পানির সরবরাহ নেই। সমস্য শুরু হয়েছে এক মাস আগে থেকেই। দশ-বারোদিন ধওে একটু বেশি সংকট। এক সপ্তাহ ধওে চরম সংকট। তিনি জানান, স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ওয়াসার কর্মকর্তাদেও সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান হয়নি।

এবায়েদ চৌধুরী আরও বলেন, এলাকার বাড়িওয়ালারা মিলে ওয়াসার কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। ওই আবেদনটি তারা গ্রহণ করেছেন। কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না। কেউ খোঁজই নিচ্ছে না। করোনাভাইরাসের আতঙ্কেও চেয়েও এখন পানি আতঙ্ক বেশি কাজ করছে এলাকা বাসীর মধ্যে।

ওই এলাকার বাসিন্দা হাসানুজ্জামান বিপুল বলেন, কয়েকশ বাড়িতে পানি নেই। এসব বাড়িতে বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়াদের সংক্যা কয়েক হাজার। করোনার বয়ে কেউ বাইরে বেরোচ্ছে না। এই অবস্থায় তারা কোথায় যাবে। অথচ ওয়াসার দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও কর্মচারিদেও কোনো খবর নেই।

আরেক বাসিন্দা ঔষধ ফার্মেসির মালিক নাজির আহমেদ জানান, প্রায় একমাস ধওে পানির সংকট। মাঝে মাঝে পানি আসতেছিল। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে পানির সরবরাহ নেই। তিনি বলেন ওয়াসার যে একটি পাম্প রয়েছে ওই পাম্পে পানি নেই। কিন্তু পাম্পাটি ঠিক করার কেউ নেই। টানা দশদিনের ছুটির মধ্যে সবাই বাসায় আছে। এ সময় পানিও অন্যান্য দিনের চেয়ে চাহিদা বেশি। অথচ সরবরাহ নেই।

শেওড়াপাড়ার মাহফুজ ক্লিনিকের ওই পানির পাম্পে গিয়ে সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। স্থানী আবুল কালাম জানান, মাঝে মাঝে পাম্পে কিছু পানি এলে পাম্প ছাড়া হয়। কিন্তু এখন পানি নেই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা