kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৭ রবিউস সানি ১৪৪১     

আমন মৌসুমে ছয় লাখ টন ধান কিনবে সরকার : কৃষিমন্ত্রী

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ নভেম্বর, ২০১৯ ১৬:৪৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আমন মৌসুমে ছয় লাখ টন ধান কিনবে সরকার : কৃষিমন্ত্রী

কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে দেখা গেল, বাজারে চালের মূল্য অনেক বেড়েছে। আমরা গত বোরো মৌসুমে অনেক নিয়েছি, কৃষকেরা যাতে ন্যায্যমূল্য পায়। চলতি আমন মৌসুমে ছয় লাখ টন ধান কিনবে সরকার। ৪০০ টাকা হারে কৃষকদের কাছ থেকে এ ধান কেনা হবে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরার (আইসিসিবি) নবরাত্রি হলে তিন দিনব্যাপী সপ্তম বাপা ফুডপ্রো ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো-২০১৯’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ধান কেনার ক্ষেত্রে আমরা দরিদ্র কৃষকদের বেছে নেব। তাদের মধ্যে লটারি হবে। ফলে রাজনৈতিক চাপ থাকবে না। সরকারের চাল কেনার ঘোষণায় হয়তো ধানের দাম ১০০-২০০ টাকা বেড়েছে। এটা কৃষকের জন্য সুখবর। দাম বাড়া বা কমা নিয়ে মন্ত্রণালয় সব সময় উভয় সংকটে থাকে। কারণ দাম কমলেও সমালোচনার শিকার হতে হয়। আবার বাড়লেও সে দায় আমাদের ওপর চাপে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগপূর্ণ দেশ। এরপরেও খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ং-সম্পূর্ণ একটি দেশ। বাংলাদেশ সব ধরনের কৃষিজাত পণ্য রপ্তানি করছে। গত বোরো মৌসুমে চাহিদার চেয়েও বেশি ধান উৎপাদন করেছে। কিন্তু আমাদের কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পায় না। 

তিনি বলেন, আমাদের তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য খাত কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিরাট ভূমিকা রাখতে পারে। গত বছর দেশে ৪ মিলিয়ন টন আলু উদ্বৃত্ত ছিল। পণ্যের সুলভ মূল্য পেতে উৎপাদিত পণ্যে মূল্য সংযোজন করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার বিশ্বদীপ দে বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ১৯৭১ সাল থেকে। আমাদের দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর ডায়নামিক নেতৃত্বে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। অ্যাগ্রো খাতে কয়েক বছরে বাংলাদেশ খুব ভালো করেছে। রপ্তানি আয় বেড়েছে। ভারত অ্যাগ্রো খাতের বড় একটি মার্কেট। বাংলাদেশ থেকে ২১ অ্যাগ্রো পণ্য ভারতে যায়।


বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সৈয়দা সারওয়ার জাহান বলেন, বাংলাদেশ এখন ১৪৪টি দেশে কৃষিপণ্য রপ্তানি করে। তাই অ্যাগ্রো খাতে যেন কোনো কালেমা না লাগে। কিছুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠান গবেষণা করে জানিয়েছে, বাংলাদেশের রপ্তানি করা গুড়ো হলুদে ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া গেছে। যা ব্যবহারে ক্যানসারও হতে পারে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (ফাও) বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টিটিভ রবার্ট ডগলাস সিম্পসন বলেন, বাংলাদেশের কৃষিজাত পণ্য ডায়নামিক ও পাওয়ারফুল খাত। এদেশের বেসরকারি খাত খুব ভালো করছে। অ্যাগ্রোতে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে পণ্য তৈরি করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ঢাকায় নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জিন মেরিন সুহ, সম্মানিত অতিথির বক্তব্য রাখেন রাখেন এসিআই অ্যাগ্রি বিজনেসেস’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এফ এইচ আনসারি, স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ অ্যাগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) প্রেসিডেন্ট আ ফ ম ফখরুল ইসলাম মুনশি। 

এ ছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাপার জেনারেল সেক্রেটারি ইকতাদুল হক ও মেলা আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী প্রমুখ।

আন্তর্জাতিক এ মেলায় বাংলাদেশ, ভারত, চায়নাসহ বিশ্বের ১৫টি দেশের তিন শতাধিকেরও বেশি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা