kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনার সনদ পেলো বসুন্ধরা ফাউন্ডেশন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৮:৫৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনার সনদ পেলো বসুন্ধরা ফাউন্ডেশন

সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে আর্থিক প্রণোদনা এবং ঋণ সহায়তা দেওয়ার জন্য মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) হতে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনার সনদ পেয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরার অলাভজনক প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা ফাউন্ডেশন। 

আজ বুধবার রাজধানী মগবাজারে এমআরএ সম্মেলন কক্ষে বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাসিমুল হাই -এর হাতে সনদ তুলে দেন এমআরএ’র এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান অমলেন্দু মুখার্জী। 

সনদ প্রদান অনুষ্ঠানে বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাসিমুল হাই বলেন, আমরা বাংলাদেশে নতুন ধারা প্রবর্তন করেছি। একেবারে তৃণমুলের নারীদের ঋণ বিতরণ করি। বসুন্ধরা গ্রুপ এখান থেকে ফান্ড নেবে না। বসুন্ধরা গ্রুপ মনে করে সমাজে প্রতি আমাদের কিছু দায়িত্ব আছে। আমাদের দায়িত্ববোধ থেকেই অপারেশন চালিয়ে যাবো। 

তিনি বলেন, বসুন্ধরা গ্রুপ নিয়মিতভাবে বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনকে অর্থায়ন করছে এবং ভবিষ্যতেও করবে তারা এই আশ্বাস দিয়েছেন। তহবিল ফেরত নেওয়ার মানসিকতাই বসুন্ধরা গ্রুপের নেই। কারণ আমাদের কোনো কাস্টমার ফাউন্ডেশনের সুবিধা পায় না।

নাসিমুল হাই আরও বলেন, মাইক্রোক্রেডিট পরিচালনাকারী অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর চেয়ে আমাদের কিছু তফাৎ আছে। আমাদের কনসেপ্ট হলো সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে আমরা কোনো সুদ নেই না। সার্ভিস চার্জ ছাড়া কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়। সনদ পাওয়া আমাদের জন্য সোনালী মুহূর্ত। এর মাধ্যমে আমরা মূলধারার সঙ্গে যুক্ত হতে যাচ্ছি।

অনুষ্ঠানে অমলেন্দু মুখার্জী বলেন, আজ যারা সনদ পেলেন তারা যদি নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠানের মালিক ভাবে তাহলে ভুল হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের মালিক ঋণ গ্রহীতারা। আপনারা প্রতিনিধি হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। লাভ হিসেবে এক টাকাও পকেটে নেওয়ার সুযোগ নাই। আপনারা যে শ্রম দিচ্ছেন, তার জন্য একটি নির্ধারিত পরিমান বেতন নিতে পারবেন। গরীবের কাছ থেকে আয় করা টাকা দিয়ে নিজেদের বিলাসিতার জন্য ব্যয় বহুল কিছু করতে যাবেন না।

এমআরএ’র এক্সিকিউটিভ ভাইস-চেয়ারম্যান বলেন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তির জন্য গ্রাহক সংখ্যা বাড়াতে গিয়ে অর্থ পাচার প্রতিরোধ, সন্ত্রাসে অর্থায়নের বিষয়ে সর্তক থাকবেন।  যাচাই-বাছাই করে গ্রাহকের সর্ম্পকে বিস্তারিত জেনে নিবেন। এমআরএর অনুমোদন ছাড়া মেয়াদী ও স্বেচ্ছা আমানত সংগ্রহ করবেন না। এতে যেকোনো সময় লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাবে। লাইসেন্স প্রদান এবং বাতিল করার ক্ষমতা এমআরএ’র হাতে রয়েছে। প্রথম দফায় লাইসেন্স প্রাপ্তদের মধ্য থেকে ১১৮টির বাতিল করা হয়েছে। দু-একটি প্রতিষ্ঠান বদনামের ভাগীদার হওয়ায় তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। অনেককে সতর্ক করা হয়েছে।

বসুন্ধরা ফাউন্ডেশন ২০০৫ সাল থেকে দেশব্যাপী সুদমুক্ত ঋণ বিতরণ, ফ্রি ফ্রাইডে ক্লিনিক, শিক্ষা ও সংস্কৃতি উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি শীতকালে শীতবস্ত্র বিতরণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগস্থদের সাহায্য প্রদান করে আসছে।

২০০৬ সালে এমআরএ যাত্রা শুরুর পর থেকে চলতি বছরের জুন শেষে কার্যক্রম পরিচালনাকারী এনজিওর সংখ্যা ৭২৪টি। নতুন করে দেওয়া হলো আরও ২৬টি প্রতিষ্ঠানকে।

ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের সনদ বিতরণের পাশাপাশি সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাহীদের নিয়ে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে অথরিটি ও ক্ষুদ্রঋণ সেক্টও সর্ম্পকে সার্বিক ধারণা, এমআরএ আইন, বিধিমালা এবং সার্কুলার, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ, শুদ্ধাচার পরিপালন, ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের রির্পোটিং, ক্রয় নীতিমালা ও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব-কর্তব্য সর্ম্পকে ধারণা দেন এমআরএ’র বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা