kalerkantho

বুধবার । ২৯ জানুয়ারি ২০২০। ১৫ মাঘ ১৪২৬। ৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

খালেদা জিয়ার মেডিক্যাল প্রতিবেদন সুপ্রিম কোর্টে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৮:২২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



খালেদা জিয়ার মেডিক্যাল প্রতিবেদন সুপ্রিম কোর্টে

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত মেডিক্যাল রিপোর্ট সুপ্রিম কোর্টের প্রশাসনের জমা দিয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষ। আজ বুধবার বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে এই রিপোর্ট গ্রহণ করেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিষ্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর। আপিল বিভাগের নির্দেশে এই প্রতিবেদন পাঠিয়েছে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ। 

আগামীকাল বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের এক নম্বর বেঞ্চে এই মেডিক্যাল প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে। খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানিতে এই প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে। তবে এবিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের কর্মকর্তারা গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনো কথা বলতে রাজি হননি। 

খালেদা জিয়ার মেডিক্যাল প্রতিবেদন পেয়েছেন কি না জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের রেজিষ্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর কালের কণ্ঠকে বলেন, এ বিষয়ে আমি কোনো কথা বলবো না। আপনারা আমাদের মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। 

এরপর সুপ্রিম কোর্টের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমানকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।  

এদিকে জিয়া চ্যারিটেবল দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের ওপর আজ বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের এক নম্বর বেঞ্চে শুনানি। আপিল বিভাগের আজকের কার্যতালিকার ১২ নম্বরে রয়েছে খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদন। 

খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের ওপর শুনানিকে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় নজীরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন ও আইন শৃংখলাবাহিনী। নিরাপত্তার অংশ হিসেবে আপিল বিভাগের এক নম্বর আদালত কক্ষে ৮টি সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। 

মঙ্গলবার রাতেই এই ক্যামেরা বসানো হয়। এই ক্যামেরা চলমান থাকাবস্থায় গতকাল সকালে আপিল বিভাগের এক নম্বর বেঞ্চে বিচার কাজ পরিচালিত হয়। আপিল বিভাগের আশেপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিকঠাক আছে কি না তা আজ বিকেলে পরিদর্শন করেন প্রধান বিচারপতি। তিনি নিজে ঘুরে ঘুরে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেন। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন আপিল বিভাগের রেজিষ্ট্রার বদরুল আলম ভুইয়া। 

এছাড়া আজ সকাল থেকেই সুপ্রিম কোর্ট অঙ্গনে প্রবেশের সকল ফটকে ব্যাপক পুলিশ প্রহরা বসানো হয়। সুপ্রিম কোর্টের মূল ভবনে প্রবেশের ফটকেও বসানো হয় ব্যাপক পুলিশ প্রহরা। আইন শৃংখলাবাহিনীর সদস্যরা সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে আসা সকল গাড়ির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখে। কারা গাড়িতে আসছেন, যাচ্ছেন তা পর্যবেক্ষণে রাখেন তারা। 

গত ২৮ নভেম্বর আপিল বিভাগ খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য একটি মেডিকেল বোর্ড গঠনের নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে এই মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন এবং গত ৭ অক্টোবর গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন গত ৫ ডিসেম্বর দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। এই নির্দেশে বিএসএমএমইউ নতুন মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে। কিন্তু বিএসএমএমইউ কোনো মেডিকেল রিপোর্ট দাখিল না করায় গত ৫ ডিসেম্বর দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে নজীরবিহীন অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মুহুর্মুহু শ্লোগান, মাঝে মাঝে সরকার সমর্থক আইনজীবীদের প্রতিবাদের মুখে চরম হৈচৈ-হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। ফলে বিচার কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এ প্রেক্ষাপটে আপিল বিভাগের এক নম্বর বেঞ্চে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। আদালত কেক্ষ যদি কেউ অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটায়, তবে তাদের চিহ্নিত করার লক্ষ্যেই বসানো হয়। এরই মধ্যে সিসি ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনসহ উভয়পক্ষের আইনজীবীরা। 

এদিকে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে গতকাল বিকেলে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের উত্তর হলে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব ফজলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা, ইকবাল হোসেন, রফিকুল ইসলাম তালুকদার রাজা, কামরুল ইসলাম সজল প্রমুখ আইনজীবী বক্তব্য দেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা