kalerkantho

শনিবার। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৫ ডিসেম্বর ২০২০। ১৯ রবিউস সানি ১৪৪২

সেই ভাইরাল ছবি প্রসঙ্গে যা বললেন মেয়র নাছির

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১২:৩৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সেই ভাইরাল ছবি প্রসঙ্গে যা বললেন মেয়র নাছির

ফাইল ছবি

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়সভা করেছেন বর্তমান মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন এসব কথা বলেন। এবারের সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে মনোনয়ন না পাওয়ার পেছনে 'ষড়যন্ত্র' রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। সেইসঙ্গে বঙ্গবন্ধুর খুনির আত্মীয়ের সঙ্গে তাঁর যে ছবিটি ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে, সে প্রসঙ্গে কথা বলেন মেয়র।  

মেয়র বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনির আত্মীয়ের সঙ্গে ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে ‘মিথ্যাচার অপপ্রচার ও অপরাজনীতি’ করা হয়েছে। বললে মেয়র পদ এমনিতেই ছেড়ে দিতাম, এত মিথ্যাচার, অপপ্রচার ও অপরাজনীতির তো কোনো দরকার ছিল না। আমি পুরোপুরি ষড়যন্ত্রের শিকার। কেউ যদি আমার কাছে এসে বলত, ভাই আমার মেয়রের পদ দরকার আছে, তুমি সরে যাও, আমি তো স্বেচ্ছায় ছেড়ে দিতাম।

বঙ্গবন্ধুর খুনির আত্মীয়ের সঙ্গে ছবি ফেসবুকে ছড়ানোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যেখানে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিরুদ্ধে জীবন বাজি রেখে আমি সংগ্রাম করেছি, আমৃত্যু বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে রাজনীতি করছি। ব্যক্তিগতভাবে আমার কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। রাজনীতিকে আমি এবাদত হিসেবে নিয়েছি, এখনো পর্যন্ত আমি জননেত্রী শেখ হাসিনার জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজনীতি করছি, সেই জায়গায় ছোট্ট একটি মেয়র পদের জন্য এত কিছু করা হলো। আমার কাছে মেয়র পদটা তো বড় নয়, রাজনীতিটাই আমার কাছে বড়। 

গতকাল মতবিনিময়সভায় ওই ছবির বিষয়ে মেয়র নাছির বলেন, তিন দিন আগে আমাকে একটি ছবি দেখানো হলো। সেখানে দেখলাম, একটি ছবিতে গোল চিহ্ন করা হয়েছে, পাশে একরাম খান নামে একটি ছেলে। সে ১৯৯৪ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি ছিল। ছাত্রলীগের শাহজাহান-কলিম কমিটির এক নম্বর সহসভাপতি ছিল। সে এখন তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায় একটি কলেজের অধ্যক্ষ।  সেখানে থানা আওয়ামী লীগের মেম্বর এবং বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি।

আমি তাঁকে চিনি এভাবে, আমার চরম দুঃসময়ে একজন ব্যাংকারের মাধ্যমে, যিনি তাঁর সঙ্গে একই কমিটিতে ছিলেন। দুঃসময়ে একদিন রাতে একরামের বাড়িতে গিয়ে একনাগাড়ে প্রায় দেড়-দুই মাস একটি কক্ষে ছিলাম, সূর্যের আলোও দেখিনি। কক্ষটিতে সব সময় তালা মারা থাকত। শুধু ভাত-নাশতার সময় সেটা দিয়ে যেত। সেভাবেই যোগাযোগ, যোগ করেন নাছির। 

ছবি তোলার ব্যাপারে তিনি বলেন, চট্টগ্রামে তার (একরাম) একটা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছিল। একদিন আমাকে এসে বলল, আমার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটি আপনি একটু উদ্বোধন করে দেন। আমি জাস্ট ওকে চিনি, সে হিসেবেই নগরীর অক্সিজেনের ওখানে গিয়ে একটা কেক কেটে চলে এসেছি। আমার পাশে কে দাঁড়িয়েছে, না দাঁড়িয়েছে আমি দেখিওনি। ছবিতে আরেকটা যেটা বলা হচ্ছে শাহরিয়ার রশীদ খানের ভাই, তাকে আমি চিনিও না, জীবনে কোনো দিন দেখিওনি। সেই লোকের পাশে দাঁড়ানোর ছবি কিভাবে এসেছে, সেটা যাঁরা ছড়িয়েছেন, তাঁরাই বলতে পারবেন। আমি শুধু এতটুকু বলতে পারি, তাঁর সঙ্গে আমার বিন্দুমাত্র  কোনো সম্পর্ক, যোগাযোগ, দেখা-সাক্ষাৎ নেই।

তিনি বলেন, আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী। স্কুলজীবন থেকে রাজনীতি করি। খেলাধুলার জগতে ছিলাম। পুরোপুরি ওই দিকে চলে যেতে পারতাম। কিন্তু রাজনীতিকে প্রাধান্য দিয়েছি। সুসময়ে নয়, দুঃসময়ে রাজনীতি করেছি। ১৯৭৫-এর পর সর্বপ্রথম চার-পাঁচজন মিলে চট্টগ্রাম কলেজে মিছিল করে প্রতিবাদ জানিয়েছি। স্রোতের প্রতিকূলে সেই থেকে পথচলা শুরু। অনেকবার মৃত্যুর মুখে পড়েছি। আমি যে বেঁচে আছি সেটাই মিরাকল। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা