kalerkantho

শনিবার । ৯ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৭ জমাদিউস সানি ১৪৪১

লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০২:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা

চীনে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে নজিরবিহীন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ সত্ত্বেও এক দিনের ব্যবধানে গতকাল সোমবার দেশটিতে এ ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ২৪ বেড়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা ৮১ জনে দাঁড়াল। আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে মোট দুই হাজার ৭৪৪ জনে দাঁড়িয়েছে। সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য লোকচলাচল সীমিত রাখতে গতকাল চীন সরকার নববর্ষের ছুটি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। করণীয় নির্ধারণে জরুরি বৈঠক করতে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে ছুটে যাচ্ছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থর প্রধান। 

অন্যদিকে ভাইরাসটির উত্পত্তিস্থল চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহানে আটকেপড়া বিদেশিদের সরিয়ে নিতে পরিকল্পনা নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জাপান ও ভারতসহ কয়েকটি দেশ। লোকজনের ওপর উহান ছাড়ায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় তাঁরা আটকা পড়েন। এর মধ্যেই ভারতের মুম্বাই, বিহার ও বাংলাদেশের প্রতিবেশী রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের কলকতায় গত দুই দিনে করোনাভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি ও নজরদারিতে রাখা হয়েছে। 

নতুন প্রকৃতির এই করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় চাপ ও উদ্বেগের মধ্যেই সংক্রমণ হ্রাস কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করতে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি খোয়াছিয়াং গতকাল উহান নগরীতে সফরে গিয়েছেন। এক কোটি ১০ লাখ মানুষের এই শহরেই গত ডিসেম্বরের শেষের দিকে নতুন ভাইরাসটি দেখা দেয়।
চীনে সবচেয়ে বড় জাতীয় ছুটির পর্ব হলো দেশটির চন্দ্র নববর্ষের ছুটি, যা পারিবারিক মিলনমেলা হিসেবেও পরিচিত। এই সময় সবাই নিজ নিজ বাড়ির দিকে ছোটার কারণে রাস্তাঘাটে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। কিন্তু চলতি বছরের নববর্ষ উত্সবকে ছারখার করে দিয়েছে করোনাভাইরাস। চীন সরকার এরই মধ্যে হুবেই প্রদেশের সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। 
লোকচলাচল সীমিত রাখতে গতকাল নববর্ষের ছুটি আরো তিন দিন বাড়িয়ে ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত বহাল রাখার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এরই মধ্যে মহাপ্রাচীর ও আরেক পর্যটন আকর্ষণকেন্দ্র সানহাই ডিজনিল্যান্ড বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। 

সংকট মোকাবেলায় চীনা সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (এইচডাব্লিউও) প্রধান তেদ্রোস আদানোম গ্রেব্রিয়েসাস বেইজিং রওনা দিয়েছেন। এ কথা উল্লেখ করে গতকাল তিনি এক টুইটে বলেন, ‘আমি ও আমার এইচডাব্লিউওর সহকর্মীরা সর্বশেষ অগ্রগতি জানতে যাচ্ছি এবং প্রকোপ ঠেকাতে আরো সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যে চীনের সঙ্গে অংশীদারি জোরদার করতে চাই।’ 

অন্যদিকে উহানে আটকেপড়া বিদেশিদের মধ্যে নিজ নিজ নাগরিকদের ফিরিয়ে আনতে পরিকল্পনা নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও জাপান। প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারতও। ফ্রান্সের স্বাস্থ্যমন্ত্রী আগনেস বিউজিন রবিবার রাতে জানিয়েছেন, তাঁদের নাগরিকদের ফিরিয়ে আনতে চীন রাজি হয়েছে। একটি ফ্লাইটে করে সরাসরি তাঁদের প্যারিসে আনা হবে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা দিয়েছে, তাদের নাগরিক ও উহান কনস্যুলেট অফিসে কর্মরতদের ফিরিয়ে আনতে বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। 

ভারতের বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, উহান থেকে ভারতীয় ফিরিয়ে আনতে একটি বিমান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তারা কেবল সরকারি আদেশের অপেক্ষায় রয়েছে। অন্যদিকে, ভারতের মুম্বাইয়ে গত দুই দিনে চারজনকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া গতকাল বিহারে চীন থেকে ফেরা এক তরুণীকে এবং পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় এক চীনা পর্যটককে হাসপাতালে ভর্তি করে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তবে প্রাথমিক পরীক্ষায় তাঁদের কারো শরীরেই করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়। সূত্র : এএফপি, ইন্ডিয়া টুডে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা