kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ চৈত্র ১৪২৬। ৩১ মার্চ ২০২০। ৫ শাবান ১৪৪১

আবারও ভাঙনের মুখে বাসদ!

তৈমুর ফারুক তুষার   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২১:১৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আবারও ভাঙনের মুখে বাসদ!

দল ভাঙন যেন পিছু ছাড়েই না বাসদের। ১৯৮০ সালে এ বাম দলটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে কয়েক দফা ভাঙনের পর এখন আবারও ভাঙনের মুখে। ৭ বছর আগে গড়ে তোলা মুবিনুল হায়দার চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বাসদ (মার্কসবাদী) এর কেন্দ্রীয় নেতারা দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। ইতোমধ্যে এক প অপর পরে ১৬ জন নেতাকে বহিষ্কার করেছে। বহিষ্কার হতে যাচ্ছেন দলটির প্রভাবশালী নেতা শুভ্রাংশু চক্রবর্তীও। ফলে দলটির ভাঙ্গণ এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

জানতে চাইলে বাসদ (মার্কসবাদী) সাধারণ সম্পাদক মুবিনুল হায়দার চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এটাকে দলে ভাঙন বলা যায় না। কিছু কর্মী সংগঠক কার্য পরিচালনা কমিটির সদস্য শুভ্রাংশুর নেতৃত্বে দলের অভ্যন্তরে দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে যে- আমাদের দল একটি পেটি বুর্জোয়া দল। যদি তারা এটাকে পেটি বুর্জোয়া দল বলে তাহলে তো তারা এ দল করতে পারে না। যারা একটি বিপ্লবী দলকে পেটি বুর্জোয় দল মনে করে তাদের সঙ্গে তো আমরা রাজনীতি করতে পারব না। আমরা তাদেরকে অনেক সময় দিয়েছি, বোঝাবার চেষ্টা করেছি, তাদের চিন্তা ভাবনা প্রকাশ করার সুযোগ দিয়েছি, কর্মীসভা করেছি। মতপ্রকাশের কোনো বাধা দেইনি। তারপরও তারা তাদের ভুল বক্তব্য, অমার্কসবাদী চিন্তা থেকে সরে আসেনি। তারা আমাদের সমস্ত কমরেডদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছিল। ফলে আমরা তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেই। তারা সন্তোষজনক উত্তর না দেওয়ায় বহিষ্কার করা হয়।’

বহিষ্কার করা ১৬ জনের মধ্যে শুভ্রাংশ চক্রবর্তীর নাম না থাকার প্রসঙ্গে মুবিনুল হায়দার বলেন, ‘শুভ্রাংশু চক্রবর্তীকে বলেছিলাম, আপনি চলমান সংকট সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কোথাও মিটিং করবেন না। কিন্তু তিনি তা করছেন। ফলে তাকেও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ৭দিনের মধ্যে তাকে জবাব দিতে হবে। এরপর তিনি যদি ভুলভ্রান্তি স্বীকার করে উত্তর না দেয় তবে তাকেও বহিষ্কার করব।’

জানতে চাইলে বাসদের কেন্দ্র্রীয় সদস্য শুভ্রাংশু চক্রবর্তী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা সারাদেশে পার্টি কমরেডদের কাছে যাব, দলের অভ্যন্তরীণ যে পরিস্থিতি তা ব্যাখ্যা করব। যেহেতু কেন্দ্রীয় কমিটিতে ওনারা (মুবিনুল হায়দার ও তার অনুসারীরা) সংখ্যাগরিষ্ঠ সুতরাং তারা যাকে খুশি বহিষ্কার করতে পারেন। আমাদের কমরেডরা খুব সহজ একটি দাবি তুলেছে। তারা বলেছে, যেহেতু এতদিন ধরে একটি বিপ্লবী পার্টি গড়ে ওঠে নাই সেজন্য বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে দিয়ে সঠিক পদ্ধতিতে একটি বিপ্লবী দল গড়ে তুলি। এটাই হয়েছে কমরেডদের অপরাধ। আমরা একটি বিপ্লবী পার্টি গড়ে তোলার জন্য মুবিনুল হায়দারদের সঙ্গে একসাথে কাজ করতে চেয়েছি। কিন্তু তারা বিষয়টিকে অন্যভাবে নিলেন। তারা মনে করলেন আমরা পার্টি বিরোধী কাজ করছি।’

আরেক দফা বাসদ ভাঙ্গার প্রসঙ্গে শুভ্রাংশু চক্রবর্তী বলেন, ‘আমরা যারা একসঙ্গে কাজ করছি তারা এটার জন্য খুবই দুঃখিত। আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করতে পারতাম কিন্তু সেটা না করে ওনারা যে পদপে নিলেন তা আসলে আমাদের দলকে ভাঙনের মুখে ঢেলে দিল। এটা বাংলাদেশে বামমনা যে মানুষগুলো আছে তাদের মধ্যে একটি বিরুপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করল। কিন্তু আমাদের করার কিছু নাই। আমরা তো বেড়িয়ে আসি নাই। আমরা ওখানে থেকেই লড়াইটা করতে চেয়েছি। কিন্তু আমরা পারলাম না। এটা আমরা জনগণকে বলব এবং তাদের কাছে মা চাইব।’

বাসদের সূত্রগুলো জানায়, ভারতের মার্কসবাদী তাত্ত্বিক শিবদাস ঘোষের চিন্তাধারার ভিত্তিতে দল পরিচালনা করা নিয়েই বাসদের অভ্যন্তরে বর্তমানে মতাদর্শগত তীব্র দ্বন্দ্ব রয়েছে। এ দ্বন্দ্বের কারনেই ২০১৩ সালে খালেকুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন বাসদ থেকে বেড়িয়ে আলাদা বাসদ করেন মুবিনুল হায়দার চৌধুরী ও শুভ্রাংশু চক্রবর্তী। কিন্তু তাদের মধ্যেও একই ইস্যুতে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এরই ফলশ্রুতিতে আবারও ভাঙ্গণের মুখে পড়ছে দলটি।

সোমবার বাসদ (মার্কসবাদী) থেকে ১৬ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। তারা হলেন, দলিলের রহমান দুলাল, মনজুর আলম মিঠু, অপু দাশগুপ্ত, সুশান্ত সিনহা, আজিজুর রহমান, আমিনুল ইসলাম, মাহাবুব আলম রুবেল, সত্যজিৎ বিশ্বাস, রুহুল আমিন, জান্নাতুল ফেরদৌস, সামসুল আলম দুলু, পূরবী চক্রবর্তী, মাছুমা আল মাহবুবা, তরিকুল আলম, জাহেদ আহমেদ টুটুল ও মশিউর রহমান খোকন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা