kalerkantho

শুক্রবার । ২০ চৈত্র ১৪২৬। ৩ এপ্রিল ২০২০। ৮ শাবান ১৪৪১

সাধারণ আলোচনায় বিরোধী দলীয় উপনেতা

সংসদে ভোটের সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা প্রবর্তনের প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০২:২৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সংসদে ভোটের সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা প্রবর্তনের প্রস্তাব

জাতীয় নির্বাচনে ভোটের সংখ্যানুপাতে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করেছেন বিরোধী দলের উপনেতা জি এম কাদের। তিনি বলেছেন, পৃথিবীর বহু দেশে সংখ্যানুপাতিকহারে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের পদ্ধতি চালু আছে। এই পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে যে দল শতকরা ২০ ভাগ ভোট পাবে, সেই দল সংসদের মোট আসনের ২০ ভাগ অর্থাৎ ৬০ জন সংসদ সদস্য পাবে। 

গতকাল রবিবার রাতে জাতীয় সংসদ অধিবেশনের রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই প্রস্তাব করেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে তিনি আরো বলেন, গণতন্ত্রের জন্য প্রয়োজন সুষ্ঠু নির্বাচনী ব্যবস্থা। এ ব্যবস্থায় অনিয়মের সুযোগ ও সম্ভাবনা কম। এতে নির্বাচনী ব্যবস্থায় কোনো সমস্যা হবে না। বরং নির্বাচনী ব্যবস্থা সুসংসহত হবে।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে থাকা বাধ্যবাধকতার কথা উল্লেখ করে জি এম কাদের বলেন, আমরা এই অনুচ্ছেদটি পুরোপুরি বাতিল হোক এটা চাই না। তবে সংসদীয় ব্যবস্থার যে পদ্ধতি আমাদের দেশে চালু আছে সেটা সংসদে সরকারি দলের সদস্যদের সরকারি কর্মকাণ্ডের কোনো বিষয়ে বিরোধীতা কিংবা সরকারের বাইরে ভোট প্রদানের কোনো সুযোগ নেই।

সংসদীয় পদ্ধতির সরকারের মূল কেন্দ্রবিন্দু হবে জাতীয় সংসদ। কিন্তু এখানে সেক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে। ওয়েস্ট মিনিস্টার পদ্ধতির সরকারে সরকারি দলের শুধু মন্ত্রীরা ছাড়া বাকি সব সদস্য, বিরোধী দলের সদস্য সবাই সরকারের যেকোনো বিষয়ে সমালোচনা এবং বিপক্ষে ভোট দিতে পারে। শুধু মন্ত্রীরা পারে না। বাজেট, অভিশংসন ছাড়া অন্যান্য বিষয়ে বিরোধী দলের সদস্যদের পাশাপাশি সরকারি দলের সদস্যরাও যাতে বিপক্ষে ভোট দিতে পারে সেই ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তাহলে সংসদ কার্যকর হবে।

বিরোধী দলের উপনেতা বলেন, সংসদে সমালোচনা হলে সংসদ প্রাণবন্ত হয়। বিরোধী দলের সদস্যরা কোনো বিষয়ে কোনো সুপারিশ মেনে নেওয়া হলে তা সংসদকে কার্যকর করে। এই মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা বেকারত্ব। এই বেকারেত্বের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে কর্মের উপযোগী করে ঢেলে সাজানো হলে বেকার সমস্যা কিছুটা হলেও দূর হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। 

মাদকের মারাত্মক ছোবল নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, যেভাবে মাদক ছড়িয়ে পড়ছে তা সত্যিই আশঙ্কাজনক। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালনা হচ্ছে, কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতা থাকায় অভিযান সফল হচ্ছে না। তিনি জনসংখ্যা সমস্যার দ্রুত সমাধানের আহবান জানান।

রাজনৈতিক দলগুলোকে একসঙ্গে বসার আহবান : নির্বাচনকে অর্থবহ করতে রাজনৈতিক দলগুলোকে একসঙ্গে বসার আহবান জানিয়েছেন বিরোধীদল জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। একই আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনই গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি। তাই ভোটের প্রতি মানুষের অনিহা দূর করতে সকলে একত্রে বসে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। 

ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম বলেন, বিশ্বে বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্নত দেশ নয়, বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ক্রমাগতভাবে প্রবৃদ্ধির হার বৃদ্ধি বিশ্বের বড় বড় দেশগুলোও ধরে রাখতে পারেনি। দেশের এই উন্নয়নের ধারা ধরে রাখতে হবে। জনশক্তি থেকে বিপুল সংখ্যক রেমিট্যান্স আসছে, তাই প্রণোদনা দিয়ে হলেও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হবে। আর উন্নয়নকেও টেকসই করতে হবে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা