kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জানুয়ারি ২০২০। ১৪ মাঘ ১৪২৬। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

জাবি উপাচার্যের দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ করলেন আন্দোলনকারীরা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৮:৫৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জাবি উপাচার্যের দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ করলেন আন্দোলনকারীরা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের দুর্নীতির খতিয়ান (তথ্য) প্রকাশ করেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। আজ মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে তিনটায় কলা ও মানবিকী অনুষদের শিক্ষক লাউঞ্জে সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারীরা উপাচার্যের দুর্নীতির সকল তথ্য বই আকারে প্রকাশ করেছেন। একই সাথে তারা দুর্নীতির তথ্য সম্বলিত এই বইয়ের কয়েকটি কপি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়েও দিয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

এ সময় আন্দোলনকারীরা জানান, ‘এই সংকলন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, ইনস্টিটিউট, অফিস থেকে প্রাপ্ত তথ্য এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথন ও সংবাদ-প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। এবং আরো যেসব তথ্য উপাত্ত রয়েছে, আগামীতে আরো একটি অনুরুপ বই প্রকাশ করা হবে। এ সময় ৭ দফা জানিয়ে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের ইশতেহার ঘোষণা করেন আন্দোলনাকারীরা।

সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জামাল উদ্দিন রুনু উন্নয়ন প্রকল্পে উপাচার্যের আর্থিক দুর্নীতি, টেন্ডারে অনিয়ম, উপাচার্যের অতীত দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতা এবং আন্দোলনকারীদের ওপর উপাচার্যের নির্দেশে ছাত্রলীগের হামলার নানা তথ্য তুলে বলেন, ‘উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর একনেক সভাকে কলঙ্কিত করেছেন। তিনি নিয়মতান্ত্রিকভাবে অনিয়ম করে যাচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়নের জন্য একটা বড় বাজেট আসার পরেই তার আসল রূপ বেরিয়ে আসে। যখন শিক্ষক শিক্ষার্থীরা এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলেছে তখনই তিনি হামলা মামলা দিয়েছেন। গত ৫ নভেম্বরে উপাচার্যের নির্দেশে আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের এক অংশের হামলার পর উপাচার্য তার পদে থাকার নৈতিক অধিকার হারিযেছেন। এই প্রশাসন দিয়ে আমাদের স্বপ্নের জাহাঙ্গীরনগর তৈরি করা সম্ভব না। উপাচার্যের পদত্যাগের সাথে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্নীতিবাজদের চক্র ভেঙে একটি সুষ্ঠু সুন্দর প্রশাসন চাই।’

‘উপাচার্যের দুর্নীতির খতিয়ান’ শীর্ষক ২২৪ পৃষ্ঠার এই বইয়ে আন্দোলনকারীরা উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের মধ্যস্থতায় তার বাসভবনে শাখা ছাত্রলীগকে উন্নয়ন প্রকল্প থেকে  দুই কোটি টাকা ভাগ-বাটোয়ারা, ছাত্রলীগ নেতাদের টাকা পাওয়ার স্বীকারোক্তি, ই-টেন্ডার না করে ম্যানুয়াল টেন্ডার আহ্বান করা, নির্দিষ্ট কিছু কম্পানিকে টেন্ডার পাইয়ে দেবার উদ্দেশ্যে একটি কম্পানির টেন্ডার শিডিউল ছিনতাই করানো, অভিযোগের পরও সে ঘটনার তদন্ত না করা, নিয়মবহির্ভূতভাবে উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারীকে (পিএস) অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের তদারক কমিটিতে রাখা, মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের টর (টার্মস অব রেফারেন্স) এবং মাস্টারপ্ল্যানের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রণয়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ও সিন্ডিকেটের অনুমোদন না নেওয়া, যথাযথ তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন না করাসহ আরও বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির তথ্য এই বইতে প্রকাশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অতীত দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচার শিরোনামে আরও কিছু অনিয়ম দুর্নীতির কথা এতে বলা হয়েছে এর মধ্যে: পিএইচডি কোর্সে ভর্তির শর্ত লঙ্ঘন করে উপাচার্যের স্বামী আখতার হোসেনকে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগে ভর্তি করা, অবৈধ প্রত্রিয়ায় স্কলারশিপ প্রদান এবং বোর্ড অব অ্যাডভান্স স্টাডিজ ও একাডেমিক কাউন্সিলে নিজের সভাপতিত্বে স্বামীর ডিগ্রি প্রদান, অ্যাক্ট, নীতিমালা ও সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তকে লঙ্ঘন করে চাকুরিক্ষেত্রে জ্যৈষ্ঠতা ক্ষুণ্ণ করা। আইন অনুষদের শিক্ষককে ডিন নিয়োগ না দিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট ১৯৭৩-এর ২৬ (৫) ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন করে অন্য অনুষদের শিক্ষককে ডিনের দায়িত্ব প্রদান, সিন্ডিকেট, ডিন, অর্থ কমিটি, সিনেট থেকে সিন্ডিকেট প্রতিনিধিসহ মেয়াদোত্তীর্ণ পর্ষদসমূহের নির্বাচন না দেওয়াসহ আরও বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগরের সমন্বয়ক অধ্যাপক রায়হান রাইন, অধ্যাপক আব্দুল জব্বার হাওলাদার, অধ্যাপক তারেক রেজা, অধ্যাপক খবির উদ্দিন, অধ্যাপক জামাল উদ্দিন রনু, অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা সুলতানা, অধ্যাপক শামীমা সুলতানা, সহযোগী অধ্যাপক খন্দকার হাসান মাহমুদ, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রফ্রন্ট, জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোট ও বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়নের জন্য ১৪৪৫ কোটি টাকার অনুমোদন দেয় একনেক। এরপর থেকে মাস্টারপ্লান পুনর্বিন্যাস, টেন্ডার আহ্বানে অস্বচ্ছতা সহ নানা অভিযোগ তুলে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাংশ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা