kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

কসবায় ট্রেন দুর্ঘটনায় আহত সোহেলের অবস্থার অবনতি

চিকিৎসার ব্যয়ে দিশেহারা পরিবার

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ১৪:১৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কসবায় ট্রেন দুর্ঘটনায় আহত সোহেলের অবস্থার অবনতি

ব্রাক্ষণবাড়িয়ার কসবায় দুই ট্রেনের সংঘর্ষে গুরুতর আহত বানিয়াচংয়ের সোহেল মিয়ার অবস্থা হঠাৎ করেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। পাশাপাশি তার স্ত্রী নাজমা আক্তার ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। উভয়ের চিকিৎসার ব্যয় মিটাতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে তার পরিবার।

এদিকে সোহেলের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় ঢাকার পঙ্গু হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রথমে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে আইসিইউতে কোনো সিট থাকায় বাধ্য হয়ে পরর্বতীতে ধানমন্ডির মাল্টি কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে সোহেলকে। সেখানে আইসিইউ’র ৩ নাম্বার কেবিনে ভর্তি আছেন তিনি। ভর্তি থাকাকালে প্রতিদিন তাকে বি পজিটিভ রক্ত পুশ করতে হচ্ছে। এরই মধ্যে ৮ ব্যাগ রক্ত প্রক্রিয়াজাত করে সাদা সেল তার শরীরে পুশ করার কথা জানিয়েছেন সেখানকার চিকিৎসক।

আহত সোহেল জানান, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার ফুসফুস ছিদ্র হয়ে গেছে। ধাপে ধাপে ১৫ থেকে ১৬ ব্যাগ রক্ত লাগবে। এ অবস্থায় এই হাসপাতালের চিকিৎসার ব্যয়ভার মেটাতে তার পরিবারের পক্ষে কোনোমতেই সম্ভব হয়ে উঠছে না। শুধুমাত্র তার জন্য প্রতিদিনি ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে।

সোহেল মিয়ার স্ত্রী নাজমা আক্তার জানান, ট্রেন দুর্ঘটনায় আমার একমাত্র মেয়ে আদিবাকে হারিয়েছি এর চেয়ে কষ্ট কি আর হতে পারে। এখন আমার পরিবারের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। আমাদের চিকিৎসার খরচ মেটাতে অনেক টাকা দরকার। আমরা কই পাবো এতো টাকা। আহত সোহেলের একমাত্র ছেলে নাফিজ তার ডান হাতও ভাঙা। বেডের পাশে তাকে তার বাবার দিকে অপলক দৃষ্টিতে চেখে থাকতে দেখা গেছে। চিকিৎসাধীন রয়েছেন তার শ্বাশুড়ি রেনু বেগমও। গুরুতর আহত নাজমার জন্যও একাধিক ব্যাগ রক্তের দরকার বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

একদিকে ট্রেন দুর্ঘটনায় সোহেলের আদরের মামনি আদিবা আক্তার সোহা মারা যায়। শোকে পাথর এই পরিবারটি এখন তাদের চিকিৎসার ব্যয়ভার মেটাতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

ঢাকায় বসবাসরত বানিয়াচংয়ের সাংবাদিক রুপক, আওয়ামী লীগ নেতা ময়েজ উদ্দিন শরীফ রুয়েল, সাংবাদিক সাখাওয়াত কাওছার, লুৎফুর রহমান, অ্যাডভোকেট আশরাফ হোসেন তিতাস, নাজমুল হোসেনসহ আরো বেশ কয়েকজন তার চিকিৎসার দেখভাল করছেন। সার্বক্ষণিক তার অবস্থার আপডেট দিচ্ছেন তারা। পাশাপাশি সরকারি কোনো হাসপাতালে আইসিইউতে যাতে একটি সিট পাওয়া যায় সেই জন্য চলছে চেষ্টা। দেশ বিদেশে অবস্থানরত বিশেষ করে আমেরিকার মিশিগানে প্রবাসী বানিয়াচংবাসীরা আহত সোহেল ও তার পরিবারের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছেন।

মানবিক দিক বিবেচনা করে বানিয়াচং গ্যানিংগঞ্জ বাজার ও বড়বাজার কাপড় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দরা তাদের চিকিৎসার জন্য কিছু টাকা আহত সোহেলের পরিবারের কাছে তুলে দেয়া হয়েছে। আহত সোহেলের পাশে দাঁড়ানোর ফলে কিছুটা আশার আলো দেখা দিয়েছে তাদের মধ্যে। তবে এটা সামান্য ই বলা যায়। যদি সরকারি কোনো হাসপাতালের আইসিইউতে তাকে রেখে চিকিৎসা দেয়া হতো তাহলে তার পরিবার অনেকটা চিকিৎসার ব্যয় থেকে রেহাই পেত।

এই বিষয়ে মেসেঞ্জারের মাধ্যমে কথা হয় আমেরিকার হারডন ভার্জিনিয়ায় অবস্থারত মিনহাজ উদ্দিন শরীফ রাসেলের সঙ্গে। তিনি জানান,আহতদের চিকিৎসা সরকারিভাবে হবে এই ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী দেয়ার পরও সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত তার চিকিৎসার কোনো দায়ভার নেয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো মন্ত্রী এমপিরা তার চিকিৎসার খোঁজ খবর নিচ্ছেনা। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। একটি ছোটখাট চাকরি করতো সোহেল। তার পরিবারের আর্থিক অবস্থাও ভালো না। তবে আমরা প্রবাসী মিলে তার চিকিৎসার জন্য কিছু টাকা উত্তোলন করেছি। সেটা আজকালের মধ্যেই তার পরিবারের কাছে দেয়া হবে। অন্ততপক্ষে টাকার জন্য যাতে তার চিকিৎসা থেমে না থাকে সেই চেষ্টাই করে যাচ্ছি আমরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা