kalerkantho

বুধবার । ২৯ জানুয়ারি ২০২০। ১৫ মাঘ ১৪২৬। ৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

স্বল্প খরচে উন্নত সেবা দিচ্ছে বসুন্ধরা আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল

আলতাফ হোসেন মিন্টু, কেরানীগঞ্জ   

১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৮:২০ | পড়া যাবে ৭ মিনিটে



স্বল্প খরচে উন্নত সেবা দিচ্ছে বসুন্ধরা আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল

মা ও শিশু, জেনারেল, সার্জারি ও চক্ষু রোগীর নির্ণয় করে ২০১২ সালে সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক রোগীদের সেবার মাধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করে বসুন্ধরা আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বসুন্ধরা রিভারভিউ আবাসিক এলাকায় মনোরম পরিবেশে এই হাসপাতালটি। হাসপাতালটির চতুর্দিকে প্রাকৃতিক গাছ পালায় ঘেরা। হাসপাতালটিতে চিকিৎসার জন্য অসলে প্রকৃতির প্রাকৃতিক দৃশ্য ও নিঃস্বাসেই রোগীদেও অর্ধেক রোগ ভালো হয়ে যায় বলে জানান হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগী ও স্বজনরা।

মাত্র আট বছরের মধ্যে হাসপাতালটি কেরানীগঞ্জ ছাড়া আশপাশের জেলার যেমন মুন্সিগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ জেলায় বেশ সুনাম কুড়িয়েছে। বসুন্ধরা আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালটিতে গরিব ও প্রান্তিক রোগীদেও চিন্তা করে গর্ভবতী মায়েদের সেবা ও শিশু বিভাগ এবং জরুরি বিভাগ ২৪ ঘণ্টা খোলা রয়েছে। রয়েছে স্বল্প খরচে রোগীদের আনা নেওয়া করার জন্য জরুরি হাসপাতালের নিজেস্ব অ্যাম্বুলেন্স। কেরানীগঞ্জের যেকোনো জায়গায় রোগী নিয়ে যাওয়া মাত্র ৩০০ টাকায়। হাসপাতালটি বুড়িগঙ্গা নদীর প্রথম (চীন মৈত্রী) সেতুর দক্ষিণ প্রান্ত থেকে হেঁটে গেলে ১০ মিনিট আর রিকশায় ২০ টাকা।

হাসপাতালটি রাজধানীর ব্যাস্তনগরীর অতি সন্নিকটে হওয়ায় কেরানীগঞ্জ ব্যতীত মুন্সিগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে রোগীরা প্রতিদিন ভিড় জমায় চিকিৎসা সেবা নিতে। হাসপাতালটিতে রয়েছে নিজেস্ব নিরাপত্তা কর্মী। তাদের সিফটিং অনুযায়ী দিন-রাতে চলে ডিউটি। হাসপাতালটিতে রয়েছে শিশু বাচ্ছাদের জন্য উৎস নামের শপ। যেখানে শিশু খারার থেকে শুরু করে জামা কাপড় পাওয়া যায়। এখানে রাতে কোনো মায়ের ডেলিভারি হলে নবাগত শিশুটির জন্য বাহির থেকে কোনো কাপড় কিনতে হয় না। এখানেই সব ধরনের কাপড় পাওয়া যায়।

বসুন্ধরা আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপ ব্যবস্থাপক মো. সিদ্দিকুর রহমান সুমন জানান, ২০১২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি মা ও শিশু, চক্ষু, জেনারেল এবং জরুরি বিভাগ দিয়ে আমাদের এই হাসপাতালের যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে আমাদের এই হাসপাতালে মেডিসিন, গাইনি, শিশু, ডেন্টাল, সকল প্রকার সার্জারি, চর্ম ও যৌন, চক্ষু, অর্থপেডিক্স, প্লাস্টিক সার্জারি ও ডায়াবেটিক চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছি। পাশাপাশি ঠোঁট কাটা, তালু কাটা ও আগুনে পোড়া রোগীদের চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। বর্তমানে আমাদের এই হাসপাতালে চোখের ফ্যাকো অপারেশন করা হচ্ছে। যা একটি সুবিধাবঞ্চিত রোগীর পক্ষে এই ব্যয়বহুল চিকিৎসা করাই সম্ভব না। সেখানে স্বল্প মূল্যে বসুন্ধরা আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল করে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, অতি অল্প সময়ের মধ্যে আমাদের হাসপাতালটি সাধারন মানুষের কাছে পৌঁছে গিয়েছে। সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠিকে স্বাস্থ্য সেবার আওতায় প্রদান করাই হচ্ছে বসুন্ধরা আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজের মূল লক্ষ। এই হাসপাতালের সাধারণ রোগীদের সেবার জন্য প্রতিষ্ঠা হলেও বর্তমানে এর চাহিদা সকল শ্রেণির মানুষের কাছে রয়েছে। এ ছাড়া এখানে বিনামূল্যে চোখের ছানী অপারেশেন করা হয়।

তিনি বলেন, প্রসূতি মায়েদের সিজার করাতে যেখানে অন্যান্য হাসপাতালে ২০ থেকে ২৫ হাজার খরচ হয় সেখানে বসুন্ধরা আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থাকা-খাওয়া ও ঔষধসহ সাড়ে পাঁচ হাজার টাকায় করে থাকেন। যা একাট গরিব রোগীর হাতের নাগালে রয়েছে। হাসপাতালের পরিবেশ, খরচ ও অন্যান্য সুবিধার জন্য বর্তমানে গরিব রোগীর পাশাপাশি ধনীরাও চলে আসছে চিকিৎসা সেবা নিতে।

তিনি আরো বলেন, স্বাস্থ সেবা প্রদানে হাসপাতাল বা ডাক্তারদের একার পক্ষে সম্ভব না। এ জন্য সকল শ্রেণির লোকজনকে স্বাস্থ্য সচেতনার দিকে লক্ষ রাখতে হবে।

আজ বুধবার বসুন্ধরা আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালে গিয়ে সেবা নিতে আসা বেশ কয়েকজন রোগীর সাথে হাসপাতালের চিকিৎসার মান ও সেবার বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়।

মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজদি খান থানার খাসকান্দি ইউনিয়নের চাঁন্দের চর এলাকার মো. রাসেল জানান বসুন্ধরা আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিনি তার ৬ মাস বয়সের শিশু সন্তানকে জ্বর ও ঠাণ্ডার চিকিৎসা করাতে এসেছে। তিনি বলেন, এখানকার চিকিৎসার মান ও পরিবেশ খুবই ভালো এবং খরচও অন্যান্য হাসপাতালের তুলনায় খুব কম এবং এখানকার ডাক্তাররা অনেক দায়িত্বশীল এবং মিশুক। যার কারণে আমি আমার পরিবারের সকল সদস্যদের যেকোনো চিকিৎসার জন্য এখানে নিয়ে আসি।

মোসাম্মৎ মানোয়ারা বেগম এসেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলার পাগলা এলাকা থেকে। তিনি এসেছেন তার ছোট বোন ও ভাগিনার বৌকে নিয়ে। তার সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমাদের নারায়ণগঞ্জ জেলায় অনেক হাসপাতাল আছে। বেশকয়েক দিন আগে আমাদের এক প্রতিবেশী চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন এই হাসপাতালে। তার কাছ থেকে এই হাসপাতালের সেবার মান শুনেই আমি আমার ছোট বোন ও আমার ভাগিনার বৌকে নিয়ে এখানে এসেছি। তারা দুজনেই গর্ভবতী। আমরা এবারই প্রথম এই হাসপাতালে এসেছি, শুনেছি স্বল্প খরচে সকল ক্ষেত্রে ভালো মানের চিকিৎসাসহ খুব নিরাপদে মায়েদের ডেলিভারি জন্য খুব ভালো একটি প্রতিষ্ঠান। আজ প্রথম দিন এসে এখানকার পরিবেশ ও চিকিৎসার মান দেখে আমাদের ভালো লেগেছে। তাই আমার বোন ও ভাগিনার বৌ দুইজনকেই এখান থেকে চেকাপ করিয়েছি।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার তেঘরিয়া ইউনিয়নের আব্দুল্লাপুরবাসী মো. ঈসমাইল হোসেন এসেছেন তার সর্দি কাশির চিকিৎসা ও তার স্ত্রী মোসাম্মাৎ নার্গিস বেগমের শরীর ব্যথার চিকিৎসার জন্য। ডাক্তার দেখাতে তার সাথে আলাপ হলে তিনি জানান, এখানকার ব্যবস্থাপনা এবং চিকিৎসার মান দুটোই খুব ভালো। এক কথায় স্বল্প খরচে সকল রোগের ক্ষেত্রে উন্নত মানের চিকিৎসা সুবিধা পাওয়া যায়।

তিনি আরো বলেন, এই হাসপাতালের আশপাশে আরো দু’একটি প্রাইভেট ক্লিনিক রয়েছে। তারা বাসা বাড়ি ভাড়া নিয়ে রোগীদের সেবা করে থাকেন। কোনো জটিল রোগী আসলে অন্যান্য হাসপাতাল থেকে ডাক্তার ডেকে এনে চিকিৎসা করানো হয়। রাতে তেমন কোনো চিকিৎসার সেবা তাতের নাই বলেই চলে।

কথা হয় গাইনি ও প্রসূতী বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডা. আরিফা জাহান সোমার সাথে। তিনি বলেন, বসুন্ধরা আদ্-দ্বীন মেডিক্যালে দেড় বছর যাবত গাইনি ও প্রসূতী বিভাগের প্রধান হিসেবে কর্মরত। এর আগে প্রায় আট বছর দেশে অন্যতম আরেকটি হাসপাতালে কর্মরত ছিলাম। বাংলাদেশে আদ-দ্বীনের বড় বড় ৮টি হাসপাতাল আছে। এ হাসপাতালগুলো বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলাদের ডেলিভারি ও নারীদের গাইনি বিষয়ক রোগীদের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে থাকে।

বসুন্ধরা আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডা. মরিয়ম বেগম বলেন, আমি এই হাসপাতালে পাঁচ বছর যাবত কর্মরত। রোগীর জন্য এখানকার পরিবেশ খুবই ভালো যা বিভিন্নস্থান থেকে আসা রোগীদের মুখেই শোনা যায়। আমরা এখানে যারা কর্মরত সকলেই আন্তরিকতার সাথে কাজ করার চেষ্টা করি। আমাদের এখানে বিশেষ করে যেসমস্ত নবজাতক ভর্তি হয় তাদের মধ্য ভেন্টিলেটর সাপোর্ট বাদে সবধরনের সাপোর্ট দিয়ে থাকি।

বসুন্ধরা আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. ওয়াহিদা হাসিন বলেন, বসুন্ধরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পরিবার। এটাই মনে সব সময় লালন করে রোগীদের সেবা দিয়ে আসছি। আমি এই হাসপাতালে প্রথম থেকেই সেবা প্রদান দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছি। এখানের প্রতিটি কর্মীই রোগীদের আন্তরিকতার সাথে সেবা প্রদান করে থাকেন। কেরানীগঞ্জের প্রতিটি মানুষের কাছে উদত্ত আহ্বান থাকবে আমাদের এই হাসপাতালে আপনারা আসেন আমাদের সেবা গ্রহণ করেন এবং আমাদের আরো উন্নত করার জন্য পরামর্শ দিয়ে জান। আপনাদের ভালোবাসাই আমাদের শক্তি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা