kalerkantho

বুধবার । ২২ জানুয়ারি ২০২০। ৮ মাঘ ১৪২৬। ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস ২০১৯

১১ মাসে ১৩৫১ নারী ধর্ষণের শিকার, যার মধ্যে ৯৪০ জনই শিশু (ভিডিও)

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের ৮ দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৩:১৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



১১ মাসে ১৩৫১ নারী ধর্ষণের শিকার, যার মধ্যে ৯৪০ জনই শিশু (ভিডিও)

চলতি বছরের এগারো মাসে ১৩৫১ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে যাদের মধ্যে ৯৪০ জন ছিলো শিশু। এছাড়াও ৪৪৩ জন শিশু হত্যার শিকার হয়েছে এবং বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৬৮২ জন শিশু। এসব ঘটনার দ্রুত বিচার না হওয়া ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার পথকে আটকে দিচ্ছে। যার কারণে অপরাধীদের অপরাধ প্রবণতা আরও বাড়ছে বলে মনে করছেন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। আজ সকাল ১১টায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস ২০১৯ উপলক্ষে আয়োজিত মানববন্ধনে এসব তথ্য তুলে ধরে আসক।

আসক মনে করে, গণমাধ্যমকর্মী ও নাগরিক সমাজের তীব্র বিরোধীতার পরও বহুল সমালোচিত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার অনুরূপ ধারা রেখে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন অনুমোদন করা হয়েছে। যা তথ্য ও যোগাযোগ আইনের ৫৭ ধারার অপব্যবহার বন্ধ হয়নি বরং আরো নতুনভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। 

এছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, নির্যাতন, মত প্রকাশ ও মুক্ত চিন্তার ওপর আঘাত, নারী ও শিশু নির্যাতন, হত্যা ও ধর্ষণের মতো জঘন্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। কার্যকর জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা, বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা প্রভৃতি জনগণের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্র আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে।  

মানববন্ধন থেকে মানবাধিকার নিশ্চিত করার জন্য সরকারের কাছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) ৮টি দাবি জানা। এর মধ্যে রয়েছে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যু, দায়িত্বে অবহেলা ইত্যাদির অভিযোগ উঠলে তা দ্রুততার সঙ্গে নিরপেক্ষ কমিশন গঠন করে নিস্পত্তি করতে হবে, নাগরিকদের মত প্রকাশের সাংবিধানিক অধিকার ও মৌলিক মানবাধিকার যাতে খর্ব না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে, গণমাধ্যম ও নাগরিকদের মত প্রকাশের অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনতে আনা, নারী ও শিশুর ওপর সহিংসতা বন্ধে কার্যকর সচেতনতামূলক ও প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি জোরদার করা, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিজ বিশ্বাস ও রীতি চর্চার অধিকার ও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ইত্যাদি। 

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক শীপা হাফিজা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জনগণের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার সর্বোপরি মানবাধিকার নিশ্চিত করার জন্য সরকার সাংবিধানিকভাবে দায়বদ্ধ। সেখানে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, সরকার ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থাসমূহ জনগণের মানবাধিকার সুরক্ষায় যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারছে না বা দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তাসহ সকল মৌলিক অধিকার, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া টেকসই উন্নয়নের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘কাউকে বাদ দেয়া যাবে না’- অর্থাৎ উন্নয়ন হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা