kalerkantho

বুধবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ১ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

শিশু সায়মা হত্যা

এবার সায়মা হত্যার হত্যার বিচার চাইলেন বড় বোন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ জানুয়ারি, ২০২০ ১৬:৫১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এবার সায়মা হত্যার হত্যার বিচার চাইলেন বড় বোন

রাজধানীর ওয়ারীতে সিলভারডেল স্কুলের নার্সারির ছাত্রী সামিয়া আফরিন সায়মা ধর্ষণ ও খুনের বিচার চাইলেন বড় বোন ফারজানা ইয়াসমিন। আদালতে কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, আদরের বোন সায়মার খুনের বিচার চাই। আজ সোমবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ সাক্ষ্য দেন ফারজানা।

এর আগে গত ৮ জানুয়ইির সায়মার বাবা আবদুস সালামও আদালতে কেঁদে কেঁদে মেয়ে হত্যার বিচার চেয়েছিলেন। গত ২০ জানুয়ারি মা সাক্ষ্য দেন। এবার সাক্ষ্য দিলেন বোন। সঙ্গে প্রতিবেশি ফরহাদ হোসেন সাক্ষ্য দেন। এ নিয়ে আজ পর্যন্ত সাতজনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হলো। বিচারক  কাজী আবদুল হান্নান আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেন। 

গত ২ জানুয়ারি একমাত্র আসামি হারুণ অর রশীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। এর আগে গত বছর ৫ নভেম্বর হারুনকে আসামি করে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেওয়া হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) ওয়ারী জোনাল টিম (নিরস্ত্র) মো. আরজুন চার্জশিট দেন।

এর আগে গত বছর ৫ জুলাই সন্ধ্যার পর ওয়ারীর একটি বাড়ির ৯ তলায় শিশু সায়মার লাশ পাওয়া যায়। ওই বাড়ির ৬ষ্ঠ তলায় সায়মা তার পরিবারের সঙ্গে থাকতো। লাশ পাওয়ার আগে সে তার মাকে ওপরের তলায় খেলতে যাচ্ছিল বলে জানায়। কিন্তু সে ফিরে না আসায় তাঁর খোঁজ করতে করতে নবম তলায় তার গলায় রশি পেচানো অবস্থা পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় সায়মার বাবা আবদুস সালাম বাদী হয়ে ওয়ারী থানায় মামলা করেন। পুলিশ গত বছর ৭ জুলাই কুমিল্লার তিতাস থানার ডাবরডাঙ্গা এলাকা থেকে হারুন অর রশিদকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন হারুন আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়ে সায়মাকে হত্যার দায় স্বীকার করেন। 

তিনি জবানবন্দিতে বলেন, এক মাস আগে থেকে তার খালাত ভাই পারভেজের বাসায় ছিলেন। ওয়ারীতে যে ভবনে ঘটনা ওই ভবনের সাততলায় পারভেজ থাকেন। ঘটনার আগে ভবনের লিফট দিয়ে নামার সময় সায়মার সঙ্গে তার দেখা হয়। লিফটইে সে সায়মার সঙ্গে খারাপ কাজ করবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়। পরে ছাদ দেখার কথা বলে সে সায়মাকে ছাদে নিয়ে যায়। ছাদে নিয়ে সায়মাকে সে ধর্ষণের চেষ্টা করে। কিন্তু সায়মা চিৎকার করতে থাকে। মুখ চেপে ধরে সায়মাকে সে ধর্ষণ করে।

ধর্ষণের এক পর্যায়ে সায়মা নিস্তেজ হয়ে পড়ে। তখন হারুন ভয় পায়। সায়মার জ্ঞান ফিরলে সে মানুষের কাছে ঘটনা বলে দেবে। এ কারণে যাতে ঘটনা প্রকাশ না পায় সেজন্য তার গলায় দড়ি পেচিয়ে হত্যা করা হয়। পরে সায়মাকে টেনে নিয়ে রান্না ঘরের সিংকের নীচে ফেলা হয়। এরপর হারুন পালিয়ে যায়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা