kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজাপ্রাপ্ত

আর কোনো শিশু বন্দি আছে কিনা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক    

১৯ নভেম্বর, ২০১৯ ১৭:৫৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আর কোনো শিশু বন্দি আছে কিনা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট

ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজাপ্রাপ্ত এক শ ২১ শিশু ছাড়াও আর কোনো শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে বন্দি আছে কিনা তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া টঙ্গী ও যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে বন্দি ১২ বছরের নীচের বয়সী কতজন শিশুকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, তাদের কে নিয়ে গেছে তারও তথ্য চেয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে ১২ থেকে ১৮ বছল বয়সী শিশুদের মধ্যে কতজন জামিনে মুক্তি পেয়েছে তারও তথ্য জানাতে বলা হয়েছে। আগামী ২৬ নভেম্বরের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষকে এ তথ্য জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মো. মাহমুদুল হাসান তালুকদারের হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার এ আদেশ দেন। আদালতে শিশুদের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন চিল্ড্রেন চ্যারিটি বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম ও অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।

আদালত তার কাছে জানতে চান, এ পর্যন্ত কতজন শিশুকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। জবাবে তিনি বলেন, এ মুহুর্তে তার কাছে কোনো তথ্য নেই। তবে তথ্য জানতে তিনি আদালতের কাছে সময় আবদেন করেন। এরপর আদালত উল্লেখিত আদেশ দেন।

‘আইনে মানা তবুও ১২১ শিশুর দণ্ড’ শিরোনামে একটি জাতীয় দৈনিকে গত ৩১ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে আদেশ দেন হাইকোর্ট। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজাপ্রাপ্ত এসব শিশু টঙ্গী ও যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে বন্দি। এই প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনেন ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম। এরপর হাইকোর্ট গত ৩১ অক্টোবর এক আদেশে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে টঙ্গী ও যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে বন্দিদের মধ্যে যাদের বয়স ১২ বছরের নীচে তাদের অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ দেন। আর যেসব শিশুর বয়স ১৩ বছর থেকে ১৮ বছর তাদের ৬ মাসের জামিনে মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়। জামিনপ্রাপ্তদের সংশ্লিষ্ট জেলা শিশু আদালতের সন্তষ্ট সাপেক্ষে জামিননামা দাখিল করতে বলা হয়।

এ ছাড়া সাজাপ্রাপ্ত শিশুদের প্রত্যেকের জন্য সাজার আদেশ সম্বলিত নথি আলাদাভাবে তৈরি করে তা ৭ কার্যদিবসের মধ্যে হাইকোর্টে পাঠাতে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট ও বিবাদীদের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়। হাইকোর্ট অন্তবর্তীকালীন নির্দেশনার পাশাপাশি রুল জারি করেন। রুলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শিশুদের সাজা দেওয়া ও আটক রাখা কেন অবৈধ হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র, আইন, জনপ্রশাসন, সমাজ কল্যাণ এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, র‌্যাব মহাপরিচালক, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, টঙ্গী ও যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের তত্তাবধায়ক, সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার মুক্তিপ্রাপ্তদের তথ্য জানতে চেয়ে আদেশ দেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা