kalerkantho

রবিবার । ২২ চৈত্র ১৪২৬। ৫ এপ্রিল ২০২০। ১০ শাবান ১৪৪১

মোমবাতি জ্বালিয়ে ব্লগার অভিজিৎ রায়কে স্মরণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০৩:৩৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মোমবাতি জ্বালিয়ে ব্লগার অভিজিৎ রায়কে স্মরণ

বইমেলা থেকে ফেরার পথে জঙ্গি হামলায় নিহত ব্লগার অভিজিৎ রায়কে শত শত মোমবাতি জ্বালিয়ে স্মরণ করেছে গণজাগরণ মঞ্চ। এ সময় হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানান মঞ্চের কর্মীরা।

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পাশে আক্রান্তস্থলে মোমবাতি প্রজ্বলন ও ফুল দিয়ে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান শুভাকাঙ্ক্ষীরা। পাঁচ বছর আগে এই দিনে নিহত হয়েছিলেন তিনি।

এ সময় গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার, অভিজিৎ রায়ের ছোট ভাই অনুজিৎ রায়, ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি বাকী বিল্লাহ, গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক জীবনানন্দ জয়ন্ত, আকরামুল হক, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের সাধারণ সম্পাদক শম্পা বসু, ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক অণিক রায়, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি আল কাদেরী জয় প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় ফুল আর মোমবাতি দিয়ে লেখা হয় ‘অভিজিৎ হত্যার বিচার চাই’। এর সামনে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালনের মধ্য দিয়ে প্রয়াত এই লেখকের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তারা। 

ইমরান এইচ সরকার ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, 'অভিজিৎ রায়কে পাঁচ বছর আগে ঠিক এই জায়গায় নিমর্মভাবে হত্যা করা হয়েছিল। এদিনকে যদি দিবস বলতে হয় তাহলে হত্যা দিবসই বলতে হবে। কারণ তার তো কোনো মৃত্যু হয়নি। তাকে হত্যা করা হয়েছিল।'

'আজ পাঁচ বছর হয়ে গেল এখন পর্যন্ত তার হত্যার বিচার করা হয়নি। তার বাবা অজয় রায় ছেলের হত্যার বিচার দেখে যেতে পারেননি। আমরা জানি না যে, কত দিন তার বিচারের দাবিতে আমাদের এভাবে দাঁড়াতে হবে।'

অভিজিৎ রায়ের ছোট ভাই অনুজিৎ রায় বলেন, 'আসলে ভাই হারানোর বেদনা যে পায়নি তাকে বলে বোঝানো যাবে না। দুঃখজনক ঘটনা হলো, আমি ভাই হারিয়েছি, মা হারিয়েছি এবং কিছুদিন আগে বাবাকেও হারালাম। প্রতিবছর এই সময়ে সাংবাদিকসহ অনেকে ফোন করে একই প্রশ্ন করে। তাদের একই প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে আমিও যেন বিরক্তির মধ্যে রয়েছি। এতদিন পরও এ হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি।

'বিচার অতি দ্রুত হলে একটু শান্তি পাব। তবে আপনারা যেন অভিজিৎ রায়কে ভুলে না যান। তার আদর্শের মাধ্যমে তাকে স্মরণ রাখবেন, আপনাদের প্রতি এটাই প্রত্যাশা থাকবে।'

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে বইমেলা থেকে বেরিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় টিএসসির সামনে আসার পর অভিজিৎ রায় ও তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যার ওপর হামলা হয়। ঘটনাস্থলেই মারা যান অভিজিৎ। গুরুতর আহত হন বন্যা। ওই ঘটনায় অভিজিতের বাবা শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা