kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৭ রবিউস সানি ১৪৪১     

মা বিদিশাকে সঙ্গে রাখতে চান এরিক, থানায় জিডি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ১৯:৪১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মা বিদিশাকে সঙ্গে রাখতে চান এরিক, থানায় জিডি

মা বিদিশাকে নিয়েই বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কে থাকতে চান সদ্য প্রয়াত জাতীয় পার্টির চেয়ার‌ম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ছেলে এরিক এরশাদ।

সোমবার এরিক নিজে গুলশান থানায় উপস্থিত হয়ে এ বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান বলেন, অনেকে অভিযোগ করেছেন বিদিশা জোর করে বারিধারার বাসায় এসেছেন। কিন্তু এরিক নিজে জিডিতে উল্লেখ করেছেন, তিনি অসুস্থ। এ অবস্থায় বাসায় তার মা বিদিশাকে নিয়ে থাকতে চান।

জিডির বিষয়টি আমলে নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার এরশাদের ছোট ছেলে এরিক এরশাদের নিরাপত্তার প্রশ্নে বিস্তর অভিযোগ এনেছেন তার মা বিদিশা। এরশাদের বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের ফ্ল্যাটে থাকা অটিস্টিক এরিককে ‘চরম অবহেলা করে তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটানো হয়েছে’ বলে অভিযোগ বিদিশার। তার অভিযোগের তীর এরশাদের ভাই ও জাতীয় পার্টির বর্তমান চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের দিকে।

চলতি বছর জুলাইয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদের মৃত্যুর পর ছেলে শাহতা জারাব এরিককে নিজের কাছে রাখতে চাইছিলেন মা বিদিশা।

তবে বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কে থাকা এরিকের সঙ্গে দেখা করাটা সহজ ছিল না বলে জানান বিদিশা। তার অভিযোগ, এরিকের দেখভালের দায়িত্বে থাকা কর্মচারীরা তাকে ওই বাড়িতে ঢুকতে ‘বাধা দিতেন’।

গত বৃহস্পতিবার রাতে ‘একরকম জোর’ করেই বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কে এরশাদের বাসভবনে উঠে পড়েন বিদিশা। ওই ভবনের পাঁচতলার একটি ফ্ল্যাটে থাকেন তার তরুণ ছেলে এরিক।

এখনও ওই ফ্ল্যাটে থাকা বিদিশা বলেন, ‘সেদিন রাতে এসে শুনি, এরিককে ওরা মাত্র একবেলা খাবার খেতে দিত। এরিকের ওজন কমে গেছে। সে নিজেও খুব ভীতিসন্ত্রস্ত ছিল।’

এদিকে এরিকও সাংবাদিকদের বলেছেন, বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কে তিনি ‘কিছুটা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন’।

এরিকের দায়িত্ব নিয়ে এরশাদ-বিদিশার লড়াই আদালতে গড়িয়েছিল। ২০০৫ সালে তাদের বিচ্ছেদের পর এরশাদের দেওয়া মামলায় গ্রেপ্তারও হতে হয়েছিল বিদিশাকে। পরে আদালতের মাধ্যমে এরিকের দায়িত্ব পান এরশাদ। বারিধারার বাড়িতে এরিককে নিয়ে থাকতেন তিনি।

এরশাদ তার মৃত্যুর আগে এরিকের ভরণপোষণের জন্য ট্রাস্ট গঠন করে যান। সেই ট্রাস্টি বোর্ডে রয়েছেন এরশাদের ভাতিজা ও জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য খালেদ আখতার। এরিকের সঙ্গে দেখা করতে না দেওয়ায় বিদিশার অভিযোগ রয়েছে খালেদের বিরুদ্ধেও।

তবে খালেদ উল্টো বিদিশাকে দোষারোপ করে বলছেন, ‘তিনি (বিদিশা) প্রায় উটকো লোক নিয়ে প্রেসিডেন্ট পার্কে আসেন। চেয়ারম্যান স্যারও তার জীবদ্দশায় বলে গেছেন, বিদিশা যেন এই বাড়িতে না আসে।’

গত শুক্রবার বিদিশা তার ফেসবুক পেজে এক পোস্টে জানিয়েছেন, এরিককে ঠিকমতো খাবার খেতে দেওয়া হচ্ছিলো না বহুদিন ধরেই। এরিক বিদিশার কাছে অভিযোগ করেছেন, তাকে শুধু দুপুরে এক বেলা খাবার খেতে দেওয়া হতো। এবং এরশাদ মারা যাওয়ার আগে যেসব মিনারেল ওয়াটার এবং বিস্কুট রেখে গিয়েছিলেন সেসব খেয়েই বাকী সময়ে খিদে মেটাতেন এরিক।

এরপর রবিবার বিকালে বিদিশা তার ফেসবুকে পেইজে তার ছেলে এরিক এশাদের একটি ভিডিও আপলোড করেন। তাতে এরিককে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে বলতে শোনা যায়- ‘প্রিয় হোম মিনিস্ট্রি আঙ্কেল, আমি এরিক বলছি। আমাকে নির্যাতন করা হয়েছে। আমাকে খেতে দেওয়া হত না।’

‘আমার লিগ্যাল গার্জিয়ান আমার চাচা জি এম কাদের না, আমার মা। সেক্ষেত্রে ওনার (জি এম কাদের) তো কোনো রাইট নাই, আমাদের এরকম টর্চার করার।’

প্রেসিডেন্ট পার্কের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা যেন কোনো ‘ঝামেলা না করে’ তার অনুরোধও করতে দেখা যায় এরিককে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা