kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

জানেন না ভিসি, জানে ছাত্রলীগ!

আজ সিন্ডিকেটের জরুরি সভা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি    

৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১১:৩০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জানেন না ভিসি, জানে ছাত্রলীগ!

উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনে হামলার পর বন্ধ হয়ে যাওয়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ৮ ডিসেম্বর চালু হচ্ছে বলে দাবি করেছেন শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি। এ তথ্যের সূত্র হিসেবে তিনি উপাচার্যের (ভিসি) কথা বলেছেন। সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই কী করে তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানালেন তা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অবশ্য উপাচার্য বলেছেন, সিন্ডিকেট সভা ছাড়া তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারেন না। তবে ক্যাম্পাসের অচলাবস্থা নিরসনে আজ বিকেলে সিন্ডিকেটের জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর।

ক্যাম্পাস সূত্র জানায়, হল খোলাসহ একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সচলের দাবিতে গতকাল দুুপুর আড়াইটার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের কাছে স্মারকলিপি তুলে দেন শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জুয়েল রানা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মাজেদ সীমান্ত, জহিরুল ইসলাম বাবু, বায়জিদ খান কলিংস, অর্ণব সরকার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফফান হোসেন আপন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. তারেক হাসান, অভিষেক মণ্ডলল, পঙ্কজ কুমার দাস প্রমুখ।

এর পরপরই ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল রানা তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লেখেন, ‘আগামীকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি সিন্ডিকেট। ৮ ডিসেম্বর শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চালু হবে। ৬ ও ৭ তারিখ থেকে শিক্ষার্থীরা হলে থাকতে পারবে। সূত্র : মাননীয় উপাচার্য ম্যাম।’

সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের আগেই আগাম সিদ্ধান্ত কিভাবে জানালেন—এমন প্রশ্নের জবাবে জুয়েল রানা বলেন, ‘আমরা ওই সব তারিখে হল ও শিক্ষা কার্যক্রম চালু করার দাবি জানিয়েছি। তিনি (উপাচার্য) আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন। তাই আমি ওই স্ট্যাটাস দিয়েছি। তবে আমরা সিন্ডিকেট সিদ্ধান্তের ওপরই আস্থা রাখতে চাই।’

জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সিন্ডিকেট সভা হওয়ার আগে আমি আনুষ্ঠানিক কিছু বলতে পারি না। তবে কেউ কিছু লিখে থাকলে সেটা তাঁর বিষয়।’

সিন্ডিকেট সভার আগেই সিদ্ধান্ত প্রকাশের বিষয়ে দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রায়হান রাইন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনানুষ্ঠানিক যে কাঠামো; তাতে উপাচার্য, তাঁর অনুসারী শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠন—এরা মিলেই আসলে বিশ্ববিদ্যালয় চালায়। এখানে আসলে সিন্ডিকেট সদস্যরা গৌণ হয়ে যান। তাঁদের জন্য এটা অসম্মানজনক যে ছাত্রলীগের একাংশ ও প্রশাসন মিলে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। তা ছাড়া সেই সিদ্ধান্তটি আগেই যখন বেরিয়ে আসে, তখন সিন্ডিকেট সদস্যদের মতামতের আর কোনো গুরুত্ব থাকে না।’

জাবি শাখা ছাত্রলীগের উপদপ্তর সম্পাদক এম মাইনুল হুসাইন স্বাক্ষরিত ওই স্মারকলিপিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থার দরুন নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। তাই অনতিবিলম্বে শিক্ষার্থীদের জন্য হল খুলে দেওয়াসহ পরীক্ষা ও শিক্ষা কার্যক্রম খুব দ্রুত কার্যকর করতে হবে।

তিন দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল কাল : উপাচার্যের অপসারণসহ তিন দাবিতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার দুুপুর ১২টায় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করার ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাংশ। গতকাল ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ (গতকাল) উপাচার্যের দুর্নীতির  খতিয়ান (তথ্য) প্রকাশ করার কথা ছিল। অনিবার্য কারণবশত আমাদের এই প্রকাশনা কর্মসূচিটি পিছিয়ে আগামী ১০ ডিসেম্বর করা হয়েছে।

আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো হলো, সচল ক্যাম্পাসে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করতে অবিলম্বে আবাসিক হল খুলে দিতে হবে, আন্দোলনকারীদের ওপর হামলাকারী ছাত্রলীগ সদস্যদের, হামলায় মদদদাতাদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থিতিশীল পরিবেশের স্বার্থে উপাচার্যকে অপসারণ করতে হবে।

প্রসঙ্গত, গত ৫ নভেম্বর দুর্নীতির অভিযোগে উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে তাঁর বাসভবনের সামনে অবস্থানরত আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ। ওই দিনই সিন্ডিকেটের জরুরি সভায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা ও শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা