kalerkantho

শনিবার । ২৫ জানুয়ারি ২০২০। ১১ মাঘ ১৪২৬। ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

দাবি ১১ দফা

তৃতীয় দিনে পাটকল শ্রমিকদের আমরণ অনশন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১০:২১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তৃতীয় দিনে পাটকল শ্রমিকদের আমরণ অনশন

ফাইল ছবি।

বকেয়া মজুরি পরিশোধ, মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন, অস্থায়ী শ্রমিকদের স্থায়ীকরণসহ ১১ দফা দাবিতে শ্রমিকদের আমরণ অনশন তৃতীয় দিনে পড়েছে। আন্দোলনকারী শ্রমিকদের মুহুর্মুহু স্লোগানে আজো প্রকম্পিত কর্মসূচি এলাকা।

গতকাল মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে এবং কোথাও কোথাও দিনের অন্যান্য সময় শুরু হয় এ কর্মসূচি।

চট্টগ্রামে আজ বৃহস্পতিবারও (১২ ডিসেম্বর) আমিন জুটমিলসহ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকরা আমরণ অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। শ্রমিকরা রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের নেতাদের সঙ্গে মিল গেটে অবস্থান করছেন।

খুলনার রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ নন-সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের  উদ্যোগে ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম, স্টার, ইস্টার্ন, খালিশপুর, দৌলতপুর, আলিম, যশোরের জেজেআই, কার্পেটিং মিলের হাজার হাজার শ্রমিক এ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। কর্মসূচি এখনো চলমান। এ ছাড়া কর্মসূচি চলছে খুলনা, যশোর, নরসিংদী, রাজশাহীসহ অন্যান্য জেলার রাষ্ট্রায়াত্ত পাটকলগুলোতে।

এদিকে, খুলনা, যশোর ও নরসিংদীর মিল এলাকাগুলোতে চলমান কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে গতকাল বুধবার বেশ কিছু শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে রাজধানীতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

খুলনা শিল্পনগরীতে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত অনশনে অসুস্থ হয়ে পড়া ২৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অনশনস্থলে আরো ৫৫ জনকে স্যালাইন দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ নন-সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে খুলনায় সাতটি ও যশোরে দুটি মিলে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। সেগুলো হলো ক্রিসেন্ট জুটমিল, খালিশপুর জুটমিল, দৌলতপুর জুটমিল, প্লাটিনাম জুটমিল, স্টার জুটমিল, আলিম জুটমিল ও ইস্টার্ন জুটমিল। আর যশোরের দুটি জুটমিল হলো কার্পেটিং ও জেজেআই।

খালিশপুর শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকরা মিল গেটের সামনে বিআইডিসি রোডে কর্মসূচি পালন করছেন। রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ নন-সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক খলিলুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, অনশনে অনেক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ২৩ জনকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ফুলতলা হাসপাতাল ও পথের বাজার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের অনশনস্থলে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে।

বিজেএমসির খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয়ের সমন্বয়কারী বনিজ উদ্দিন মিয়া বলেন, শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। তবে তাঁরা এখন মজুরি কমিশনের দাবিতে আন্দোলন করছেন। মন্ত্রণালয়ই এসব বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। আমাদের কিছু করণীয় নেই।

নরসিংদীতে রাতভর শীত উপেক্ষা করে কাঁথা-বালিশসহ অনশনস্থলে অবস্থান করছেন হাজারো শ্রমিক। এতে ইউএমসি জুটমিলে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আজো পাটবাহী কোনো ট্রাক এমনকি কর্মকর্তারাও মিলে ঢুকতে পারেননি। এ ছাড়া মিল গেটে অনশনের ফলে নরসিংদী শহর থেকে চরাঞ্চলে যাতায়াতের সড়কটিতে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

১১ দফা দাবিতে আমরণ অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন রাজশাহী পাটকল শ্রমিকরা। গত মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটায় কর্মসূচি শুরুর পর অনশনকারীরা পাটকলের সামনেই রাত কাটান। গতকাল সকাল থেকে আবার সেখানে শুরু হয় বিক্ষোভ সমাবেশ। এতে পাটকলের প্রায় এক হাজার নারী-পুরুষ শ্রমিক অংশ নেন। রাজশাহী পাটকলের কর্মচারীদের তিন মাসের ও শ্রমিকদের ১১ সপ্তাহের বেতন বকেয়া রয়েছে।

পাটকল শ্রমিকদের ১১ দফা দাবির প্রতি সমর্থন ও চলমান কর্মসূচির প্রতি সংহতি জানিয়ে সমাবেশ করেছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গতকাল আয়োজিত সমাবেশে সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশের পাটকল ধ্বংসের চক্রান্ত শুরু হয়েছে। এই চক্রান্ত বন্ধ করতে হবে। বিরাষ্ট্রীয়করণ, লুটপাট, দুর্নীতির কারণে পাটশিল্প ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। তাই পাটশিল্প রক্ষার দাবিতে শ্রমিকরা আন্দোলন করছেন। তাঁদের উত্থাপিত ন্যায্য দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।

মিল শ্রমিকরা জানান, রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো ধ্বংস করার জন্য একটি মহল কাজ করছে। সরকারের আন্তরিকতা থাকলেও তারা সরকারি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে না। সময়মতো কাঁচা পাট না কেনায় উৎপাদিত পণ্যের মূল্য বেড়ে যাচ্ছে। পুরনো যন্ত্রপাতিতে মিল বেহালে যাচ্ছে। শ্রমিকরা মিল বন্ধ করতে চান না, কিন্তু তাঁদের বেঁচে থাকার জন্য আমরণ অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যেতে হচ্ছে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা