kalerkantho

শনিবার । ৯ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৭ জমাদিউস সানি ১৪৪১

দক্ষিণে ভোটারদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ

আসাদুজ্জামান নূর, ডেমরা, ঢাকা   

২৮ জানুয়ারি, ২০২০ ২১:৫০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দক্ষিণে ভোটারদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে এক প্রার্থীর সমর্থক অন্য প্রার্থীর বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে ভোটার মনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যাপারে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে আজ মঙ্গলবার ডেমরা থানা ও সহকারী রিটাইনিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, গতকাল সোমবার রাতে ৬৭ নম্বর ওয়ার্ডের লাটিম প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বর্তমান কাউন্সিলর হাজী ইব্রাহীমের সমর্থক বাবুল মিয়ার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে আলমাড়িতে থাকা নগদ ৫০ হাজার টাকা লুটপাট করা হয়। অন্যদিকে একই প্রার্থীর সমর্থক হেলাল মিয়ার বাড়িতেও হামলা চালিয়েছে তারা। অভিযুক্ত কাউন্সিলর প্রার্থীর নাম ফিরোজ আলম তিনি ৬৭ নম্বর ওয়ার্ডে ঠেলাগাড়ি প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। ডেমরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ডেমরা থানার ওসি সিদ্ধিকুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে কালের কণ্ঠকে বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে ঠেলাগাড়ি প্রতীকের প্রার্থী ফিরোজ আলম কালের কণ্ঠকে জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে এসেছি। বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করছি।

অন্যদিকে লাটিম প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাজী ইব্রাহীম কালের কণ্ঠকে জানান, গত নির্বাচনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হওয়ায় তার বিরদ্ধে প্রতিপক্ষের লোকেরা প্রভাব বিস্তারে কাজ করছেন এবং ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছেন। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে সিইসির সহযোগিতা আমরা পাব এটাই আমাদের প্রত্যাশা। 

এদিকে ৭০ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয় প্রার্থী আতিকুর রহমানের সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারণায় এলাকার একাধিক বিএনপির নেতাদের দেখা গেছে। আমুলিয়া মডেল টাউন এলাকায় ভূমিদস্যু হিসেবে পরিচিত আতিকুর রহমানের বড়ভাই রতন মিয়া ডেমরা থানা বিএনপির সভাপতি হওয়ায় তিনি বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইশরাকের জন্য ভোট চাইছেন এমনটাই গুঞ্জন পুরো ৭০ নম্বর ওয়ার্ড জুড়ে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আতিকুর রহমান বলেন, আমি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে কাজ করছি। বিএনপির কারো সাথে আমি আঁতাত করে নির্বাচন করছি না। 

অন্যদিকে ৬৯ নম্বরের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সালাহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে নৌকার প্রার্থীর ও আওয়ামী লীগের মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থীর পোস্টার ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে  ভোটারদের টাকার বিনিময়ে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার অভিযোগ করেছেন ভোটাররা। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সালাহ উদ্দিন কালের কণ্ঠকে জানান, তিনি করো পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেননি। তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হচ্ছে।

এদিকে ৬৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটারদের প্রতিদিন পেটপুড়ে খিচুরী খাইয়ে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করতে চাইছেন আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনীত প্রার্থী হানিফ তালুকদার ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মতিন সাউদ। রাতের আঁধারে ভোটারদের টাকার বিনিময়ে লাটিম প্রতীকের মতিন সাউদ ও হানিফ তালুকদার ভোটারদের ম্যানেজ করার অভিযোগ করেছেন ভোটাররা। 

আচরণবিধির ব্যাপারে জানতে চাইলে ৬৬ নম্বর ওয়ার্ডের রেডিও প্রতীকের হানিফ তালুকদার কালের কণ্ঠকে বলেন, সবাইই কম বেশী নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন। কর্মীরা মাঠে কাজ করছেন তাই দুপুরে তাদের খাওয়ার ব্যবস্থা করেছি। অন্যদিকে লাটিম প্রতীকের প্রাথী মতিন সাউদের মোবাইলে ফোন করলে তাকে পাওয়া যায়নি।

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কোহিনুর আক্তার কালের কণ্ঠকে বলেন, যে সকল কাউন্সিলর প্রার্থীরা আচরণবিধি অমান্য করছেন তাদের বিরুদ্ধে প্রতিদিন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, অবাধ সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সকল কিছু করবে প্রশাসন। আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে মোবাইল কোর্ট সর্বদাই প্রস্তুত আছে বলেও জানান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কোহিনুর আক্তার। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা