kalerkantho

শনিবার । ২১ চৈত্র ১৪২৬। ৪ এপ্রিল ২০২০। ৯ শাবান ১৪৪১

একুশে রাত আজ

রাজধানীর অলিগলিতে ফুলের ডালি তৈরির হিড়িক

মোশতাক আহমদ   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২০:২৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজধানীর অলিগলিতে ফুলের ডালি তৈরির হিড়িক

'কি ভাই আর কত সময় লাগবে। স্যার এইতো দিয়ে দিচ্ছি।' কথাগুলো বলেই ফুল ব্যবসায়ী কয়েকটি ফুলের তৈরি ডালি এগিয়ে দিলেন। আগত লোকটি ব্যবসায়ীর হাতে একমুঠো টাকা গুজে দিয়ে ডালিগুলো নিয়ে চলে গেলেন। জানতে চাইলে বললেন, তিনি ঢাকা সিটি কর্পোরেশন দক্ষিণের ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল আউয়ালের অনুসারী। রাতে একুশের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পরে তারা আওয়ামী লীগের ও ওয়ার্ড কাউন্সিলরের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পণের জন্য ডালিগুলো অর্ডার দিয়ে বানিয়ে নিয়েছেন। 

এতো গেলা ফুল ব্যবসায়ী শরীফের কথা। শরীফের মত আরো আছেন আজগর, আলামিন, জায়েদ, মুনীর, আলমগীরসহ অর্ধডজন ফুল ব্যবসায়ী ও তাদের নিয়ন্ত্রণে আছেন শতাধিক মহিলা-পুরুষ কর্মচারী। তারা সবাই ফুলের ডালি তৈরিতে ব্যস্ত। 

দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এসব ফুলের ডালি তৈরির কর্মকাণ্ড পথচারীরা দেখছেন। এটি সচিবালয়ের কাছাকাছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের উল্টোপাশের ফুটপাতের দৃশ্য। সেখানে দেখতে গিয়ে দেখাগেল কার্জন হলের উল্টোপাশের পুরো ফুটপাত দখল করে চলছে ফুলের ডালি বানানোর কাজ। আর সারি সারি সাজানো ফুলের তৈরি ডালি। 

খোরশেদ আলম নামে ফুল ব্যবসায়ী কালের কণ্ঠকে জানান, তিনি আজ সতের বছর ধরে এই ফুল ব্যবসায় জড়িত। প্রতি বছর একুশে রাত আসলেই তাদের কাজের অর্ডারের ধুম পড়ে যায়। ১৯ তারিখ রাতে তাদের কর্মকাণ্ড বাড়তে থাকে। এর আগে কয়েকদিন তারা ফুল সংগ্রহে ব্যস্ত থাকেন। কিনে আনেন গোলাপ, গাধা, বাচুনিসহ নানান ফুল ও গাছের পাতা। যা দিয়ে ডালি তৈরি করে তাতে থরে থরে ফুল সাজিয়ে বিক্রি করেন। 

দাম বিষয়ে জানতে চাইলে সুনির্দিষ্ট করে তিনি কিছু না জানিয়ে বলেন, বছরের এই সময়টা তাদের লাভের চেয়ে আনন্দটা বেশি। কারণ দেশের যেসব ভাষা বীরদের তারা কখনো দেখেননি তাদের স্মরণন করে রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের লাখো মানুষ। প্রতিটি পাড়া মহল্লায় যেন একটি আনন্দ ও শোকের পরিবেশ বিরাজ করে। 

আমজাদ নামক আরেক ফুল ব্যবসায়ী জানান, তিনি এবার চারশ ফুলের ডালির অর্ডার পেয়েছেন। এর মধ্যে অর্ধেকের কাজ প্রায় শেষ করেও ফেলেছেন। তবে আরো ঘণ্টা চারেক লাগবে তার ওই অর্ডার সরবরাহ দিতে। 

তিনি জানান, মুন্সিগঞ্জে তার নিজ জেলা। ছোট বেলায় প্রাইমারি স্কুল পার হতে না পেওে ঢাকায় এসে প্রথমে গাড়ির গ্যারেজে মহাখালিতে কাজ করতেন। গত বছর দুই হলো তার এক আত্মীয়কে নিয়ে ফুটপাথে ফুলের ব্যবসা করছেন। তারা সারা বছর ফুল ও ফুলের মালা বিক্রি করেন। বিভিন্ন বয়সের লোকজন একুশের রাতের তাদের কাছ থেকে ফুলের তোড়া, কেউ আবার ডালি নিয়ে যান। তবে দাম নিয়ে তারা তেমন দরকষাকষি করেন না কারণ ফুল বিক্রিতে খুব একটা লাভ হয় না। বিক্রি বাড়লে লাভও বাড়ে। 

জানা গেছে, রাজধানীর দোয়েল চত্বর শাহবাগের পরে একটি ফুল কেন্দ্র হয়ে পড়েছে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের এক প্রান্তে শাহবাগ আর আরেক প্রান্তে দোয়েল চত্বর। এই দুই স্থান দিয়েই জনগণ ফুল দিতে শহীদ মিনারে প্রবেশ করে। তবে পুলিশের একটি বিশেষ নির্দেশনাও তাদের এই ক্ষেত্রে মানতে হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা