kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

'সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে আইন প্রণয়ন উচিত ছিল'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ নভেম্বর, ২০১৯ ১৩:২৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে আইন প্রণয়ন উচিত ছিল'

'নতুন সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবসম্মত নয়। সবার সঙ্গে  আলোচনা করে সরকারের এই আইনটি করা উচিত ছিল। কিন্তু তাঁরা কারো সঙ্গে আলোচনা করার প্রয়োজন মনে করেননি। ফলে এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে।'

আজ বুধবার (২০ নভেম্বর) সকালে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও  কালিবাড়ির নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মির্জা ফখরুল বলেন, জবাবদিহিতা না থাকায় ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। খালেদা জিয়া এদেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন। সেজন্য তাঁকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সাজানো মামলায় বন্দি রাখা হয়েছে। বর্তমানে দেশে যে সংকট চলছে খালেদা জিয়া জেলের বাইরে থাকলে সে সংকট কাটিয়ে উঠতে পারতো সরকার। যদি সরকার খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলোচনা শুরু করে তবে বর্তমান সংকট থেকে মুক্তি পাবে দেশ ও জাতি।

ফখরুল বলেন, 'সরকার বড় বড় মেগা প্রজেক্ট তৈরি করে সে টাকা বিদেশে পাচার করছে, দেশের পেঁয়াজ ও লবণ নিয়ে যে সংকট সেদিকে তাঁদের নজর নেই। দেশ থেকে এ পর্যন্ত ২৮ লক্ষ কোটি টাকা পাচার হয়ে গেছে বিদেশে। বিএনপিকে কোনো সভা-সমাবেশ করতে দেওয়া হয় না। তারপরও খুব সীমিত পরিসরে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। একটি পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে , যেখানে গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এই সরকারকে বিদায় নিতে হবে।'

বিএনপি মহাসচিব বলেন, নতুন করে গণতন্ত্র সম্পর্কে মানুষকে ধারণা দেওয়ার কিছু নেই। গণতন্ত্র কী, তা এদেশের জনগণ অনেক আগেই জেনে গেছে। প্রকৃতপক্ষে  ব্রিটিশ ভারত থেকেই এদেশের মানুষ ভোট দিয়ে তাদের জনপ্রতিনিধি ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে শিখেছেন এবং জানেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, যে রাজনৈতিক দলটি অতীতে সবসময় গণতন্ত্রের কথা বলেছে, পাকিস্তান আমলে আন্দোলন করেছে, ব্রিটিশ আমলেও আন্দোলন করেছে সে দলটি একবার ১৯৭৫ সালে এবং বর্তমানে ধীরে ধীরে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ভেঙে দিয়ে অভিনব পদ্ধতিতে ছদ্মবেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা নিয়ে চলে এসেছে। এই একদলীয় শাসন ব্যবস্থা আনতে তাঁরা সংবিধান পরিবর্তনসহ দেশের যে কাঠামো তা ভেঙে চূরমার করে  দিয়েছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ক্ষমতায় টিকে থাকাটাই প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্ষমতায় টিকে থাকতে গিয়ে সব ধরনের অনৈতিক কাজ করা হচ্ছে।

পার্লামেন্ট সম্পর্কে ফখরুল বলেন, দেশে এখন পার্লামেন্ট বলতে কিছুই নেই। বর্তমানে যে পার্লামেন্ট রয়েছে তা তথাকথিত, সে পার্লামেন্ট জনগণের নির্বাচিত নয়। সেখানে একটি দল ছাড়া অন্য কোনো দল নেই বলা যায়। তাই স্বাভাবিকভাবে এই ধরনের একটি দলের পক্ষে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত। এ কারণে বর্তমানে পেঁয়াজ, লবণ, চালসহ অন্যান্য দ্রব্য সামগ্রীর দাম বাড়ছে। সরকার কোনো কিছুই নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছে না। 

এই পরিস্থিতির অবসান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে মির্জা ফখরুল বলেন, মানুষ ধীরে ধীরে এসব দুর্নীতির প্রতিবাদ করছে ও প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। এভাবে ধীরে ধীরে গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এই সরকারকে বিদায় নিতে বাধ্য করবে জনগণ। বিএনপি অতীতে জনগণের সঙ্গে ছিল, রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা