kalerkantho

শনিবার । ১০ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৮ জমাদিউস সানি ১৪৪১

রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনা

ষড়যন্ত্রের পথ ছেড়ে গণতন্ত্রের পথে ফিরে আসার আহবান

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৮ জানুয়ারি, ২০২০ ২২:২৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ষড়যন্ত্রের পথ ছেড়ে গণতন্ত্রের পথে ফিরে আসার আহবান

রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে সাধারণ আলোচনায় সরকারি দলের সিনিয়র সংসদ সদস্যরা বিএনপি’র বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেছেন। তারা দেশ ও জনগণের স্বার্থে ষড়যন্ত্রের পথ ছেড়ে গণতন্ত্রের পথে ফিরে আসার আহবান জানিয়েছেন।

আজ মঙ্গলবার রাতে সংসদ অধিবেশনে ওই আলোচনায় অংশ নেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বি মিয়া। আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামী লীগ সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু, সরকারি দলের আবদুল হাই, এস এম শাহজাদা ও নাজিম উদ্দিন আহমেদ এবং বিরোধী দল জাতীয় পার্টির ডা. রুস্তম আলী ফরাজী।

আলোচনায় মতিয়া চৌধুরী মুজিববর্ষে জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, বিএনপি মানেই হচ্ছে ’বাংলাদেশ নাও পাকিস্তান’। এ দলটি গঠন করে জিয়া পাকিস্তানকে জানিয়ে দিল, তারা পরাজিত দেশটির সঙ্গেই আছে। দেশকে পাকিস্তানের পথেই নিয়ে যাবেন। তিনি বলেন, ক্যাসিনোর প্রতিষ্ঠাতাই হচ্ছেন জিয়াউর রহমান।

জাতির পিতা দেশে মদ-জুয়া নিষিদ্ধ করেছিলেন। কিন্তু বিসমিল্লাহ বলে সেই মদ-জুয়া ও লাকি খানের ঝাঁকি নৃত্যর প্রথম লাইসেন্স দেয় জিয়াউর রহমান। আর তার পুত্র লন্ডনে পলাতক থাকা তারেক রহমানও তার আয়ের উৎস্য হিসেবে ক্যাসিনো থেকে আয় দেখিয়েছে। তিনি আরো বলেন, বন্দুকের নলে ক্ষমতায় আসা, বন্দুকেই বিনাশ। হত্যার মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা জিয়াউর রহমানকে সেই পথেই যেতে হয়েছে। বিএনপি যখনই ক্ষমতায় এসেছে তখনই নির্বিচারে মানুষকে হত্যা করেছে।

বিএনপি-জামায়াত জোটের অগ্নিসন্ত্রাসের কথা তুলে ধরে মতিয়া চৌধুরী বলেন, ন্যায়ের পথে রাজনীতি করুন। ডাক্তার যখন ভুল করে একটা রোগী মারা যায়, আর নেতা যখন ভুল করে, তখন সেই দল ছত্রখান হয়ে যায়। আর হাজার হাজার মানুষ দুর্ভোগে নিপতিত হয়। যেটি খালেদা জিয়া অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে তাঁর পার্টি এবং দেশের ভেতরে করার চেষ্টা করেছেন।

তিনি বলেন, বিএনপি অনেক নেতা এখনও পাকিস্তানের জন্য মায়াকান্না করেন, কিন্তু পাকিস্তানের সংসদে বলা হয়- হ্যামকো বাংলাদেশ বানাদো’। তাই এখনো সময় আছে বিএনপির উচিত অন্ধকারের পথ ছেড়ে আলোর পথে আসা, ষড়যন্ত্রের পথ ছেড়ে দেওয়া।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, ১৯৮৮ সালে লালদীঘি ময়দান, ২১ আগস্টসহ মোট ২১ বার হামলা চালিয়ে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রতিটি হামলার সময় তিনি কখনোই ভীত হননি, বরং অসম সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। অন্ধকারে নিমজ্জিত পুরো দেশের ঘরে ঘরে বিদ্যুতের আলো জ্বালিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর এই কন্যা।

তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে মুক্তিযুদ্ধের সময় টর্চার সেল ছিল, সেখানে পার্ক করে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এটা উচ্ছেদ করে মুজিববর্ষে সেখানে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কার্য নির্মাণ এবং চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের নাম পরিবর্তন করে মুক্তিযোদ্ধা যাদুঘর নির্মাণ করতে হবে।

ডা. রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, দেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন হচ্ছে, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু দেশে ধনী-গরীবের চরম বৈষম্য রয়েছে, এটা দূর করতে হবে। ব্যাংকের টাকা লুণ্ঠন হচ্ছে, লুটের টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে। অর্থ লুণ্ঠন করে বিদেশে সেকেন্ড হোম করছে। ধর্নাঢ্য হতে গিয়ে অনেকেই দুর্নীতিতে ডুবে গেছে।

ঘুষ বাণিজ্য, স্বজনপ্রীতি, মধ্যস্বত্বভোগী, দুর্নীতির কারণে আমরা আয় বৈষম্য কমাতে পারছি না। মুজিববর্ষে মন্ত্রী-এমপি-আমলা-প্রশাসনের সবাইকে শপথ নিতে হবে আমরা কেউ দুর্নীতি করব, প্রশ্রয় দেব না। এমন শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজনের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর নিকট দাবি জানান।

সংসদ সদস্য আবদুল হাই বিএনপি-জামায়াত জোটের সমালোচনা করে বলেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকতে দম্ভভরে বলেছিল আওয়ামী লীগ কোনোদিন ক্ষমতায় আসতে পারবে না, ২০টি সিটও পাবে না। কিন্তু আজকের বাস্তব অবস্থা হচ্ছে আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায়, আর বিএনপি মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি সিট নিয়ে সংসদে বসেছে।

সংসদ সদস্য নাজিম উদ্দিন আহমেদ বলেন, কতিপয় টেলিভিশন ছাড়া কোথাও বিএনপির কোনো অস্তিত্ব নেই। তারা এমনই জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যে, খালেদা জিয়ার মুক্তি চান কিন্তু ৫/১০ হাজার লোক নিয়ে মুক্তির আন্দোলন করতে পারে না। বিএনপি তো নির্বাচন করার জন্য নয়, কমিশন আদায় করে লন্ডনে পলাতক তারেক রহমানের কাছে পাঠাতে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল।

এস এম শাহাজাদা বলেন, আমরা দেশকে যদি ভালোই বাসি, তবে দেশে কেন দুর্নীতি হবে? তাই আসুন, মুজিববর্ষে আমরা দুর্নীতি বন্ধের সবাই শপথ নেই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা