kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক-পরিচালককে হাইকোর্টে তলব

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৭:১৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক-পরিচালককে হাইকোর্টে তলব

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমুহ) ডা. মো. আমিনুল হাসানকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ৮ জানুয়ারি তাদের সশরীরে হাজির হতে বলা হয়েছে।

দেশের সকল জেলা সদরে সরকারি হাসপাতালে ৩০ বেডের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) ও করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) স্থাপনের নির্দেশ বাস্তবায়ন না করা, একই ধরণের প্রতিবেদন বারবার আদালতে দাখিল করার ব্যাখ্যা জানতে এবং আইসিইউ ও সিসিইউ ইউনিট স্থাপনের অগ্রগতি জানাতে তাদের ডাকা হয়েছে। 

বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বুধবার এ আদেশ দেন।

হিউম্যান রাইটস ল’ইয়ার্স অ্যান্ড সিকিউরিং এনভায়রনমেন্ট সোসাইটি অব বাংলাদেশের পক্ষে সংগঠনটির কোষাধ্যক্ষ মো. শাহ আলমের করা এক রিট আবেদনের ওপর শুনানির ধারাবাহিকতায় এ আদেশ দেওয়া হয়েছে।

রিট আবেদনকারীপক্ষে আইনজীবী ছিলেন ড. বশির আহমেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নুর উস সাদিক ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মিজানুর রহমান।

হাইকোর্ট গত ৭ মার্চ এক আদেশে দেশের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিকগুলোতে কতগুলো আইসিইউ ও সিসিইউ আছে, তার একটি পরিসংখ্যান চানতে চান। একইসঙ্গে একটি আইসিইউ বা সিসিইউ ইউনিট স্থাপনে কতটাকা খরচ হয়, কি পরিমাণ লোকবল ও বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন তারও তথ্য জানাতে বলা হয়। এরপর ২১ মে আরেকটি আদেশ দেন আদালত। এরপর গত ২৯ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে দেওয়া প্রতিবেদন গত ২৮ আগস্ট আদালতে উপস্থাপন করা হয়। ওই প্রতিবেদন পাবার পর হাইকোর্ট ওইদিন এক আদেশে ২৩ অক্টোবরের মধ্যে দেশের সকল জেলা সদরে সরকারি হাসপাতালে ৩০ বেডের আইসিইউ ও সিসিইউ স্থাপনে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রকল্প তৈরি করতে নির্দেশ দেন।

কত জনবল, টাকা প্রয়োজন তা সুনির্দিষ্ট করতে বলা হয়। এই আদেশের পর গত ৭ নভেম্বর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য সচিবের কাছে একটি প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। যা বুধবার আদালতে উপস্থাপন করা হয়। এই প্রতিবেদন আগের প্রতিবেদনের অনুরূপ হওয়ায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দুই কর্মকর্তাকে তলব করা হয়েছে।

আজ উপস্থাপিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘দেশের সকল জেলা সদর হাসপাতালে ৩০ বেডের আইসিইউ এবং সিসিইউ স্থাপনের জন্য বর্তমান প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনা বিবেচনায় রেখে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে ও হচ্ছে। যেহেতু আইসইউ ও সিসিইউ ইউনিট স্থাপন করতে হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও প্রশিক্ষিত জনবল এবং অত্যাধুনিক ও উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন অধিক মূল্যের ভারি যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয়। সেহেতু দেশের সকল সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৩০ বেডের সিসিইউ এবং ২০ বেডের আইসিইউ চালুর জন্য ডিপিপি প্রস্তুতপূর্বক মন্ত্রণালয়ে প্রেরণের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে। পুরোনো সকল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ইতিমধ্যে এই সেবা/ ইউনিট চালু আছে।’

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ‘দেশের সকল সদর হাসপাতালগুলোতে কার্ডিওলজি বিভাগ চালু আছে এবং অধিকাংশগুলোতে ৫ থেকে ১০ বেডের সিসিইউ চালু আছে। বাকীগুলোতে সিসিইউ ইউনিট চালুর প্রয়াজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে যেসকল সরকারি মেডিক্যাল কলেজের জন্য এখনও আলাদাভাবে হাসপাতাল ভবন তৈরি হয়নি। সেগুলোর হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট জেলা হাসপাতালগুলোতে সম্পন্ন হয়ে থাকে।’

যেসব হাসপাতালে সিসিইউ চালু আছে তার একটি তালিকা সংযুক্ত করে দেওয়া ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ওইসকল মেডিক্যাল কলেজগুলোর জন্য আলাদা হাসপাতাল ভবন তৈরি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে এবং অনেকগুলোতে অবকাঠামো নির্মাণাধীন আছে। যেগুলোতে ৫০ বেডের (২০+৩০) আইসিইউ-সিসিইউ চালুর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, দেশের সকল জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে ঠিক এ সময়ে (প্রয়োজনীয় এস্পেস, জনবল ও যন্ত্রবলের সংকট থাকতে) আইসিইউ চালু করা সম্ভব না হলেও ভবিষ্যতে হাসপাতাল ভবনের সম্প্রসারণ সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে আইসিইউ চালু করা সম্ভব হবে। এজন্য মধ্য থেকে দীর্ঘ মেয়াদী সময়ের প্রয়োজন হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা