kalerkantho

রবিবার । ১৯ জানুয়ারি ২০২০। ৫ মাঘ ১৪২৬। ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

নানা আয়োজনে সিআরপির ৪০ বছর পূর্তি উদযাপিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার (ঢাকা)   

১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২০:২০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নানা আয়োজনে সিআরপির ৪০ বছর পূর্তি উদযাপিত

পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্রের (সিআরপি) ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সিআরপি সাভারে বুধবার দিনব্যাপী, দাতা, শুভাকাঙ্ক্ষী, সেবাগ্রহীতা ও স্বেচ্ছাসেবীদের অংশগ্রহণে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সিআরপির সেবার ৪০ বছর উদযাপনে তিন দিনব্যপী আয়োজনের এটি ছিল তৃতীয় ও শেষ দিন। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. গওহর রিজভী। সিআরপির একীভূত বিদ্যালয়ের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু ও স্বাভাবিক শিশুদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিআরপির প্রতিষ্ঠাতা ভ্যালেরি এ টেইলর।

ভ্যালেরি তার বক্তব্যে বাংলাদেশে তার অবস্থানের অর্ধশত বছরের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় ও পক্ষাঘাতগ্রস্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসন সেবায় সিআরপির রুপকল্প বাস্তবায়নে ভ্যালেরির সংগ্রাম ও সাফল্যের চিত্র ফুটে ওঠে তার অভিজ্ঞতা বর্ণনার মাধ্যমে। সকল দাতা ও শুভাকাঙ্খীদের উদ্দেশ্যে ভ্যালেরি বলেন, আপনাদের সহায়তা ছাড়া সিআরপি এতটা পথ অতিক্রম করতে পারত না।

ড. গওহর রিজভী বলেন, বাংলাদেশের মানুষের জন্য ভ্যালেরির যে উদ্যোগ ও প্রচেষ্টা তা সমাজের বঞ্চিত মানুষদের নতুন জীবন দান করেছে। সমাজের প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী যাদেরকে আমরা সমাজ থেকে বাদ দিয়ে দেই তাদেরকে সমাজের মূল স্রোতধারায় প্রতিষ্ঠা করার দায়িত্ব সমাজের। কিন্তু সিআরপিই এই কাজটি করে চলেছে। আমি আজ শুধুমাত্র সিআরপির ৪০ বছর নয় বাংলাদেশে ভ্যালেরির সেবার সুবর্ণজয়ন্তিতে অভিনন্দন জানাতে চাই।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক কে এম আব্দুস সালাম, বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডিয়ান হাইকমিশনার বেনওয়া প্রিফনটেইন।

কে এম আব্দুস সালাম বলেন, ভ্যালেরি টেইলর বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সেবায় এক অতি পরিচিত নাম। তার প্রতিষ্ঠিত সিআরপি দীর্ঘ ৪০ বছর যাবত কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমান সরকার প্রতিবন্ধী বান্ধব সরকার এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের উচিত ভ্যালেরির কাজ দেখে শিক্ষা নেওয়া এবং নিজেদের দৈনন্দিন কাজের পাশাপাশি মানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করা।

বেনওয়া প্রিফনটেইন বলেন, ‘আপনারা যারা সিআরপির এই ৪০ বছরের যাত্রায় অবদান রেখেছেন তাদের সবাইকে অনেক শুভকামনা জানাই। সিআরপি শুধুমাত্র বাংলাদেশের নয় বিশ্বের একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান। আমি সিআরপি সম্পর্কে জানতে পেরেছি প্রাক্তন কানাডিয়ান কূটনীতিকদের কাছ থেকে যারা সিআরপি ও ভ্যালেরির ভূয়সী প্রশংসা করেছে। সিআরপিতে এসে আমি এখন বুঝতে পারছি যে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবন মান উন্নয়নে সিআরপি কত ভালো কাজ করছে। আমি আশা করি ভবিষ্যতে যেকোনো প্রয়োজনে সিআরপির পাশে থাকতে পারব।’ 

রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন বলেন, ‘আমি খুব ভালোভাবেই অনুভব করতে পারি যে একটি দুর্ঘটনা একটি পরিবারকে কতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। সিআরপি এই সকল ব্যক্তি ও তাদের পরিবারকে সমাজে পুনর্বাসনে সহয়তা করে এবং রোগীদের স্বাবলম্বী হতে শেখায়।’

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দানের পাশাপাশি অতিথিরা সিআরপির দরিদ্র প্রতিবন্ধী রোগীদের হুইলচেয়ার ও অন্যান্য সহায়ক সামগ্রী প্রদান করেন। পরবর্তীতে সিআরপির প্রতিবন্ধী কর্মী ও শিশুদের চিত্রকর্ম অতিথিদের হাতে উপহার হিসেবে তুলে দেন শিল্পীরা। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন ট্রাস্ট ফর দি রিহ্যাবিলিটেশন অফ দি প্যারালাইজড (টিআরপি) এর সভাপতি জনাব সাইদুর রহমান। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্যায়ে সন্ধ্যায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনের আয়োজন শেষ হয়। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা