kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জানুয়ারি ২০২০। ১৪ মাঘ ১৪২৬। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

‘নিয়ম মেনেই জবি প্রক্টরকে পিএইচডি ডিগ্রি দেওয়া হয়েছে’

এসব করা হয়েছে শুধু আমাকে হেয় করার জন্য : মোস্তফা কামাল

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৪ জানুয়ারি, ২০২০ ২১:৩০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘নিয়ম মেনেই জবি প্রক্টরকে পিএইচডি ডিগ্রি দেওয়া হয়েছে’

সম্প্রতি কয়েকটি দৈনিক পত্রিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল এর পিএইচডি জালিয়াতির সংবাদ- প্রকাশের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বিকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান সাংবাদিকদের কাছে বলেন  ‘কোনো ডিগ্রী প্রদানের ক্ষমতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কিংবা প্রশাসনের নেই। পিএইচডি ডিগ্রী প্রদান করেন একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেট। এছাড়া পিএইচডি ডিগ্রী দেয়ার জন্য যে বোর্ড থাকে তারাই সুপারিশ করেন পিএইচডি প্রদানের জন্য। এতে উপাচার্যের কোনো এখতিয়ার নেই।’

তিনি আরো বলেন, ‘যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম কানুন জানেন না তেমন সাংবাদিকই পারে এধরনের সংবাদ লিখতে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি এর নিয়ম নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের একাডেমিক কাউন্সিলের নিয়ম ছিল- যদি কোন বিভাগের শিক্ষক ওই বিভাগেই পিএইচডি করেন তবে তিনি ২ বছর পরেই পিএইচডি জমা দিতে পারবেন। সে নিয়ম অনুসারে দর্শন বিভাগের শিক্ষক হাফিজুল ইসলামকে পিএইডি প্রদান করা হয় ৩৭ তম একাডেমিক কাউন্সিলে। এর ১ বছর পর একই নিয়মে মোস্তফা কামালকে পিএইচডি ডিগ্রী প্রদান করা হয়। এ নিয়মটি শুধু মাত্র ফ্যাকাল্টি মেম্বারদের জন্যই প্রযোজ্য।’

‘এই নিয়মটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়সহ পৃথিবীর অনেক দেশেই আছে। তাছাড়া বর্তমান প্রক্টর মোস্তফা কামালকে পিএইচডি দেয়া হয়েছে ৩৯ তম একাডেমিক কাউন্সিলে। সুতরাং তার পিএইচডি যাবতীয় নিয়ম মেনেই দেয়া হয়েছে।’

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রক্টর ড. মোস্তফা কামালকে ৩৯ তম সিন্ডিকেট সভায় পিএইচপি প্রদান করা হয়। তার গবেষণার বিষয় ছিল ‘বিভিন্ন ধর্মে নারীর অধিকার: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ’।

বিষয়টি নিয়ে ড. মোস্তফা কামাল এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ‘আমি ৩১ মে ২০১০ সালে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করি এবং ১৩ মে ২০১৩-তে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করি। আমার চাকুরী ছিল ৩ বছর এর ১৩ দিন কম। এছাড়া ১ টি প্রকাশনার পরিবর্তে আমার ছিল ৩ প্রকাশনা এবং ২ টি প্রথম শ্রেনির পরিবর্তে আমার ছিল ৩ টি প্রথম শ্রেনি।’

‘আমার যোগ্যতার কোনো কমতি ছিল না। এছাড়া আমার একাডেমিক ফলাফল নিয়ে যেসব কথা বলো হচ্ছে তা মনগড়া। এসব করা হয়েছে শুধু মাত্র আমাকে হেয় করার জন্য। তাছাড়া আমি প্রক্টর হওয়ার পর বিভিন্ন অনৈতিক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় একশ্রেনির লোক এটা করেছে।’

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ইঞ্জিনিয়ার ওহিদুজ্জামান বলেন, ‘মোস্তফা কামালকে যে পদন্নতি দেয়া হয়েছে তাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। যাবতীয় নিয়ম কানুন ও আইন মেনেই পিএইচডি ডিগ্রী প্রদান করা হয়েছে তাতে কোন সন্দেহ নেই।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা