kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

ওবায়দুল কাদের বললেন

বিএনপির মুখ ছাড়া সব সরকারের নিয়ন্ত্রণে

নিজস্ব প্রতিবেদক    

২২ নভেম্বর, ২০১৯ ২৩:৫৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিএনপির মুখ ছাড়া সব সরকারের নিয়ন্ত্রণে

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বিএনপি নেতারা বলেন, শেখ হাসিনার সরকার নাকি সব কিছুর উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে। আসলে ফখরুল সাহেব, সব কিছুর উপরে আমাদের নিয়ন্ত্রণ আছে, দেশের সার্বিক পরিস্থিতির উপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ আছে, শুধু নিয়ন্ত্রণ নেই আপনাদের মুখের উপর। আপনাদের মিথ্যাচারের উপর, আপনাদের অপপ্রচারের উপর।’

গতকাল শুক্রবার বিকেলে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় এসব কথা বলেন তিনি। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

বিএনপির সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘অপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে যখন ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছি, তখন বলবে গণতন্ত্র নেই। ফখরুল সাহেব, আপনি আমার এক বছর আগে বিএনপির মহাসচিব হয়েছেন। নাম গন্ধও তো নেই সম্মেলনের। আমরা সময়মতো করে ফেলেছি। আপনার সিটিতেও খবর নেই। আমাদের সিটিতেও সম্মেলন সময়মতো হচ্ছে। কই, আপনাদের দলের তো কোনো খবর নেই। তাহলে গণতন্ত্র কোথায় আছে? দলেই তো গণতন্ত্র নেই, তাহলে দেশে কিভাবে আপনারা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবেন?’

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আপনি যদি ত্যাগ স্বীকার করেন, এই ত্যাগের স্বীকৃতি, আওয়ামী লীগে ত্যাগের মূল্যায়ন অবশ্যই হবে। কাজেই কেউ ধৈর্যহারা হবেন না, অস্থির হবেন না। হঠাৎ করে দেখবেন আপনি কিছুতেই নেই, আপনি মনে করছেন আপনি উপেক্ষিত, হঠাৎ এমন একটা দায়িত্ব আপনার উপর এসে গেল, আপনার সব হতাশা কেটে যাবে।’

৩০ নভেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘প্রথমে আমরা ভেবেছিলাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের কারণে মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন আমরা পরে করব। কিন্তু নেত্রী অনেক চিন্তা-ভাবনা করে আমাদের বললেন, কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগেই তো মহানগরের সম্মেলন হয়। আমাদের প্র্যাকটিস আমরা করে যাব। সে কারণে তাঁর নির্দেশেই এই সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ হয়েছে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কমিটি ঘোষণা এবার আমরা স্থগিত রাখব না, মুলতবি রাখব না। গতবার সম্মেলনের অনেক পরে কমিটি হয়েছে। এবার যেদিন সম্মেলন সেদিনই কমিটি ঘোষণা হবে। যাঁরা নেতা নির্বাচিত হবেন তাঁরা ১৫ দিনের মধ্যে দেখেশুনে কমিটি করবেন। তবে একটা কথা আছে—আপনারা যদি দল ভারি করার জন্য বিতর্কিত লোকদের নেন, কমিটি করতে চান, তাতে লাভ হবে না। নেত্রীর কাছে গোয়েন্দা রিপোর্ট আছে। বিতর্কিত কারা, তিনি তা দেখে যাচাই-বাছাই করে কমিটি দেবেন।’

এর আগে দুপুরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যুবলীগের জাতীয় কংগ্রেসস্থল পরিদর্শনকালে যুবলীগের নতুন নেতৃত্ব প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কে নেতা হবেন এই মুহূর্তে বলতে পারছি না। কাউন্সিল সেশনে চেয়ারম্যান এবং সাধারণ সম্পাদকের নাম আসবে। বেশি প্রার্থী থাকলে তাঁদের একজন হওয়ার জন্য সময় দেব। সেই সময়সীমার মধ্যে কম্প্রোমাইজ না হলে উপস্থিত নেতারা এবং সর্বোপরি নেত্রীর সঙ্গে আলাপ করে নতুন কমিটির চেয়ারম্যান-সম্পাদকের নাম ঘোষণা করব।’

এক প্রশ্নের উত্তরে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নেতাকর্মীরা যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ শেখ ফজলুল হক মনির রক্তের উত্তরাধিকার কাউকে যুবলীগের নেতৃত্বে চাইতেই পারে, সেটি যুবলীগের অধিকার আছে।’

যুবলীগের জাতীয় কংগ্রেসের দিন ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ যুবলীগের কমিটি হবে কি না জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সম্মেলন ছাড়া কমিটি ঘোষণা হবে না। কাউন্সিলের পর মহানগর উত্তর এবং দক্ষিণের কমিটির ব্যবস্থা করবে যুবলীগের নতুন কমিটি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা