kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জানুয়ারি ২০২০। ১৪ মাঘ ১৪২৬। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

বুদ্ধিজীবী হত্যাকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে : আসিফ মুনীর

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২২:২৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বুদ্ধিজীবী হত্যাকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে : আসিফ মুনীর

১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর বাবা আমাকে গোসল করিয়ে দিয়েছিলেন, তেল মাখিয়ে দিয়েছিলেন। বাবা আমাকে প্রায়ই তাঁর টয়োটা গাড়িতে করে পাশে বসিয়ে নিয়ে যেতেন। টেলিভিশন বা বেতারের অনুষ্ঠান বা কোনো সভা-অনুষ্ঠানে যাবার সময় প্রায়ই আমাকে সঙ্গে নিতেন। সেটা ভাসা ভাসা মনে আছে।

একাত্তরের শহীদ বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক মুনীর চৌধুরীর কণিষ্ঠ সন্তান আসিফ মুনীর (তন্ময়) শুক্রবার বিকেলে কালের কণ্ঠ ফেসবুক লাইভে বিশেষ আলাপচারিতায় এভাবেই নিজের শহীদ বাবার স্মৃতিচারণ করছিলেন।

কালের কণ্ঠের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক পার্থ সারথি দাসের সঞ্চালনায় সরাসরি সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানে আসিফ মুনীর বলেন, আমার এসব স্মৃতি ভাসা ভাসা মনে আছে। মা ও ভাইয়ের কাছ থেকে পরে আমি আরো জানতে পারি।

তিনি বলেন, ‘সেই সময় বেশ কয়েকজনের বাবা নিখোঁজ হয়েছিলেন। অনেক  মা তাদের সন্তানদের বাবাদের লাশ খুঁজছিলেন। ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত তারা খুঁজছিলেন। ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি জহির রায়হান নিখোঁজ হন। ১৯৭১ সালের নভেম্বর থেকে ১৯৭২ সালের জানুয়ারির মধ্যে কমপক্ষে ২০০ বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করা হয় টার্গেট করে। এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুসারে, প্রায় হাজারখানেক বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করা হয়েছে। এই পরিসংখ্যান একটা ধারণা। সারাদেশেই বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমার বাবা পাকিস্তান আমলে প্রথমবারের মতো জেলে যান ১৯৪৯ সালে। তারপর ১৯৫২ সালেও জেলে গেছেন। জেলে থেকেই বিখ্যাত কবর নাটকটি লিখেছেন। বাবা যেহেতু বারবার পাকিস্তান সরকারের রোষাণলে পড়েছেন সেহেতু আমাদের পরিবারের লোকজন মনে করেছিলেন, বাবাকে কোনো বন্দিশালায় রাখা হয়েছে। তাকে নিখোঁজ রাখা হয়েছে। পরে আমাদের মেনে নিতে হলো। এভাবে অনেককেই মেনে নিতে হয়েছে সত্যকে।’ 

‘১৯৭২ সাল থেকে ১৯৭৩ সালের একটা পর্যায় পর্যন্ত এভাবে দিন গেছে যে মনে হয়েছে- বাবা ফিরে আসবেন হয়তো। এভাবে অনেক শহীদ পরিবারের সদস্যরা অপেক্ষা থেকে পরে মেনে নেন।’

প্রজন্ম একাত্তরের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আসিফ মুনীর বলেন, ‘২০১৩ সালে বুদ্ধিজীবী হত্যা মামলার বিচার হয়েছে, রায় হয়েছে। তবে শাস্তির আদেশ হলেও শাস্তি নিশ্চিত হয়নি। প্রবাসে আছেন অভিযুক্তরা। শুধু শাস্তির আদেশ নয়, শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য সরকারকে কুটনৈতিকসহ বিভিন্ন তত্পরতা বাড়াতে হবে।’ 

মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের ইতিহাস পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘একাত্তরে আমার বয়স ছিল চার বছর। আমার জন্ম ১৯৬৭ সালে। ১৯৬৭ থেকে ১৯৭১ এর মধ্যে আমার স্মৃতি থাকার কথা খুবই কম।’ তবু স্মৃতি হাতড়ে তিনি বলেন, ‘রাত জেগে বাবা লিখতেন। বাবার কাছে চলে যেতাম প্রায়ই। রাতে আমার ঘুম না এলে বাবা তাঁর কোলে আমাকে ঘুম পাড়িয়ে দিতেন। তাঁর লেখার সেই সেক্রেটারিয়েট টেবিলের পাশে বসে লিখতেন।’

আসিফ মুনীরের মা লেখক লিলি চৌধুরীর বয়স এখন ৯০ বছর। তাঁর তিন সন্তানের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ আসিফ। মেজ সন্তান প্রয়াত ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট মিশুক মুনীর- তিনি ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। আসিফের বড় ভাই আহমেদ মুনীরও মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা