kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

'মুক্তিযোদ্ধাদের অস্বচ্ছল থাকাটা রাষ্ট্রের জন্য লজ্জার'

নিজস্ব প্রতিবেদক    

৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২০:২৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'মুক্তিযোদ্ধাদের অস্বচ্ছল থাকাটা রাষ্ট্রের জন্য লজ্জার'

চাঁদপুর, পাবনা, কুষ্টিয়া ও মাগুরা জেলার ২০৮ জন মুক্তিযোদ্ধার নাম গেজেটভুক্ত করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তাদের সরকারি ভাতা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে যার যার ভাতা বন্ধ করা হয়েছে তাদের ভাতা চালু করতে এবং বকেয়া ভাতা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায়ের কপি পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে তা কার্যকর করতে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার এক রায়ে এ নির্দেশ দেন। আদালত রায়ে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষে আপিল করা হবে বলে জানিয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাসগুপ্ত।

রায়ে চাঁদপুর জেলার ১৪৯ জন, পাবনার ৪০ জন, মাগুরার ১১ জন ও কুষ্টিয়ার ৮ জনের নাম গেজেটভুক্ত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাদের নাম গেজেটভুক্ত না করা এবং এদের মধ্যে চাঁদপুরের ১৪৯ জনের ভাতা বাতিল করার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দাখিল করা ৮টি রিট আবেদনের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে এ রায় দেওয়া হয়েছে।

রিট আবেদনকারীপক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার তৌফিক ইনাম টিপু ও ব্যারিস্টার গালিব আমিদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাসগুপ্ত।

হাইকোর্ট তার পর্যবেক্ষণে বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। সরকারি ভাতা পাওয়া কোনো করুণা নয়, এটা তাদের অধিকার। জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তানদের অস্বচ্ছল থাকাটা রাষ্ট্রের জন্য লজ্জার।

আদালত বলেন, স্বাধীনতার পর ৪৮ বছর পেরিয়ে গেছে। এখনো মুক্তিযোদ্ধাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা করা সম্ভব হয়নি। আদালত বলেন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের কমিটি মুক্তিযোদ্ধাদের নাম তালিকাভুক্তির যে সুপারিশ করেছে তা উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই। ওই তালিকার ভিত্তিতে মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেটভুক্ত করতে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলকে(জামুকা) নির্দেশ দেওয়া হলো।

আদালত বলেন, মুক্তিযোদ্ধা নন, এমন কারো নাম যদি গেজেটভুক্ত হয়ে থাকে তবে তার নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। আগে তাকে নোটিশ দিতে হবে। এরপর এ বিষয়ে শুনানি গ্রহণ করে আইনানুয়ায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে।

রায়ের পর অমিত দাসগুপ্ত বলেন, আদালত বলেছেন, যথাসম্ভব স্বশরীরে হাজির হয়ে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই করতে হবে। কারো নাম গেজেট থেকে বাদ দিতে হলে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। আগে তাকে নোটিশ দিতে হবে। তার বক্তব্য শুনতে হবে।

ব্যারিস্টার তৌফিক ইনাম টিপু বলেন, আদালত রায়ে বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে বার বার কমিটি গঠন এবং জামুকা কর্তৃক স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে গেজেটে অন্তর্ভূক্তকরণ অথবা গেজেট থেকে বাদ দেওয়াটা মুক্তিযোদ্ধারে প্রতি চরম অবমাননাকর ও অসম্মানের। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা