kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

বুড়িগঙ্গায় ওয়াসার ১৬ সুয়ারেজ লাইন

বুড়িগঙ্গায় পড়া সুয়ারেজ লাইন বন্ধ করার দায়িত্ব ওয়াসার : হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২১:৫৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



 বুড়িগঙ্গায় পড়া সুয়ারেজ লাইন বন্ধ করার দায়িত্ব ওয়াসার : হাইকোর্ট

ওয়াসার পক্ষ থেকে লিখিতভাবে সোমবার হাইকোর্টকে জানানো হয়, বুড়িগঙ্গা নদীতে যে ৬৭টি প্রধান আউটলেট পতিত হয়েছে তার মধ্যে ঢাকা ওয়াসার ১৬টি। ওয়াসার এই প্রতিবেদনসহ ওয়াসার এমডির নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে দাখিল করা লিখিত বক্তব্য উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। নতুন হলফনামা দাখিলের জন্য ওয়াসার সময় চাইলে আদালত এ আদেশ দেন। আদালত ওয়াসার বিষয়ে আগামী ৮ ডিসেম্বর পরবর্তী আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছেন।

এদিকে বুড়িগঙ্গায় দুই পাড়ে ৬৮টি সুয়ারেজ লাইনের বাইরে যদি আরো কোনো ড্রেন বা সুয়ারেজ লাইন থাকে তবে তা ৭ জুনয়ারি মধ্যে বন্ধ করতে বিআইডাব্লিউটিএ-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আদালতে দাখিল করা ২৭টি প্রতিষ্ঠানের বাইরে পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া আর কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে কীনা তার তালিকা দাখিল করতে পরিবেশ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহ’র হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এ আদেশ দেন। আদালতে ওয়াসা ও বিআইডাব্লিউটিএ’র আইনজীবীর সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। আদালতে ওয়াসার পক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার এ এম মাছুম। বিআইডাব্লিউটিএ’র পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট সৈয়দ মফিজুর রহমান। 

রিট আবেদনকারী মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আমাতুল করিম। বিভিন্ন সময়ে শুনানিতে ওয়াসার আইনজীবী এ এম মাছুম উপস্থিত না থেকে জুনিয়রকে পাঠানোর ঘটনায় হাইকোর্ট তাকে তিরস্কার করেছেন। আদালত বলেছেন, সিনিয়র আইনজীবী হিসেবে ফিস নিয়ে নিজে উপস্থিত না থাকা প্রতারনা ছাড়া আর কিছুই নয়।

এদিকে আদালত বলেছেন, ভূমি বা রাস্তার উপরিভাগের ড্রেন বাদে বুড়িগঙ্গায় যে ৬৮টি সুয়ারেজ লাইন বা ড্রেনেজ পড়েছে তা বন্ধ করার দায়িত্ব ওয়াসার। বুড়িগঙ্গার পানি দূষণমুক্ত রাখার স্বার্থেই এসব সুয়ারেজ লাইন ওয়াসার বন্ধ করা উচিত।

গত ১৮ জুন ওয়াসার দেওয়া এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বুড়িগঙ্গায় ওয়াসার কোনো সুয়ারেজ লাইন নেই। কিন্তু এরপর পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষে দাখিল করা প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন এলাকায় ৬৮টি স্থান দিয়ে  দূষিত বর্জ্য বুড়িগঙ্গায় ফেলা হচ্ছে। এরমধ্যে ৫০টি ওয়াসার সুয়ারেজ লাইন। এই দুই প্রতিবেদন দেখার পর গত ১৭ নভেম্বর ওয়াসার এমডিকে শোকজ করেন হাইকোর্ট। শোকজ নোটিশ আদালতের আদেশ অমান্য করা এবং মিথ্যা তথ্য দেওয়ায় কেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয়। ১৫ দিনের মধ্যে শোকজের জবাব দিতে বলা হয়। এ অবস্থায় ওয়াসার এমডির একটি জবাব ২ ডিসেম্বর হাইকোর্টে দাখিল করা হয়। এতে বলা হয়, বুড়িগঙ্গায় ৬৭টি স্থান দিয়ে বর্জ্য পড়ছে। তারমধ্যে ওয়াসার লাইন ১৬টি। তাতে ২০১১ সালে হাইকোর্টের দেওয়া রায় যথাযথ বাস্তবায়ন না করায় নিঃশর্ত ক্ষমা চান। ওয়াসার এই দুই ধরণের প্রতিবেদনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন হাইকোর্ট।

আজ শুনানিতে মনজিল মোরসেদ মিথ্যা তথ্য দেওয়ায় ওয়াসার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আবেদন জানালে আদালত বলেন, ওয়াসার এমডিকে শাস্তি দিলে বা তা চাকরি গেলেতো বুড়িগঙ্গার পানি বিশুদ্ধ হয়ে যাবে না। তাই আমরা দেখতে চাই তিনি আদালতের নির্দেশনার আলোকে কি ব্যবস্থা নিয়েছেন। যেহেতু আজ মঙ্গলবার শুনানিতে ওয়াসার আইনজীবী উপলব্দি করতে পেরেছেন যে তাদের দেওয়া বক্তব্য সঠিক হয়নি। তাই তিনি তা প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করেছেন। তাই তাদের প্রতিবেদন উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করা হলো।

এইচআরপিবির করা এক রিট মামলায় হাইকোর্ট ২০১১ সালে এক রায়ে বুড়িগঙ্গা নদীর তীর থেকে সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেন। এছাড়া নদীর পানি যাতে দূষিত না হয় সেজন্য সব ধরণের বর্জ্য ফেলা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। এই রায়ের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এখনও কিছু শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে তরল বর্জ্য নদীতে ফেলা হচ্ছে। যা নদীর পানিকে দূষিত করছে। যা এইচআরপিবি’র পক্ষ থেকে আদালতের নজরে আনা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আজ শুনানি হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা