kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ কার্তিক ১৪২৭। ৩০ অক্টোবর ২০২০। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বললেন

এভিয়েশন খাতের ‘চুরি’ ঠেকাতে নানা চাপ আসছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২২:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এভিয়েশন খাতের ‘চুরি’ ঠেকাতে নানা চাপ আসছে

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মহিবুল হক বলেছেন, 'এখনো সিভিল এভিয়েশন, বিমানসহ বিভিন্ন দপ্তরে দুর্নীতি, অস্বচ্ছতা আছে। এগুলো দূর করতে গিয়ে আমাদের প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী ও আমার ওপর প্রচণ্ড চাপ আসছে। যেখানে মাসে শত শত কোটি টাকা ‘চুরি’ হয়, আমরা সেই চুরি ধরছি বলে দুর্নীতিবাজরা আমাদের সরাতে তত্পর। শুধু মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কারণে আমরা এখনো টিকে আছি।'

আজ শনিবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে মো. মহিবুল হক এসব কথা বলেন। 

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং ভ্রমণ ম্যাগাজিনের যৌথ আয়োজনে ‘বাংলাদেশের পর্যটন : সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী।  

মো. মহিবুল হক বলেন, ‘আপনারা কেউ অনুমান করতে পারবেন না, আমাদের ওপর কী পরিমাণ চাপ আসছে। আমি যখন ঢাকার কমিশনার ছিলাম তখন সাত-আটজন এসি ল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে মামলা করেছিলাম। তখন একজন এসি ল্যান্ড বলেছিল, ঢাকার ডিসিকে ওএসডি করতে কত টাকা লাগে? সেই এসি ল্যান্ড আজও সহকারী কমিশনার রয়ে গেছে। আর তার বন্ধুরা সিনিয়র ডিএস হয়ে গেছে। এভিয়েশন খাতের দুর্নীতিবাজরাও এখন ব্যাপক তৎপর। কিন্তু আমরা তা মোকাবেলা করে সামনে এগিয়ে যাব।’ 

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের ব্ল্যাংক চেক দিতে চাই। আমাদের কাজেও যদি কোনো অসংগতি অনিয়ম, দুর্নীতি দেখেন, আপনার লিখবেন। মিডিয়ায় তুলে ধরবেন।’ 

প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বলেন, ‘আমরা এক বছর চেষ্টা করেছি, বিমানসহ সিভিল এভিয়েশনের অস্বচ্ছতা দূর করার। এখনো আমরা সফল হয়েছি বলব না। তবে কিছুটা সূর্যের আলো দেখা যাচ্ছে।’ 

পর্যটন খাতকে প্রতিযোগিতার বাজার উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যেখানে পণ্য বেশি, ক্রেতারা সেখানেই আসবে। ইচ্ছা করলেই সুইজারল্যান্ডের একজন পর্যটককে ধরে নিয়ে আসা সম্ভব নয়। আমাদের আগে মানসিকতার পরিবর্তন হওয়া দরকার।’ 

তিনি বলেন, ‘একজন পর্যটকের চাহিদার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। আমরা যা খাই না, তা যদি একজন বিদেশি পর্যটক চান, প্রয়োজনে তারও ব্যবস্থা করতে হবে। আমাদের দেশের উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের জন্য পর্যটক আসা দরকার। আমাদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব আছে। ব্যর্থতাও আছে। আমাদের শতভাগ মনোযোগ আমরা পর্যটনে দেব। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির সাল ২০২১কে আমরা পর্যটনবর্ষ হিসেবে উদ্যাপন করার উদ্যোগ নিচ্ছি। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পাওয়ার পর এ ব্যাপারে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।’  

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকায় লন্ডনের আদলে দ্বিতল পর্যটক বাস চালু হবে। তাতে আমরা আহসান মঞ্জিল, লালবাগ কেল্লা, ছোট কাটরা, জাতীয় সংসদ ভবনসহ সব ঐতিহাসিক ও পুরাতাত্ত্বিক স্থাপনা দেখাব।’  

সেমিনারে বক্তারা বলেন, দেশে পর্যটকদের জন্য প্রকৃত অর্থে সে রকম কোনো বিনোদনের ব্যবস্থা নেই। কক্সবাজারসহ বিভিন্ন গন্তব্যে সময় কাটানোর জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ নেই। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকদের উপযুক্ত বিনোদনের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ছাড়া পর্যটকদের চলাচল ও থাকার জন্য অবকাঠামো উন্নত করতে হবে। 

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, আগামী এপ্রিল থেকে সরাসরি সিলেট-লন্ডন ফ্লাইট চালু করা হবে। সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে ৯১২ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে ডিজাইনার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কক্সবাজার বিমানবন্দর ২৪ ঘণ্টা চালু রাখার জন্য এর রানওয়েসহ সার্বিক লাইটিং সিস্টেমের উন্নয়ন করা হচ্ছে। অতি দ্রুত কক্সবাজার থেকে ২৪ ঘণ্টা ফ্লাইট পরিচালনা করা যাবে।

ভ্রমণ ম্যাগাজিনের সম্পাদক আবু সুফিয়ানের উপস্থাপনায় সেমিনারে আরো বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাবেদ আহমেদ, পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান রাম চন্দ্র দাস, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মোকাব্বির হোসেন, ট্যুরিস্ট পুলিশের ডিআইজি মল্লিক ফখরুল ইসলাম, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান মো. সবুর খান, গ্লোবাল টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নওয়াজিশ আলী খান প্রমুখ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা